সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা
সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আমেরিকা। কোনো ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া গত মঙ্গলবার ইদলিবে চালানো রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আসাদ সরকারকে দায়ী করে এ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আজ (শুক্রবার) ভোরে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের আশ-শাইরাত বিমান ঘাঁটির কয়েকটি অবস্থানে প্রায় ৬০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আজ রাতে আমি সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটিতে সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। ওই ঘাঁটি থেকে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছিল।”
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ইএসএস রোজ ও ইউএসএস পোর্টার থেকে সিরিয়ার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
পেন্টাগনের মুখপাত্র জেফ ডেভিস সাংবাদিকদের বলেছেন, সিরিয়ার বিমান ঘাঁটিটির জঙ্গিবিমান, বিমান রাখার স্থান, জ্বালানী ও রসদের ভাণ্ডার, সমরাস্ত্র সরবরাহ বাঙ্কার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সিরিয়ার একটি সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
ইদলিব প্রদেশের খান শাইখুন শহরে মঙ্গলবারের রাসায়নিক হামলায় অন্তত ৮০ জনের মৃত্যুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার এ হামলার জন্য বাশার আল-আসাদ সরকারকে দায়ী করেন। এর একদিন পর যুক্তরাষ্ট্র সময় বৃহস্পতিবারই তিনি সিরিয়ায় হামলা চালানোর নির্দেশ দেন যা সিরিয়া সময় ভোররাতে বাস্তবায়িত হয়।
সিরিয়ায় তৎপর উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীর পাশাপাশি আমেরিকা ও তার মিত্ররা ওই রাসায়নিক হামলার জন্য দামেস্ককে দায়ী করলেও সিরিয়া সরকার বলেছে, দেশটি কখনো কারো ওপর রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও চালাবে না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৭