তীব্র পরিচিতি সংকটে রিয়াদ: মুসলিম দেশগুলো নয়, ইসরাইলই সৌদির প্রধান বন্ধু
সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে এনে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পদক্ষেপ নেয়ায় রিয়াদ মারাত্মকভাবে পরিচিতি সংকটে পড়েছে।
কাতারের দৈনিক আশ্ শারক লিখেছে, "সৌদি সরকার কাতারে দুগ্ধজাতসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে ইসরাইলের বাজার ধরার চেষ্টা করছে।" মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে আনা কিংবা ছিন্ন করার পর দখলদার ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ গত তিন বছরে সৌদি আরবের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পর্যালোচনা করে লিখেছে, সৌদি আরব হচ্ছে ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু।"
কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ইসরাইল ব্যাপক খুশী হয়েছিল। যদিও ইসরাইলের সঙ্গে কাতারের গোপন সম্পর্ক বজায় ছিল কিন্তু তারপরও দোহা মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের আশ্রয়দাতা ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া, ইরানের সঙ্গে কাতারের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা সৃষ্টির পর ইসরাইল প্রকাশ্যেই রিয়াদের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং আলে সানির মোকাবেলায় আলে সৌদের প্রতি সমর্থন জানায়। তেলআবিবের এ পদক্ষেপ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে সৌদি আরবকে উৎসাহিত করেছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, কাতার ও তুরস্কের মোকাবেলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এ অঞ্চলে মিত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন এবং ইসরাইল তাদের ভালো বন্ধু বলে তিনি মনে করছেন।
প্রকৃতপক্ষে, দখলদার ইসরাইল বহুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরান ও সৌদি আরব এবং কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে ইসরাইলি ষড়যন্ত্র। কারণ তেলআবিব ভালো করেই জানে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যে কোনো উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত ইসরাইলের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করবে। রিয়াদ ও দোহার মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় সৌদি কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর সুযোগ নিচ্ছে ইসরাইল। সৌদি পণ্য রপ্তানির সুযোগ করে দিয়ে ইসরাইল সৌদি আরবের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চাইছে।

কাতারের দৈনিক আশ্ শারক লিখেছে, সৌদি আরবের 'আল-মারাঈ' কোম্পানি কাতারে দৈনিক ৪৫০ টন দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানি করত। কিন্তু এখন ওই কোম্পানির পণ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এ কারণে ওই কোম্পানি নতুন বাজার ধরার জন্য ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এতে করে সৌদি কোম্পানিগুলো কিংবা সরকার হয়তো সাময়িকভাবে লাভবান হবে কিন্তু সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ইসরাইল। তাদের মতে, সৌদি-ইসরাইল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক পরবর্তীতে আরো ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কে রূপ নেবে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধের সুযোগ নিয়ে ইসরাইল এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।
যাইহোক, সৌদি রাজা সালমান বর্তমানে ইসরাইলি ফাঁদে পা দিয়েছেন। অচিরেই আলে সৌদের পরিচিতি সংকট আরো প্রকাশ্যে আসবে। কারণ অভিন্ন ধর্মীয় ও ভাষার বন্ধন থাকা সত্বেও সৌদি আরব মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার পরিবর্তে মুসলমানের প্রধান শত্রু ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পদক্ষেপ নেয়ায় এরই মধ্যে দেশটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭