সিরিয়া ইস্যুতে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের বৈঠক: থেমে নেই আমেরিকার ষড়যন্ত্র
সিরিয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থানে এসে ঠেকেছে। রাশিয়ার সোচিতে সমঝোতা অনুযায়ী সিরিয়ায় জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছর নভেম্বর এই তিন দেশের মধ্যে ওই সমঝোতা হয়েছিল।
ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন জাবেরি আনসারি রুশ প্রেসিডেন্টের সিরিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি আলেক্সান্ডার লভরেন্তিভ এবং তুরস্কের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাদাত ওনাল সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি সোচিতে সিরিয়ানদের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য যখন ব্যাপক আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে তখন কোনো কোনো মহলের কার্যক্রম বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগে আমেরিকা ঘোষণা করেছে, তারা কুর্দিদের সহায়তার জন্য সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন রাখবে। আমেরিকার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুরস্ক কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তুরস্ক গত শনিবার বিকাল থেকে সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি গেরিলা পিপল'স প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি'র বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ায় আমেরিকার দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড শান্তি প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেবে কারণ কুর্দিরাও ওই শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ। ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন জাবেরি আনসারি বলেছেন, সিরিয়ায় আমেরিকার সামরিক তৎপরতা সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে। এদিকে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের কমান্ডার কর্ণেল টমাস উইল বলেছেন, "তারা সিরিয়া সীমান্ত ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করবে।' পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা এমন সময় এ ঘোষণা দিল যখন দায়েশ বিরোধী যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। সেনা মোতায়েনের এ ঘোষণার অর্থ হচ্ছে, সিরিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা।
পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক্সি ম্যাক করকিন মনে করেন, "এটা মেনে নিতে হবে যে, মস্কো সিরিয়া সংকট সমাধানের কৃতিত্ব ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পুরোপুরি নিয়ে নিয়েছে। অবশ্য সিরিয়ায় আমেরিকার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার অর্থ এ নয় যে, সিরিয়া সংকটের অবসান হবে না।"
অতীতের ঘটনাবলীর দিকে নজর দিলে দেখা যায় আমেরিকা বহু বছর ধরে সিরিয়ার বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। তাই দায়েশ পরবর্তী সিরিয়াতে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সরানোর নীতি থেকে আমেরিকা এতো সহজে সরে আসবে বলে মনে হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে তাদের ওই পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য সিরিয়ায় তাদের সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত করা যাতে সিরিয়রা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করতে পারে।
যাইহোক, বর্তমানে আমেরিকা সিরিয়ায় রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা থেকে ইরান ও রাশিয়াকে বের করে দিতে চায় যাতে ইসরাইল ও সৌদি আরবের পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়ন করা যায়। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২