রিয়াদের সন্ত্রাস বিরোধী বৈঠকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধার ছবি, তীব্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i49007-রিয়াদের_সন্ত্রাস_বিরোধী_বৈঠকে_ফিলিস্তিনি_যোদ্ধার_ছবি_তীব্র_প্রতিক্রিয়া
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪১টি মুসলিম দেশের কথিত সন্ত্রাস বিরোধী বৈঠকে প্রদর্শিত একটি ভিডিওতে জঙ্গি তৎপরতা দেখাতে গিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইরত একজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধার ছবি দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বহু মুসলিম নাগরিক।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
নভেম্বর ২৮, ২০১৭ ০৭:৫২ Asia/Dhaka
  • রিয়াদ বৈঠকে প্রদর্শিত ভিডিওতে একজন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধােক দখলদার ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে
    রিয়াদ বৈঠকে প্রদর্শিত ভিডিওতে একজন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধােক দখলদার ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪১টি মুসলিম দেশের কথিত সন্ত্রাস বিরোধী বৈঠকে প্রদর্শিত একটি ভিডিওতে জঙ্গি তৎপরতা দেখাতে গিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইরত একজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধার ছবি দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বহু মুসলিম নাগরিক।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাস বিরোধী জোটের প্রথম বৈঠক গতকাল (সোমবার) রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয় যাতে ৪১টি মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।  

ওই বৈঠকে ভিডিও ক্লিপটি প্রদর্শনের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এ ঘটনাকে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।

এক ব্যক্তি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “রিয়াদ বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যে ভিডিওটি দেখানো হয়েছে তা ২০০১ সালের একটি ঘটনার। এখানে একজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধা অধিকৃত জেরুজালেম আল-কুদস শহরের দক্ষিণে দখলদার সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। যারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নর্তন কুর্দন করছেন তাদেরকে বলতে চাই, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম কখনো সন্ত্রাসবাদ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও একে সন্ত্রাসবাদ বলা যাবে না।”

জার্মানিস্থ সৌদি দূতাবাসের দেয়ালে একটি ছবি লাগিয়ে দিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা যেখানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে নাৎসী নেতা হিটলারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে

আরেক ব্যক্তি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন “এটি হচ্ছে প্রতিরোধ আন্দোলন যা সর্বোচ্চ সম্মান ও গৌরবের বিষয় যা আপনাদের নেই। পক্ষান্তরে আপনারা আপনাদের জনগণের ওপর দশকের পর দশক ধরে যে নির্যাতন চালাচ্ছেন সেটিই হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ।”

তিনি আরো লিখেছেন, “আপনারা সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে কি বলছেন সাধারণ মানুষের কাছে তার কোনো গুরুত্ব নেই। যারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে তারা সবাই সন্ত্রাসী। আপনাদের চেয়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা অনেক বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্য।”

এমন সময় রিয়াদের সন্ত্রাস বিরোধী বৈঠকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর লক্ষ্যে সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপন করেছে বলে খবর বের হয়েছে।

গত ১৪ নভেম্বর লেবাননের দৈনিক ‘আল-আখবার’ সৌদি যুবজার মোহাম্মাদ বিন সালমানকে লেখা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়েরের একটি গোপন চিঠির বিবরণ প্রকাশ করে। ওই চিঠিতে জনরোষ ফুঁসে ওঠার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

চিঠির একাংশে বলা হয়, “আমি আপনার কাছে (সৌদি) রাজতন্ত্রের সঙ্গে ইসরাইল রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থাপনের পরিকল্পনার খসড়া পেশ করছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক স্থাপিত হবে এবং বিষয়টি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। ”

জুবায়ের এমন সময় ইসরাইলকে ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করলেন যখন আরব লীগের অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবৈধ ও দখলদার শক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। #

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮