সৌদি আরবে বিচারের মুখে হামাস প্রতিনিধি
-
অসুস্থ আল-খুদারিকে আটকের দৃশ্য
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাভিত্তিক ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিককে বিচারের মুখোমুখি করেছে সৌদি সরকার। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার পর থেকে হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন মনে করছে রিয়াদ।
আরবি প্রেসের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, ৬৮ জন ফিলিস্তিনি এবং জর্দানের নাগরিককে সৌদি স্পেশাল টেরোরিজম কোর্টে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত রোববার থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রতিনিধি ছাড়াই ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিচার কাজ শুরু করেছে সৌদি আরব। গত বছরের এপ্রিল মাসে সৌদি গুপ্ত পুলিশ বাহিনী এসব ফিলিস্তিনিকে আটক করেছিল।
বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ বছর বয়সী ডাক্তার মোহাম্মদ আল- খুদারি রয়েছেন যিনি বহুদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে কোলন ক্যান্সারে ভুগছেন। আল-খুদারির ছেলে এবং সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক অধ্যাপক ড. হানি আল-খুদারিকেও আটক করা হয়েছে অথচ তিনি কোনো রকমের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন।
মোহাম্মদ আল-খুদারির ভাই আবদুল মাজেদ আল-জাজিরা টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, তার ভাই এবং ভাইপোকে গত সাত মাস ধরে নির্জন কারাকক্ষে রাখা হয়েছে। আগামী ৫ মে তাদের মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর এ ধরনের ধরপাকড় অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
আল-খুদারি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে হামাসের প্রতিনিধি ছিলেন। আরব বিশ্বে হামাসকে বৈধ ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠন মনে করা হয় যারা ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।#
পার্সটুডে/এসআইবি/১০