আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ফের চ্যাম্পিয়ন চিলি, জাতীয় দলে খেলবেন না মেসি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i13090-আর্জেন্টিনাকে_কাঁদিয়ে_ফের_চ্যাম্পিয়ন_চিলি_জাতীয়_দলে_খেলবেন_না_মেসি
আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে চিলি। ২০১৪- ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০১৫- কোপা আমেরিকার পর টানা তিন বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালের হারের লজ্জায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে দুই ফাইনালে হেরে গেলেও এবারের মতো এমন কাঁদতে মেসিকে কখনও দেখা যায়নি।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
জুন ২৭, ২০১৬ ০৭:১৮ Asia/Dhaka
  • ট্রফি হাতে চিলির খেলোয়াড়দের উল্লাস
    ট্রফি হাতে চিলির খেলোয়াড়দের উল্লাস

আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে চিলি। ২০১৪- ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০১৫- কোপা আমেরিকার পর টানা তিন বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালের হারের লজ্জায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর আগে দুই ফাইনালে হেরে গেলেও এবারের মতো এমন কাঁদতে মেসিকে কখনও দেখা যায়নি।

গত বছরের মতো এবারও নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র। চিলির মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদালের শট ঠেকিয়ে দিয়ে শুরুটা দারুণভাবে করেছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রথম শট নিতে এসে বল পাঠাতে পারেননি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। শটটি ডানদিকের ক্রাসবারের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে আশ্রয় নেয় গ্যালারিতে। হতাশাল মসুষড়ে পড়েন মেসি ও তার সতীর্থরা। মেসির এই ভুলটিই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে আসা মেসি শেষটা করলেন দুঃখজনক টাইব্রেকার মিস দিয়ে।

পরের তিন শটেই গোল করে চিলির খেলোয়াড়রা। তবে আর্জেন্টিনার পক্ষে চতুর্থ শট থেকে গোল মিস করেন বিগিলিয়া। তার শটটি রুখে দেন বার্সেলোনার চিলির গোলরক্ষক ব্রাভো। জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তখন চিলি। দলের হয়ে চতুর্থ শট নিতে এসে ব্যর্থ হয়েছেন লুকাস বিগলিয়া। চিলির ফরোয়ার্ড ফ্রান্সিসকো সিলভার শট জালে জড়াতেই শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছে চিলি।

এর আগে প্রথমার্ধে দুই দলের ফুটবলারদের চেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন রেফারি। তার বিতর্কিত সব সিদ্ধান্তের ফলে ৪৩ মিনিটের মধ্যেই দুই দলেরই একজন করে ফুটবলার লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। ২৮ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন চিলির মিডফিল্ডার মার্সেলো ডিয়াজ। হলুদ কার্ড দেখার মতো অপরাধ তিনি করেছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক উঠতেই পারে। ৪৩ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মার্কোস রোহো। যদিও পরে টেলিভিশন রিপ্লে থেকে দেখা গেছে যে সরাসরি লাল কার্ড দেখার মতো কোনো ফাউলই তিনি করেননি।

প্রথমার্ধে একবারও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি চিলি। গোলপোস্ট লক্ষ্য করে নিতে পারেনি একটি শটও। অন্যদিকে ২৩ মিনিটের মাথায় গোল করার মোক্ষম এক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন আর্জেন্টিনার গঞ্জালো হিগুয়েইন। চিলির ডিফেন্ডারের ভুলে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। সামনে গোলরক্ষক ছাড়া আর কেউই ছিল না। কিন্তু চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভোকে ফাঁকি দিয়ে বলটা জালে জড়াতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পরে নিকোলাস ওটামেন্ডির দারুণ হেড চলে গেছে চিলির গোলপোস্টের কিছুটা বাইরে দিয়ে।

১০ জনের দল নিয়ে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দারুণ উত্তেজনা ছড়িয়েছেন চিলি ও আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ৮০ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পেয়ে যেতে পারত চিলি। কিন্তু আলেক্সিস সানচেজের শট রুখে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। ৮৪ মিনিটে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো। গোলপোস্টের একেবারে সামনে বল পেয়েও সেটা জালে জড়াতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। বল পাঠিয়ে দিয়েছেন গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় দেখা গেছে আরো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে দুই দলই পেয়েছিল জয়সূচক গোল করার সুযোগ। ৯৯ মিনিটের মাথায় চিলির ফরোয়ার্ড এদুয়ার্দো ভার্গাসের হেড রুখে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো। পাল্টা আক্রমণ থেকে আর্জেন্টিনাও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল চিলির রক্ষণভাগে। মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেড করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। কিন্তু অসাধারণভাবে সেই হেড থেকে আসা বলটা গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন চিলির গোলরক্ষক ব্রাভো।

চিলির কাছে টানা দ্বিতীয় হারে বাকরুদ্ধ মেসির দল

এদিকে, চিলির কাছে হেরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে এখানেই আমার ক্যারিয়ার শেষ। ওহ, আর্জেন্টিনা। আমি আমার নিজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা চাইছে না, তাদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত। আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো কিছু অর্জন করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জার্সিতে আমি চারটি ফাইনাল ম্যাচ খেলেছি। এখনই সঠিক সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার। আবারো ফাইনালের মঞ্চে এসে হেরে যাওয়া আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি পেনাল্টি মিস করেছি, এটা আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক ঘটে ২৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ গোলদাতার আসনে আসীন হতে ১১১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। স্বদেশী কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে জাতীয় দলের হয়ে ৭৮টি ম্যাচ খেলে করেন ৫৪ গোল।#

 

পার্সটুডে/এআর/২৭