ইরাকে বিক্ষোভ ও সহিংসতা অভ্যন্তরীণ সংকট নাকি বাইরের ষড়যন্ত্র?
(last modified Fri, 04 Oct 2019 12:49:13 GMT )
অক্টোবর ০৪, ২০১৯ ১৮:৪৯ Asia/Dhaka
  • ইরাকে বিক্ষোভ ও সহিংসতা অভ্যন্তরীণ সংকট নাকি বাইরের ষড়যন্ত্র?

ইরাকে গত কয়েকদিন ধরে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অনুপযুক্ত সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জনগণ বিক্ষোভ করে আসছে। তাদের দাবি-দাওয়া ন্যায্য হলেও বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এরই মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদি আব্দুল মাহদি ঘরবাড়ি ও জানমাল রক্ষার জন্য রাজধানী বাগদাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরাকে গত কয়েক দিনের সহিংস ঘটনা ও বিভিন্ন আলামত  থেকে বোঝা যায়, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। প্রথমত, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরাকি জনগণের বিক্ষোভের যেসব চিত্র প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে অনেকগুলোই বাস্তবতা বিবর্জিত এবং সন্দেহজনক। অর্থাৎ কোনো একটি মহল ন্যায্য দাবি আদায়ে জনগণের বিক্ষোভকে অপব্যবহার করছে। কেননা বিক্ষোভকারীদের কারো কারো হাতে ইরাকের প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার দেখা গেছে। অথচ ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতারা অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তাদের গঠনমূলক পদক্ষেপের প্রতি জনগণের সমর্থন রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আয়াতুল্লা সিসতানির নির্দেশে ২০১৪ সালে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য গণবাহিনী গঠন করার কথা উল্লেখ করা যায়। অন্যদিকে ইরাকের বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া মুসলমানদের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরাকে খুব শিগগিরি ইমাম হোসেন(আ.)এর শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী বা আরবাইন পালিত হবে। ধারনা করা হচ্ছে,  আরবাইনের শোক মিছিলকে টার্গেট করে বিক্ষোভে উস্কানি দেয়া হয়েছে। প্রথম টার্গেট হচ্ছে, আরবাইনে যেন ব্যাপক আকারে শোক শোভাযাত্রায় কেউ যোগ না দেয় এবং দ্বিতীয় টার্গেট হচ্ছে ইরানিরা যাতে ব্যাপকহারে আরবাইনের শোক শোভাযাত্রায় যোগ দিতে না পারে। এমনকি সম্প্রতি যে বিক্ষোভ ও সহিংসতা হয়েছে তাতে ইরান বিরোধী শ্লোগান দিতে দেখা গেছে। 

ইরাক বিরোধী ষড়যন্ত্রের তৃতীয়ত বিষয়টি হচ্ছে, সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি যোদ্ধাদের বিজয় ও ইসরাইলি মন্ত্রীসভা গঠনে অচলাবস্থা চলার একই সময়ে ইরাকে বিক্ষোভ ও সহিংসতা দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে ইরাক সরকার স্বাধীন নীতি মেনে চলে এবং তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আগ্রাসন এবং দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে, ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ্‌ শাবির ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এসব কারণে ইরাক এখন বিদেশিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ওই টার্গেটের সঙ্গে ইরাকের বর্তমান বিক্ষোভের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে যেখানে ইরাকের ধর্মীয় নেতা ও ইরান বিরোধী শ্লোগান দেয়া হয়েছে।           

ইরাক বিরোধী ষড়যন্ত্রের চতুর্থ দিকটি হচ্ছে, হাশদ আশ্‌ শাবির ঘাঁটিতে বোমা হামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ওই হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করার একই সময়ে ইরাকে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। পাশ্চাত্যের মিডিয়াগুলোও সরব হয়ে উঠেছে এবং বিক্ষোভকে জনপ্রিয় হাশদ আশ শাবির বিরুদ্ধে দেখানোর চেষ্টা করছে। ফলে বোঝাই যায় ইরাকে যে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তা শত্রুদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। যার লক্ষ্য ইরাকের সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশেষ করে হাশদ আশ্‌ শাবিকে দুর্বল করা।

পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে, ইরাকের এ বিক্ষোভের প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দামে অনুগতদের সমর্থন রয়েছে। সাদ্দামের মেয়ে রাগাদ সাদ্দাম এক টুইট বার্তায় বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইরাকে যে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও দুর্নীতি নেই সেটা বলা যাবে না। কিন্তু সম্প্রতি যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং পাশ্চাত্য মিডিয়া এটাকে যেভাবে ব্যবহার করছে তাতে ইরাকিদেরকে অবশ্যই শত্রুর ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধির ব্যাপারে সতর্ক থাকত হবে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪

ট্যাগ