ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র থাকার দাবিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন বার বার
মার্কিন সরকারের কথিত গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজনের রহস্য !
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তার সরকারের আয়োজিত কথিত গণতন্ত্র সম্মেলন।
দুই দিনের এ সম্মেলনে বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিসহ নানা সংস্থা বা সংগঠনের কর্মকর্তারা হাজির হয়েছেন। তবে এই সম্মেলনে দাওয়াত পায়নি চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশের সরকার।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, আগামী বছর গণতান্ত্রিক সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, এ সংক্রান্ত পরিকল্পনার মধ্যে থাকবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকামীদের পাশে দাঁড়ানো ও এমন সব প্রযুক্তির প্রচলন করা যা গণতন্ত্রকে সমুন্নত করবে। ন্যায়নিষ্ঠ নির্বাচনের সংজ্ঞা নির্ধারণ ও এর প্রতি সমর্থনের পদক্ষেপও কথিত এই পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।
প্রশ্ন হল বিশ্বের কোন্ আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জোট মার্কিন সরকারকে বিশ্ব অঙ্গনে গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা হওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে? অথচ বিশ্বে সবচেয়ে উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধিকারী হওয়ার ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের নেতা হওয়ার মার্কিন দাবি অত্যন্ত নড়বড়ে বা লেজে-গোবরে পাকানো বিষয়! হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত মার্কিন অধ্যাপক ও তাত্ত্বিক স্টিফেন ওয়াল্ট বলেছেন, মার্কিন সরকার এখন এ ধরনের কথিত গণতন্ত্র সম্মেলনের নেতৃত্ব দেয়ার অবস্থানে নেই।
মার্কিন নির্বাচনে অর্থই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অধিকারী বলছেন। দুই-দল-ভিত্তিক মার্কিন সাম্রাজ্যের একটি দল গত নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়নি। অনেক রিপাবলিকান নেতা কংগ্রেসের ওপর ট্রাম্পপন্থীদের হামলাকে ধামাচাপা দেয়ায় ব্যস্ত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র থাকার দাবিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছেন বার বার। তিনি মার্কিন নির্বাচন-ব্যবস্থাকে ত্রুটিপূর্ণ এবং গত নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তার ওইসব বক্তব্য মার্কিন মুল্লুকে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটকেই তুলে ধরেছে। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গনে মার্কিন মোড়লীপনাও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র ও নির্বাচনী সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডিইএ এক রিপোর্টে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র মাত্র এগুতে শুরু করেছে যখন ট্রাম্প নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছেন।
এ ছাড়াও মার্কিন পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লুইড নিহত হওয়ার পর দেশটিতে স্বাধীনভাবে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করার সংখ্যা কমিয়ে দেয়া থেকেও বোঝা যায় গণতন্ত্র সেখানে পতন-মুখী। তাই গণতন্ত্র সম্মেলনের আয়োজন করে মার্কিন সরকার বিশ্বে সুনাম অর্জনের যত চেষ্টাই করুক না কেন এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিরোধী সরকারগুলোকে আর প্রশ্নের মুখোমুখি করতে পারবে না মার্কিন ক্ষমতাসীন মহল। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১০