আমেরিকা ও ইসরায়েল কীভাবে ইরানে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলো?
-
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু
পার্সটুডে-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন: প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করা জনগণের অধিকার এবং জনগণের বিক্ষোভের প্রতি আমাদের সাড়া দিতে হবে।
তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আরও বলেন: দাঙ্গা ও জন-সংশ্লিষ্ট স্থান ও স্থাপনায় (পাবলিক প্লেস) আক্রমণ, মসজিদ পোড়ানো এবং কুরআন পোড়ানো-এইসবই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, সন্ত্রাসীরা ইরানে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। এইসব দাঙ্গায় সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি, বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ এবং কয়েকজন পুলিশ বাহিনীর শহীদ হয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ইরানে অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির কাজ আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের জনগণের সরকারি, বেসরকারি স্থান এবং ধর্মীয় স্থানে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে দাঙ্গাবাজদের আচরণ ইঙ্গিত দেয় যে, যা করা হচ্ছে তা ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের পরিকল্পনার ফল। ইরানের জনগণ এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শত্রুতা থেকেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি। মাসুদ পেজেশকিয়ান এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ১২ দিনের যুদ্ধে আমাদের জনগণ, যুবক এবং শিশুদের হত্যাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী সরকার এখন এই লোকদের নির্দেশ দিচ্ছে: 'আমরা এখানে আছি, তোমরা যাও এবং ধ্বংস করো, আমরা তোমাদের পিছনে আসব।'
এই দাঙ্গা সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দাঙ্গাকারীদের আচরণ, বিশেষ করে বিভিন্ন অস্ত্র রাখা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষদের ওপর গুলি চালানো ইত্যাদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দাঙ্গা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সমর্থিত উপাদান দিয়েই পরিচালিত হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিবৃতিতেও এ বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরাইল ভেতরে এবং বাইরে কিছু লোককে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং মসজিদ, বাজার ও জনসাধারণের স্থানে আগুন লাগানোর জন্য বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের দেশে এনেছিল। তারা বন্দুক দিয়ে কিছু মানুষকে হত্যা করেছিল, কিছু কিছু স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল এবং অনেকের শিরশ্ছেদ করেছিল। সত্যিই, আমাদের জনগণ এই অপরাধ করতে পারে না। এরা মানুষ নয়।”
ইরানের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে তৃতীয় যে বিষয়টি ছিল তা হল, ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইহুদিবাদী সরকারের ১২ দিনের যুদ্ধে দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল, ইরানের আঞ্চলিক বিভাজন এবং ইরান শাসনকারী রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন। ১২ দিনের যুদ্ধে এই দুটি লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব, যারা জাতীয় ঐক্যকে এই লক্ষ্যে ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করত, তারা সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইরানে বিশৃঙ্খলা, অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকে তাদের এজেন্ডায় রেখেছে, এমনকি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওও এটি স্বীকার করেছেন। পম্পেও একটি টুইটে লিখেছেন: "ইরানের অস্থিরতায় মোসাদের এজেন্টরা উপস্থিত রয়েছে।" এই ষড়যন্ত্রের মূল কারণ হল ১২ দিনের যুদ্ধে পরাজয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিবৃতিতেও এ বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ বিষয়টি হলো, আমেরিকা ও ইসরায়েল বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে ইরানি জনগণের মধ্যকার জাতীয় ঐক্য ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরানে অস্থিরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যই হলো ইরানি জনগণের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্য ও সংহতি ধ্বংস করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী সরকারের নতুন করে আক্রমণের পথ তৈরি করা। কিন্তু ১২ দিনের যুদ্ধেও সেটা সম্ভব হয় নি। জনগণ ভবিষ্যতেও তা সম্ভব হতে দেবে না।#
পার্সটুডে/এনএম/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন