বায়তুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের উদ্যোগ: মুসলিম-বিরোধী নয়া ষড়যন্ত্র
ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণমাধ্যম জানিয়েছে, বায়তুল মোকাদ্দাসে (জেরুজালেম) মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইসরাইলি দৈনিক লিখেছে , আমেরিকার নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরে রাজি হন তাহলে তা খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। কারণ দূতাবাস ভবনটি প্রস্তুত রয়েছে। এখন শুধু রাষ্ট্রদূতকে স্থান পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেই হবে।
বায়তুল মোকাদ্দাসের (জেরুজালেম) মেয়র নির বারাকাত বলেছেন, বায়তুল মোকাদ্দাসে বর্তমানে আমেরিকার যে কনস্যুলেট ভবন রয়েছে, সেটাকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং সেখানেই দূতাবাসের কার্যক্রম চালু করা হবে।আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় বহুবার বলেছেন, তিনি বিজয়ী হলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হবে। ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টাও বলেছেন, তেল আবিব থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিষয়টিকে ট্রাম্পের কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা এ ধরনের অবস্থান ঘোষণা করার পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইল নতুনকরে যে সম্প্রসারণকামী তৎপরতা শুরু করেছে, সেখানেও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের প্রভাব পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তরে বিভিন্ন দেশকে রাজি করানোর লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। কিন্তু বিশ্ব জনমতের বিষয়টি মাথায় রেখে ইউরোপীয় দেশগুলো দখলীকৃত এলাকায় দূতাবাস স্থানান্তরে এখনও বিরত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট যে, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল যৌথভাবে বায়তুল মোকাদ্দাসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
বর্ণবাদী ইসরাইল ১৯৪৮ সালের মে মাসের মাঝামাঝিতে বায়তুল মোকাদ্দাসের পশ্চিমাঞ্চল দখল করে নেয়। এরপর ১৯৬৭ সালের জুনের প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দাসের পূর্ব অংশের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে তারা। ইহুদিবাদী ইসরাইল সব সময় বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। এ কারণে তারা বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
১৯৮০ সালে ইসরাইলের সংসদ বায়তুল মোকাদ্দাসকে তাদের রাজধানী করে একটি বিল পাস করে এবং বিদেশি দূতাবাসগুলো বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরের জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়। এসব তৎপরতার পেছনে সব সময় আমেরিকার সবুজ সংকেত ছিল।
সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদে হামলার সময়ও উগ্র ইহুদিবাদীদের সঙ্গে দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান অংশ নিয়েছেন। যদিও জাতিসংঘের ২৪২ ও ৩৩৮ নম্বর ইশতেহার এবং চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনে বায়তুল মোকাদ্দাসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারি তৎপরতাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৭৮ নম্বর ইশতেহারেও বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে।
কিন্তু আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইল সব ধরনের ইশতেহার ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে বায়তুল মোকাদ্দাসকে নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আর এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলে ফিলিস্তিনি জনগণসহ গোটা বিশ্বেই প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/১৭