যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুক্তি বুঝতে পারলেও আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: কলিবফ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i158420-যুক্তরাষ্ট্র_ইরানের_যুক্তি_বুঝতে_পারলেও_আস্থা_অর্জনে_ব্যর্থ_হয়েছে_কলিবফ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুক্তি ও নীতিমালা বুঝতে পারলেও তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা নিয়ে এলেও অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ইরান ভবিষ্যতের জন্য ভালো প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।
(last modified 2026-04-12T10:56:02+00:00 )
এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৬:৪৬ Asia/Dhaka
  • মোহাম্মদ বাকের কলিবফ
    মোহাম্মদ বাকের কলিবফ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যুক্তি ও নীতিমালা বুঝতে পারলেও তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরান সদিচ্ছা নিয়ে এলেও অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ইরান ভবিষ্যতের জন্য ভালো প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে কলিবফ উল্লেখ করেন, ‘মিনাব ১৬৮’ নামক ইরানি প্রতিনিধিদল একাধিক অগ্রগামী ও গঠনমূলক উদ্যোগ উপস্থাপন করেছিল। তবে আলোচনার এই পর্ব শেষে বিপক্ষ দল ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

কলিবফ আরও লেখেন, “আমরা সদিচ্ছা ও ইচ্ছাশক্তির কথা আগেই জানিয়েছিলাম, কিন্তু পূর্ববর্তী দুটি যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আমাদের বিপক্ষ দলের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। আমেরিকা এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে তারা আমাদের আস্থা অর্জন করতে চায় কি না।”

তিনি বলেন, ইরান কূটনীতির পাশাপাশি প্রয়োজনে শক্তির পথও বিবেচনা করে এবং চল্লিশ দিনের জাতীয় প্রতিরক্ষার অর্জন সুসংহত রাখতে বদ্ধপরিকর।

অমীমাংসিত হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক ইস্যু

সদ্য সমাপ্ত আলোচনা প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানান, ইসলামাবাদে প্রায় ২৪ ঘণ্টা টানা আলোচনা গত এক বছরের মধ্যে ইরান-আমেরিকা আলোচনার মধ্যে দীর্ঘতম ছিল। তিনি বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালী ও আঞ্চলিক ইস্যুর মতো জটিল বিষয় যুক্ত হয়েছিল, যা স্বাভাবিকভাবে এত অল্প সময়ে সমাধান হওয়ার কথা ছিল না।

বাকায়ি বলেন, “আলোচনায় কিছু ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবে হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ আলোচনা ৪০ দিনের যুদ্ধ ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর অনুষ্ঠিত হয়েছে—এটি অবিশ্বাসের নয়, বরং সন্দেহ ও অস্বস্তির পরিবেশে হয়েছে।”

পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা

কলিবফ ও বাকায়ি উভয়েই আলোচনা প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কলিবফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাকায়ি বলেন, “কূটনীতির কখনো শেষ হয় না। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং পাকিস্তান ও অন্যান্য বন্ধু প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন দিন পর ইরানের আলোচক দল ইসলামাবাদে যায়। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি অনুসারে, ইরানের ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হলেও আস্থার সংকটই মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

পার্সটুডে/এমএআর/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।