কুর্দিস্তান সংলগ্ন সব স্থলপথ বন্ধ করে দিতে ইরাকের আহ্বান
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাগদাদে অবস্থিত ইরান ও তুরস্কের দূতাবাসে পাঠানো চিঠিতে সেদেশের আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তান এলাকা সংলগ্ন আসা-যাওয়ার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ করেছে।
ইরাক থেকে কুর্দিস্তানকে আলাদা করার জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির উদ্যোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বেআইনিভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্বশাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এখন থেকে কুর্দিস্তান সীমান্তে বাণিজ্যসহ যে কোনো তৎপরতা চালাতে হলে শুধুমাত্র বাগদাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরান ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ইরাক সরকার কুর্দিস্তানগামী সমস্ত ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইরান ও তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এরপর থেকে কুর্দিস্তান এলাকা আকাশ পথে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এদিকে, ইরান ও তুরস্ক কুর্দিস্তান সংলগ্ন সব স্থলপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এসব কঠোরতা ও বিধিনিষেধের কারণে এরই মধ্যে ইরাকের কুর্দিস্তানে পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অনেক কমে গেছে।
ইরাক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের পরপরই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রতিবেশী দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয় এবং কুর্দিস্তানের বিরুদ্ধে একের পর এক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে। ফলে কুর্দিস্তান কার্যত ভৌগোলিক দিক থেকে পুরোপুরি একঘরে হয়ে পড়েছে। কুর্দিস্তানের কোনো সমুদ্র সীমানা নেই আবার ইরাক, তুরস্ক, সিরিয়া ও ইরানের মাধ্যমে স্থলপথে অবরুদ্ধ থাকায় ইরাক থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতা তাদের জন্য আত্মহত্যার শামিল।
ভৌগোলিক দিক থেকে অবরুদ্ধ থাকার কারণে অর্থনৈতিক দিক থেকে কুর্দিস্তান কোনো সুবিধা করতে পারবে না। কারণ তাদের আয়ের প্রধান উৎসই হচ্ছে তেল বিক্রি এবং এর জন্য স্থলপথের প্রয়োজন রয়েছে। কুর্দিস্তান প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে থাকে। এ অবস্থায় যদি স্থলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে কুর্দিস্তান কঠিন সংকটে পড়বে। তাই কুর্দিস্তানের ইরাক থেকে আলাদা হয়ে যাওয়াটা অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। ইরাকের কর্মকর্তারা বহুবার বলেছেন, "কুর্দিস্তানের বিরুদ্ধে তারা যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তার উদ্দেশ্য সেখানকার জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা নয়।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, কুর্দিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইরাক সরকার ইরান ও তুরস্কের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছে তা কুর্দি কর্মকর্তাদেরকে এ বার্তা দিচ্ছে যে, একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের কারণে তাদেরকে কেবল কোণঠাসা হয়ে থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোও কুর্দিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় এর ফলে বিচ্ছিন্নতাকামী কুর্দি নেতৃবৃন্দকে চরম মূল্য দিতে হবে।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৯