সিরিয়ায় মার্কিন হত্যাকাণ্ড: দামেস্কের কঠোর প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i34950-সিরিয়ায়_মার্কিন_হত্যাকাণ্ড_দামেস্কের_কঠোর_প্রতিক্রিয়া
সিরিয়া সেদেশে মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোটের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি একটি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় বহু লোক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া সরকার এ আহ্বান জানালো।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
মার্চ ২৩, ২০১৭ ১৩:২৫ Asia/Dhaka

সিরিয়া সেদেশে মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোটের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি একটি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় বহু লোক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া সরকার এ আহ্বান জানালো।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে পাঠানো আলাদা আলাদা বার্তায় ওই আহ্বান জানিয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোট রাকার একটি স্কুলে বোমাবর্ষণ করে গণহত্যা চালিয়েছে। ওই হামলায় এক নারী ও শিশুসহ ৩২  ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বহু বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং স্কুলটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

একদিকে আমেরিকা হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করছে অন্যদিকে দায়েশ ও আন্‌ নুসরার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিরীহ মানুষ হত্যা করে জনমনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমেরিকা ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতা একই ধরণের এবং তারা উভয়ে সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। আমেরিকা দায়েশ বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। অথচ সিরিয়ার সরকার হামলা চালানোর কোনো অনুমতি আমেরিকাকে দেয়নি। আর দামেস্কও এ ধরণের হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানায়নি।

সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তাদের কাজের সঙ্গে ওই দাবির কোনো মিল নেই। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করাই যে আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য সেটা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়েশ বিরোধী কথিত জোট গঠন করে সেদেশে হামলা চালানো শুরু করে। ওবামার নিয়ম ভাঙ্গার ওই খারাপ দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের মাত্রা আরো বেড়েছে। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে কোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করা হয়। তাই দায়েশকে অজুহাত করে সিরিয়ায় গণহত্যা চালিয়ে ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে নিজের অপরাধ আড়াল করতে পারবে না আমেরিকা।

মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বের মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা জোন গঠনের কথা বলছেন। অথচ এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছ, ওই দুটি দেশে আরো বেশি সামরিক হস্তক্ষেপ করা এবং সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতা করা যাতে করে সন্ত্রাসীদেরকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

দায়েশ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাই সন্ত্রাসীদেরকে রক্ষার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সিরিয়ার স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে বর্বরোচিতভাবে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আমেরিকা সন্ত্রাসীদেরকে শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ দিচ্ছে। # 

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৩