সৌদি আরবের সৃষ্ট উত্তেজনা থেকে ফায়দা লুটছে আমেরিকা
কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ চারটি আরব দেশের সম্পর্ক ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন মার্কিন সরকার দোহার কাছে ১,২০০ কোটি ডলার মূল্যের ৩৬টি এফ-১৫ জঙ্গিবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়াশিংটন এমন সময় এ সিদ্ধান্ত নিল যখন কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কে সৃষ্ট উত্তেজনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদের পক্ষ নিয়ে এক টুইটার বার্তায় কাতারকে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন সরকার কাতারের কাছে জঙ্গিবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে সৃষ্ট সংকটে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। সেই সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রিয়াদ সফরের সময় সৌদি আরব আমেরিকার কাছ থেকে ১১,০০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র কেনার চুক্তি করার পর এবার কাতারও ১,২০০ কোটি ডলারের জঙ্গিবিমান কিনে মার্কিন অস্ত্রবাজারের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখল।
প্রখ্যাত ধনকুবের ও ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে মার্কিন সরকার দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে কিংবা পুরনো উত্তেজনাকে চাঙ্গা করে দিয়েই নিজের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
উদাহরণস্বরূপ, কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং এর পরপরই থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১০০ কোটি ডলার ভাড়া চেয়েছেন। এরপর তিনি সৌদি আরব সফরে গিয়ে ইরানকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরে সৌদি আরবের কাছে ১১,০০০ কোটি ডলারের অস্ত্রসহ ৩৮,০০০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রির চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপ সফরে গিয়েও সেখানে বিদ্যমান রুশ বিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করে দিয়ে সামরিক বাজেট আদায়ের জন্য ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কাতারের পালা। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ শোনার পর দোহাকে এবার ওয়াশিংটনের মন গলানোর জন্য ১,২০০ কোটি ডলার অর্থ মার্কিন অস্ত্রশিল্পের একাউন্টে জমা দিতে হবে।
ধারণা করা যায়, এর মাধ্যমে সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে যার পরিণতিতে মার্কিন অস্ত্রশিল্প চাঙ্গা এবং আমেরিকার তরুণদের আরো বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংকট তৈরি করে আমেরিকার অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি কিংবা অস্থিতিশীলতা বেড়ে গেলেও তাতে আমেরিকার কিছু এসে যায় না।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৭