শিয়া মুসলিম এলাকার ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার
সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলীয় আওয়ামিয়ে এলাকার শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত আল-মাসওয়ারে এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় গণমাধ্যম ও গণসংযোগ দফতরের মহাসচিব মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল সাফিয়ান জানিয়েছেন, ওই এলাকার ৪৮৮টি বাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
ওই এলাকার হতভাগ্য মানুষজন বর্তমানে প্রচণ্ড রোদে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছে। সৌদি সরকার দাবি করেছে আল-মাসওয়ারে এলাকায় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ওই বাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বিশ্বজনমতকে ধোঁকা দেয়ার জন্য সৌদি আরব এমন সময় এ মিথ্যা দাবি করল যখন উপগ্রহের মাধ্যমে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শিয়া মুসলমানদের বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ওই এলাকার মানুষ নিজ দেশেই গৃহহারা শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় এবং এদের বেশিরভাগই আশ্ শারকিয়ে প্রদেশের অধিবাসী। সম্পদ ও নাগরিক সুযোগ সুবিধায় বৈষম্য এবং অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলের জনগণ ২০১১ সাল থেকে আলে সৌদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। প্রতিবাদকারীরা সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি, বাক স্বাধীনতা ও সমাবেশ করার অধিকার দেয়া এবং বিরাজমান সীমাহীন বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে আসছে।
কিন্তু সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অমানবিক আচরণ থেকে এই সরকারের মানবতা বিরোধী চরিত্রের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সৌদি সরকারের পোড়ামাটি নীতি থেকে তাদের অমানবিক চরিত্রের বিষয়টি সবার সামনে ধরা পড়েছে। সৌদি সরকার অন্যায়ভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আওয়ামিয়ে এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে সরকার শিয়া অধ্যুষিত এলাকার জনসংখ্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাতে সবাই চিন্তিত।
এদিকে, আমেরিকা সৌদি আরবের মতো স্বৈরাচারী দেশগুলোর প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উগ্রবাদ ও অপরাধযজ্ঞ ভয়াবহ বিস্তার লাভ করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর নিজ দেশের শিয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের দমনপীড়ন ও হত্যা নির্যাতন বহুগুণে বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, দেশটির ক্ষমতায় পরিবর্তন আসার পরও তাদের স্বৈরাচারী ও আধিপত্যকামী নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। যদিও সৌদি আরবের সব নাগরিকই জুলুম নির্যাতনের শিকার কিন্তু দেশটির শিয়া সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার কারণে সৌদি সরকার শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়কে দেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। এ কারণে শিয়ারা প্রাথমিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং ব্যাপকভাবে বৈষম্যের শিকার।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সমর্থনে সৌদি আরব আবারো জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে আরো বেশি বেপরোয়া করে তুলবে। শিয়া অধ্যুষিত এলাকার ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার ঘটনাই এর প্রমাণ। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৫