সামরিক কৌশলে ব্যর্থ হয়ে পাশ্চাত্য এখন সিরিয়ার অর্থনীতিকে টার্গেট করেছে
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i43010-সামরিক_কৌশলে_ব্যর্থ_হয়ে_পাশ্চাত্য_এখন_সিরিয়ার_অর্থনীতিকে_টার্গেট_করেছে
জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফারি তার দেশের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটিতে মানবিক ত্রাণ তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশ মিলে সিরিয়ার ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞার আরোপ করেছে। এরফলে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুত ও শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুলাই ২৮, ২০১৭ ১২:৫৮ Asia/Dhaka

জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফারি তার দেশের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটিতে মানবিক ত্রাণ তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশ মিলে সিরিয়ার ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞার আরোপ করেছে। এরফলে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পানি, বিদ্যুত ও শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সিরিয়ার বৈধ প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতন ঘটানোর জন্য সৌদি আরব, আমেরিকা ও তাদের অন্য মিত্র দেশের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় হামলা শুরু করে। আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামরিক ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি সিরিয়া বর্তমানে পাশ্চাত্যের সরকারগুলোর অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রেরও শিকারে পরিণত হয়েছে। পাশ্চাত্যের বলদর্পী বৃহৎ শক্তিগুলোর কাছে নতি শিকারে বাধ্য করার জন্যই সিরিয়ার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র চলছে।

মার্কিন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও ফরেন পলিসি জার্নাল সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা জেরমি হ্যামন্ড মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিদ্বেষী নীতির পরিণতির ব্যাপারে বলেছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ ও যুদ্ধকামী তৎপরতার পরিণতি অত্যন্ত বিপদজনক এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সাংবাদিক প্যাট্রিক ভিনটোর এ ব্যাপারে বলেছেন, পাশ্চাত্য সামরিক উপায়ে সিরিয়াকে বাগে আনতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি সিরিয়ার সহযোগী দেশগুলোর ওপরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পাশ্চাত্য।

সিরিয়াসহ যে কোনো বিরোধী দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার আসাদ সরকারের উৎখাতের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সামরিক কায়দায় উৎখাতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তাদের ধারণা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া সংকটের শুরু থেকেই আমেরিকার আচরণে প্রমাণিত হয়েছে, তারা মূলত ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে নির্মূল করতে চায়। এ অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে সিরিয়া প্রথম কাতারে থাকায় এ দেশটি একের পর এক পাশ্চাত্যের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা সিরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে এবং সেদেশের জনগণের প্রতি লোকদেখানো সমর্থন জানিয়ে আসলে জনমতকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এসবের আড়ালে তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে।

যাইহোক, পাশ্চাত্য এমন সময় সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যখন আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিরিয়া বিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলনে দেশটির বর্তমান দুঃখজনক পরিস্থিতির জন্য আহাযারি করছে। #   

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৮