"সিরিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাব সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে না"
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i53577-সিরিয়া_ইস্যুতে_জাতিসংঘে_গৃহীত_প্রস্তাব_সংকটের_স্থায়ী_সমাধান_করবে_না
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সিরিয়া বিষয়ে ২৪০১ নম্বর প্রস্তাব পাস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য কুয়েত ও সুইডেন সরকার সিরিয়া বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ ১৫:২৭ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে সিরিয়া বিষয়ে ২৪০১ নম্বর প্রস্তাব পাস হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য কুয়েত ও সুইডেন সরকার সিরিয়া বিষয়ে খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী সিরিয়ায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয় যাতে রাজধানী দামেস্কের কাছে পূর্ব গৌতা এলাকায় সংঘর্ষে আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের কাছে ত্রাণ ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া যায়। গত রবিবার থেকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী পূর্ব গৌতা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এবং তখন থেকেই পাশ্চাত্য সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত তারা সিরিয়া ইস্যুতে গত সাত বছরের মতো এবারও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধের জেরে দুই বার ভোটাভুটি পিছিয়ে দিতে হয়েছিল।

খসড়া প্রস্তাবে পরিবর্তন আনার জন্য রাশিয়ার জোর দাবির কারণে ভোটাভুটি পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা, জাবহাতুন নুসরা ও দায়েশকে এই যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে না। তবে পাশ্চাত্য সিরিয়া বিষয়ে নতুন প্রস্তাব পাস করে বর্তমান পরিস্থিতিকে আস্তানা বৈঠকের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, "পূর্ব গৌতার সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে সিরিয়া সংকট সমাধানে আস্তানা বৈঠকের ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে।" 

তবে পর্যবেক্ষকরা নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা, জাবহাতুন নুসরা ও দায়েশকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখার পদক্ষেপকে আস্তানা বৈঠকের সাফল্য বলে মনে করছেন। এর আগে আস্তানা বৈঠক সিরিয়ায় উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় এবং এ ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইরানের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তাদের মতে, ২৪০১ নম্বর প্রস্তাব পাসের ফলে ৩০ দিনের কম সময়ের মধ্যে মানবিক ত্রাণ সাহায্য হয়তো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় পৌঁছে যাবে কিন্তু এটা সিরিয়া সমস্যা সমাধানে যেমন খুব একটা ভূমিকা রাখবে না তেমনি নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতাও ফুটে উঠবে। কারণ পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সিরিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোল্লায মিকদাদ বলেছেন, সেদেশের সেনাবাহিনী পূর্ব গৌতায় সামরিক অভিযান শুরুর আগে সন্ত্রাসীদেরকে ওই এলাকা ত্যাগ করে উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পোর একটি স্থানে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সন্ত্রাসীরা সে প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এ কারণেই জাতিসংঘে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মানসুর আইয়াদ আল আতাইবি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব সিরিয়া সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান দেবে না।#      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৫