ইউক্রেনন সংকট:
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ: মধ্যস্থতার ব্যর্থ প্রয়াস তুরস্কের
আমেরিকা এবং ন্যাটোর নেতৃত্বে পশ্চিমাদের প্ররোচনায় চলমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এ অঞ্চলের দেশগুলিতে গভীরভাবেই পড়েছে।
তুরস্ক ন্যাটো সামরিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য। সেদিক থেকে ইউক্রেন সংকট তুরস্কের ওপর নেতিবাচকভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই সত্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই যে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ার কারণে পশ্চিমের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশটি এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সামরিকভাবে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক।
তাই এ অঞ্চলে তুরস্কের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আমেরিকা ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পক্ষান্তরে এরদোগান সরকারের কর্মকর্তারাও তুরস্কের জাতীয় স্বার্থে স্বাধীনভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের ব্যবধানকে ক্রমেই বৃদ্ধি করছে। মনে হচ্ছে এরদোগান সরকারের কর্মকর্তারা চেষ্টা করছে রাশিয়ার সাথে গাঁটছড়া বেঁধে পশ্চিমাদের ওপর তাদের দাবি চাপিয়ে দিতে। তার মানে রাশিয়ার সঙ্গে স্থায়ী মৈত্রীর কথা ভাবছে না তুরস্ক। তারা বরং পাশ্চাত্যের সঙ্গে ঘনিষ্টতা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে।
তুর্কি বিশ্লেষক তাহা অক-ইউলের মতে: ইউক্রেন সংকট তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক মতপার্থক্য আরও গভীর করেছে। আঙ্কারা-মস্কো সম্পর্ক কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে এরদোগান এবং চাভুসোগলুর বক্তব্য মারাত্মক ভুল এবং অদূরদর্শী। তবে করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ইউক্রেন সংকট তুরস্কের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই সঙ্কট এরদোগান সরকারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বৈ কি। প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য-উভয়কূল রক্ষার্থে কিংবা বলা যায় দ্বিমুখি সংকটে পড়ে তুরস্ক শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতার আহ্বান জানায়।
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রাক্কালে তুরস্ক অবশ্য কিয়েভ সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে পশ্চিমা ব্লক এবং ন্যাটোর আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ লাগার সঙ্গে সঙ্গে জেলেনস্কি সরকার যখন এরদোগান সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়, তুরস্ক তখন ওই আবেদনে সাড়া দিতে দেরি করে। সেই সাড়াও ইউক্রেন এবং পশ্চিমাদের জন্য সুখকর ছিল না। সুতরাং মধ্যস্থতার ব্যাপারে তুরস্কের আহ্বানেও বিবদমান কোনো পক্ষ থেকেই তেমন সাড়া মেলে নি।
শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন সংকটে ভূমিকা রাখতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আনতালিয়ায় বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠক ডেকেছেন। ওই বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য ছাড়াই শেষ হয়েছে ওই বৈঠক। যদিও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান আশা করেছিলেন, আনতালিয়া শীর্ষ সম্মেলন সফল হবে এবং দু'দেশের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সুবাদে যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।#
পার্সটুডে/এনএম/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।