স্বেচ্ছায় নয়, চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন হারিরি: হিজবুল্লাহ মহাসচিব
-
হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি নিজের ইচ্ছায় বরং তিনি চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে হারিরি চাপের মুখে ছিলেন।
সৌদি আরব থেকে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে শনিবার সাদ হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। এরপর রোববার হিজবুল্লাহ মহাসচিব হাসান নাসরুল্লাহ এ বক্তব্য দিলেন। সাদ হারিরি পদত্যাগের ঘোষণায় নিজের জীবন নিয়ে শংকা ব্যক্ত করেন এবং লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়সহ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে হস্তক্ষেপের জন্য ইরান ও হিবুল্লাহকে দায়ী করেন।
হাসান নাসরুল্লাহ তার ভাষণে উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবে কয়েক দফা সফরের পর হারিরি পদত্যাগ করেন। তার লিখিত বক্তব্য ও পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার স্টাইল পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে, এ বক্তব্য তার নিজের নয় বরং সৌদি আরবের লিখে দেয়া বক্তব্য লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, “এ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, লেবাননের কেউ জানেন না সাদ হারিরির পদত্যাগের আসল কারণ বরং বিষয়টিতে সবাই অবাক হয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু লোকের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন কিন্তু এই মন্তব্যও সঠিক নয়। এ ঘটনার পেছনের আসল কারণ সৌদি আরবকেই বলতে হবে।”
হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, “সৌদি আরবের ক্ষমতার লড়াইয়ের ফল হতে পারে সাদ হারিরির পদত্যাগ এবং বাস্তবতা হচ্ছে সাদ হারিরির কাজকর্মে সৌদি আরব খুশি ছিল না। ফলে তার জায়গায় রিয়াদ অন্য কাউকে দেখতে চায়। অন্য কাউকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর জন্য সৌদি আরব এ পরিকল্পনা করেছে। এটাও সম্ভব যে, তারা লেবাননের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায় এমনকি, ইয়েমেনের মতো লোবননের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে চায়।”
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সাদ হারিরির পদত্যাগের বিষয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রকৃত তথ্য বের হচ্ছে ততক্ষণ সবাইকে শান্ত থাকার জন্য হিজবুল্লাহ আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, লেবাননে শান্তিপূর্ণ জীবন চায় হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের নাগরিকদের সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হিজবুল্লাহ এসব বিষয়ে পুরোপুরি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। অনাহুত এই সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে দেশের বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননের সব রাজনৈতিক সংগঠনকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে যা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করে হিজবুল্লাহ তার কার্যক্রমে পরিবর্তন আনবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরনো দিনের মতো রাস্তায় মিছিল সমাবেশ করলে তাতেও সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এবং সংসদ স্পিকার নাবি বেরি কোনো সমস্যা ছাড়াই তাদের কাজকর্ম চালিয়ে নিচ্ছেন এবং সৌদি আরব থেকে হারিরির ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন। অবশ্য সৌদি আরব তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দিলেই কেবল তিনি ফিরতে পারবেন।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, লেবাননের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার ফল লেবাননের কোনো নাগরিকের জন্য শুভ হবে না বরং তাতে ষড়যন্ত্রকারীরাই লাভবান হবে। সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সৌদি আরবের গণমাধ্যম আল-আরাবিয়া টিভি চ্যানেল হারিরির জীবননাশের আশংকা খবর পায় অথচ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।
হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, সৌদি আরব ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে লেবাননে যুদ্ধ শুরু করা সম্ভব হবে না কারণ তাদের কোনো ভৌগোলিক প্রবেশাধিকার লেবাননে নেই। তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবের কিছু করার ক্ষমতা থাকলে তারা ইয়েমেনেই করতে পারত; কিন্তু তারা তা পারে নি বরং চোরাবালিতে আটকা পড়েছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৬