দ্রুত সেনা সরিয়ে নিন: আমেরিকা ও তুরস্ককে সিরিয়া
-
বাশার আল-জাফারি
জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার আল-জাফারি বলেছেন, সিরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন ও তুর্কি সেনাদেরকে অবশ্যই দ্রুত সিরিয়া থেকে চলে যেতে হবে। কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় নতুন শান্তি আলোচনায় তিনি একথা বলেছেন।
গত ১৩ অক্টোবর ১২টি সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযানের জন্য তুরস্কের একটি সেনাবহর সিরিয়ায় ঢোকে। ওই বহরে অন্তত ৮০ জন সেনা রয়েছে বলে তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, তুরস্কের এসব সেনা আলেপ্পো প্রদেশের পশ্চিম অংশের দিকে গেছে।
তুরস্ক যখন দাবি করছে, ইদলিব প্রদেশে যুদ্ধবিরতি অঞ্চল কার্যকর করার জন্য তারা সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়েছে তখন বাশার আল-জাফারি সেসব সেনা প্রত্যাহার করার দাবি জানালেন। ইদলিব প্রদেশের একটা বিরাট অংশ উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকফিরি হায়াত তাহরির আশ-শামের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কাজখাস্তানের রাজধানী আস্তানায় সিরিয়া বিষয়ক যে শান্তি আলোচনা হয়ে আসছে তার অন্যতম অংশীদার হচ্ছে তুরস্ক। শান্তি আলোচনায় ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং এ তিন দেশের প্রচেষ্টায় সিরিয়ায় অন্তত চারটি যুদ্ধবিরতি অঞ্চল বা নিরাপদ অঞ্চল গঠন করা গেছে।
এদিকে, আস্তানায় দু দিনের আলোচন শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান, তুরস্ক, রাশিয়া ও সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিরিয়ার বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা কষ্ণসাগর তীরবর্তী সোচি শহরে একটি শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন। সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে এ সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে- আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং সিরিয়ার সব পক্ষের প্রতিনিধি তাতে যোগ দেবেন। সোচি শহরে এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে মধ্যস্থতাকারী তিন দেশ ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া বিশেষ প্রস্তুতি নেবে।
এর আগে গত সপ্তাহে জেনেভায় সিরিয়া বিষয়ক অষ্টম দফা বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি স্ট্যাফান ডি মিস্তুরা একে ‘সুযোগ হাতছাড়া’ বলে মন্তব্য করেছেন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে বলে বিরোধী পক্ষের অনেকটা একগুঁয়ে অবস্থানের কারণে জেনেভা আলোচনা সফল হতে পারছে না।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/২২