বাড়ছে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক চাপ
পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ গ্রাসের দুঃস্বপ্ন নিয়ে বিপাকে নেতানিয়াহু!
-
নেতানিয়াহু ও গান্তজ্
পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ভূখণ্ড হিসেবে যুক্ত করার ইসরাইলি অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
গত এপ্রিল মাসে ইসরাইলের লিকুদ দলের প্রধান নেতানিয়াহু ও নীল-সাদা বা ব্লু-হোয়াইট দলের প্রধান বেনি গান্তজ্ জোট-সরকার গঠনের সময় পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ অঞ্চলকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের এক সপ্তাহ বাকি রয়েছে।
এরিমধ্যে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসরাইলি মন্ত্রীসভার ওপর চাপ বেড়েছে। নেতানিয়াহু এপ্রিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পয়লা জুলাইয়ের মধ্যেই পশ্চিম তীরকে গ্রাস করার কাজ সম্পন্ন করতে চায়। কিন্তু বেনি গান্তজ্ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন স্থগিত করার দাবি জানিয়ে বলেছে, তার এ দাবি মানা না হলে সংসদের নতুন নির্বাচন ডাকা হবে।
ফিলিস্তিনের সব দল ও গোষ্ঠী পশ্চিম তীরের ভূমি গ্রাসের ইসরাইলি এই অপচেষ্টা কখনও বাস্তবায়ন হতে দিবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণও ইসরাইলি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ-বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ইসরাইলি ঔদ্ধত্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলের আগ্রাসী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় জোট, রাশিয়া ও চীন ইসরাইলের এই হঠকারিতার নিন্দা জানাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ ভূমি গ্রাসের ইসরাইলি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে আজ ইসরাইল বিরোধী এক প্রস্তাব পাস করেছে। এই প্রস্তাবে পশ্চিম তীরের বর্তমান ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত অংশে ইসরাইলিদের চাকরি ও কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের ইসরাইলি তৎপরতা অবৈধ ও জরিমানার যোগ্য। এ ছাড়াও জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ফিলিস্তিনিদের নিজ ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারের প্রতি স্বীকৃতি দিয়ে আরেকটি প্রস্তাব পাস করেছে।
ইসরাইলের এই আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে যখন খোদ ইসরাইলেই বিরোধিতা জোরদার হচ্ছে তখনও মার্কিন সরকার এ বিষয়ে তেলআবিবকে সবুজ সংকেত দেয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত শতাব্দির লেনদেন নামক পরিকল্পনায় সিরিয়ার গোলানসহ ইসরাইলের দখলে থাকা সব আরব-ভূখণ্ডকে ইসরাইলের অংশে পরিণত করার কথা বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের ত্রিশ শতাংশ ভূমিকে গায়ের জোরে ইসরাইলে পরিণত করার স্বপ্ন দেখলেও তা বড় ধরনের দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।