সৌদি সরকার ও স্বঘোষিত ‘ইসলামী স্টেট’ অভিন্ন: সালেহ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i9181-সৌদি_সরকার_ও_স্বঘোষিত_ইসলামী_স্টেট’_অভিন্ন_সালেহ
ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেছেন, সৌদি ওয়াহাবি সরকার এবং আলকায়দা ও স্বঘোষিত ‘ইসলামী স্টেট’ তথা দায়েশের মত তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ১৩, ২০১৬ ০৮:১০ Asia/Dhaka
  • আলী আবদুল্লাহ সালেহ
    আলী আবদুল্লাহ সালেহ

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেছেন, সৌদি ওয়াহাবি সরকার এবং আলকায়দা ও স্বঘোষিত ‘ইসলামী স্টেট’ তথা দায়েশের মত তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

রাশিয়ার টেলিভিশন আরটি’র আরবি বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

সালেহ বলেছেন, ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে এবং একটি অযৌক্তিক আগ্রাসন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এই দেশটির ওপর। ইয়েমেনের সামরিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক লক্ষ্যবস্তুগুলোসহ সমগ্র অবকাঠামোকে টার্গেট করে আঘাত হানছে সৌদি আগ্রাসীরা যা একটি সার্বিক বা সর্বগ্রাসী ধ্বংসযজ্ঞ।

সালেহ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সৌদি সরকার ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশের সঙ্গে ইয়েমেনি জাতির দ্বন্দ্ব নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সালেহ বলেছেন, ‘সৌদি সরকারই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা তাদের ওপর হামলা চালাইনি। তারা আমাদের নারী, শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের হত্যা করছে। ইয়েমেনে আগে কখনও ধর্মীয় বিবাদ ছিল না, কিন্তু এখন কেন তা দেখা দিয়েছে? আমার ধর্মমত আমার আর আপনার ধর্মমত আপনার। কিন্তু কেন সৌদিরা তাদের প্রতিবেশী ও ভাই হিসেবে বিবেচিত ইয়েমেনিদের হত্যা করছে?’

সালেহ আরও বলেন, 'আলকায়দা, আইএস তথা দায়েশ ও জাবহাতুন নুসরা বা আননুসরা ফ্রন্টসহ বড় বড় সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হচ্ছে তাকফিরি-ওয়াহাবি মতাদর্শের ফসল, আর এই তাকফিরি-ওয়াহাবি মতাদর্শ হচ্ছে সৌদি গোষ্ঠীর আবিষ্কৃত কুপ্রথা বা বেদাআত। এইসব গোষ্ঠী এখন রাশিয়া ও ইউরোপেও সক্রিয়। সৌদির গড়ে তোলা এইসব গোষ্ঠীকে পরে কাতার ও তুর্কি সরকারও ব্যবহার করতে থাকে এবং তাদের অর্থ দিতে থাকে নিজস্ব কিছু লক্ষ্য বা স্বার্থ হাসিলের জন্য।'

তিনি বলেন, ইয়েমেনে এইসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিল না দীর্ঘকাল ধরে, কিন্তু এরপরই এসবই আত্মপ্রকাশ করল সৌদি আরব থেকে ভিন্ন ভিন্ন নামে যেমন, সালাফি এবং আলকায়দা। মুসলিম ব্রাদারহুড সম্পর্কে রাশিয়া ও ইউরোপের ভুল ধারণা রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই এবং অর্থ বা টাকাই এর কর্মসূচি।

সৌদি আগ্রাসনের ফলে ইয়েমেনের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য বহু বিলিয়ন  ডলার বলে তিনি জানান। ইয়েমেনে ইরানের উপস্থিতির অভিযোগকে তিনি অলীক কল্পনা বলে উড়িয়ে দেন।

ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করছে সালেহ’র অনুগত সেনারা।

ইয়েমেনে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সৌদি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ৮ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী।  সংসদের কাছে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বিচার বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন  বিমান বাহিনী। পদত্যাগী হাদির একদল সেনা এডেনে সক্রিয় রয়েছে। তবে রাজধানী সানা ও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বেশিরভাগ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ করছে জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলন ও তাদের সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর বেশিরভাগও সমর্থন দিচ্ছে শিয়া হুথিদের নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহকে। ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরোধী ও ইরানের সমর্থক  আনসারুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সরকারকে মেনে নিতে পারছে না ইহুদিবাদী ইসরাইল ও মার্কিন সরকার।#

মু. আমির হুসাইন/১৩