তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূত হত্যার পর আরো কঠোর অবস্থানে পুতিন
তুরস্কে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনেই রুশ রাষ্ট্রদূত হত্যার ঘটনায় সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সিরিয়ার সেনাবাহিনী আলেপ্পো শহর পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হওয়ায় তাকফিরি ও দায়েশ সন্ত্রাসীরা কী পরিমাণে ক্ষুব্ধ।
তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি কারলোভ গতকাল একটি চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর এ নিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে। এ হত্যার ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তুরস্ক সরকার অন্য দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এমন সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটল যখন তুরস্কের অতীত কিছু কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে রাশিয়া এখনো ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
এর আগে তুরস্কের সেনাবাহিনী রাশিয়ার একটি জঙ্গিবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে এর পাইলটকেও হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার পর সবসময়ই আশঙ্কা করা হচ্ছিল তুরস্কে রুশ নাগরিক ও তাদের স্বার্থ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। যাইহোক, এবারও তুরস্ক সরকার রাশিয়ার একজন শীর্ষ কূটনীতিকের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনা তুরস্কের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার আলেপ্পো শহর মুক্ত করার মাত্র কয়েকদিন পর আঙ্কারায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ঘটনা থেকে এ অঞ্চলে তৎপর তাকফিরি সন্ত্রাসীদের ক্ষোভ ও হতাশার প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ গত পাঁচ বছরে বিদেশি মদদপুষ্ট এসব সন্ত্রাসী সিরিয়ার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি এ উদ্দেশ্যে চার লাখ সাধারণ মানুষ হত্যা করতেও সন্ত্রাসীরা দ্বিধা করেনি। কিন্তু আলেপ্পো হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ায় এখন সন্ত্রাসী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। এ কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই আঙ্কারায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের ধারণা এভাবে হয়তো সিরিয়ার ব্যাপারে রাশিয়াকে পিছু হটতে বাধ্য করা যাবে।
গত বছর সিরিয়ার সেনাবাহিনী রাশিয়ার জঙ্গিবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পর রাশিয়া যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল তার আলোকে বলা যায় রাষ্ট্রদূত হত্যার পর নিঃসন্দেহে রাশিয়া তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরো বেশি কঠোর অবস্থানে চলে যাবে। রাষ্ট্রদূত হত্যার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তারা আরো ব্যাপক হামলা চালাবে এবং এর মাত্রা এতো ভয়াবহ হবে যে তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূত হত্যার পেছনে সন্ত্রাসীদের একটি অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, সিরিয়া সমস্যা সমাধানে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে তাকে বাধাগ্রস্ত করা। এ ছাড়া, সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মস্কোতে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রাক্কালে এ ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিশেষ বার্তা বহন করে। মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ওই তিনটি দেশের মধ্যে বিশেষ করে আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা নিরসনের যে কোনো উদ্যোগের বিরোধী। কারণ এর ফলে আমেরিকা ও ইউরোপ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে উৎখাতের যে ষড়যন্ত্র করছে তা ভেস্তে যাবে।
তুরস্কে রুশ রাষ্ট্রদূত নিহত হওয়ার পর সিরিয়ার শত্রুদের ধারণা এতে আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে। এর ফলে পাশ্চাত্য আবারো সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রদূত হত্যার পর দেখা গেছে সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে ঐক্য জোরদার হয়েছে। # পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২০