মার্কিন সেনা-ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলাকে বাগদাদ ইরাকের ওপর হামলা বলেই ধরে নিবে!
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইরাক সরকার উপেক্ষা করছে জনমত ও সংসদকে!
ইরাক ও মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক আলোচনার তৃতীয় দফায় বাগদাদ মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোনো আবেদন জানায়নি।
গত সাত এপ্রিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সর্বশেষ এ আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টোনি ব্লিংকেন এবং তার ইরাকি প্রতিপক্ষ ফুয়াদ হুসাইন।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেয়া সংক্রান্ত ইরাকি সংসদের আইন এবং ইরাকি নানা গ্রুপের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের সংঘাত বৃদ্ধির কারণেই আয়োজন করা হয়েছিল তিন দফার এইসব আলোচনা। অথচ তৃতীয় দফার আলোচনায় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কোনো দাবিই তোলেনি বাগদাদ !
নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই ছিল বাগদাদ-ওয়াশিংটনের প্রথম আলোচনা। এ আলোচনায় মার্কিন সেনা ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি উত্থাপনের পরিবর্তে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে বাগদাদের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদারের কথা বলেছেন! তিনি এসব বিষয়ে সমঝোতা-স্মারক ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এবং এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামরিক ক্ষেত্রে বাগদাদ-ওয়াশিংটন সহযোগিতা সম্পর্কে ফুয়াদ হুসাইন বলেছেন ইরাকি ও মার্কিন পক্ষ নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে। উভয় পক্ষ ঘোষণা করছে যে আইএস বা দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইরাকি সামরিক বাহিনীর লড়াইয়ে সহায়তা দেয়ার জন্য ইরাক সরকারের আমন্ত্রণেই মার্কিন সেনারা ইরাকে উপস্থিত হয়েছে! আর ইরাকি বাহিনীর অগ্রগতির কারণে ইরাকে এখন মার্কিন সেনাদের ও মিত্র-জোটের সেনাদের ভূমিকা হবে কেবলই পরামর্শমূলক এবং প্রশিক্ষণমূলক, আক্রমণাত্মক নয়। কিন্তু বাস্তব ব্যাপার হল মার্কিন সরকার ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সব সময়ই দায়েশের মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রকাশ্যে ও গোপনে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। ইরাকের জনপ্রিয় গণবাহিনী ও ইরানের সামরিক সহায়তার ফলেই ইরাক দায়েশের সর্বগ্রাসী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।
ইরাকের বর্তমান সরকারের মার্কিন-বান্ধব বক্তব্যগুলো দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে বৈধতা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন । এ ছাড়াও বাগদাদ সরকার মার্কিন সেনাদের ইরাকে উপস্থিতি বজায় রাখার আমন্ত্রণ জানানোয় তাদের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বও পালন করতে বাধ্য হবে। এমনকি বাগদাদ এটাও মেনে নিয়েছে যে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি যেসব ঘাঁটিতে রয়েছে সেসব ঘাঁটিকে ইরাকি ঘাঁটি বলেই ধরে নেয়া হবে এবং এইসব ঘাঁটির ওপর যে কোনো ইরাকি গ্রুপের হামলাকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা ও ঘরোয়া সংঘাত বলে ধরে নেয়া হবে।
বাগদাদ এবং ওয়াশিংটনের সর্বশেষ এই আলোচনায় ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি সীমিত না হয়ে বরং জোরদারের পরিবেশ সৃষ্টি হল। এটাও স্পষ্ট হল যে ইরাক সরকার দেশটির সংসদকে এড়িয়ে চলছে এবং দেশটি রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতিহীনতায় ভুগছে। আর এ ধরনের অনৈক্যের ফলে লাভবান হবে আধিপত্যকামী ও লুটেরা মার্কিন সরকারই! ইরাকে নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসও বেড়ে যেতে পারে মার্কিন সেনা উপস্থিতি অব্যাহত থাকার কারণে। ইরাক সরকারের এ ধরনের আপোষকামী নীতি কেবল যে দেশটির জনমত ও গণতন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধারই নামান্তর তা নয় একইসঙ্গে তা সরকারের বিপজ্জনক বিভ্রান্তিরও সমার্থক। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।