আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ‘নাটক’ ছাড়া কিছু নয়: ইরানি কমান্ডার
https://parstoday.ir/bn/news/event-i157252-আমেরিকার_যুদ্ধজাহাজ_মোতায়েন_নাটক’_ছাড়া_কিছু_নয়_ইরানি_কমান্ডার
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সাথে উত্তেজনার মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে 'নাটকীয় প্রদর্শন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এক ইরানি সামরিক কমান্ডার। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা এই ধরনের বাড়াবাড়ি পূর্ণ কৌশলের জোরালো জবাব দিয়েছেন।
(last modified 2026-02-22T11:53:56+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১৭:৫২ Asia/Dhaka
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সাথে উত্তেজনার মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে 'নাটকীয় প্রদর্শন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এক ইরানি সামরিক কমান্ডার। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামি বিপ্লবের নেতা এই ধরনের বাড়াবাড়ি পূর্ণ কৌশলের জোরালো জবাব দিয়েছেন।

খাতামুল আম্বিয়া ঘাঁটির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের উপ-পরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাফর আসাদি আজ (রোববার) বলেছেন, "আমাদের জাতি খুব ভালো করেই জানে যে, বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে মোতায়েন করা জাহাজ ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এখন এটি শুধু প্রচারণামূলক পর্যায়ে এসেছে।"

আসাদি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি ইতোমধ্যে এর যথাযথ জবাব দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী বিপজ্জনক হলেও, তার চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা তাকে সাগরের তলদেশে পাঠাতে পারে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদি গত ৪৭ বছরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শত্রুদের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজরা শেষ পর্যন্ত পশ্চিম এশিয়ায় ‘ক্যান্সারের টিউমারের মতো’ বিলীন হয়ে যাবে।

তিনি ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জোর দিয়ে বলেন, তারা প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত এবং অতীতের চেয়ে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালীভাবে কাজ করবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদি বলেন, "শত্রুর কোনো ভুল গণনা ও বোকামির জবাবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে আরও বিধ্বংসী হবে।"

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করে আরও উত্তেজনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি হামলা চালানো হয় তবে ইরান জাতিসংঘ সনদের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করবে।

১৯ ফেব্রুয়ারির একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি জেমস কারিউকিকে উদ্দেশ্য করে আমির সাঈদ ইরাভানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার ও স্পষ্টভাবে শক্তি প্রয়োগের হুমকির কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে দিয়েগো গার্সিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কথাও বলা হয়েছে।

ইরানি এই রাষ্ট্রদূত দাবি করেন যে, এই ধরনের বিবৃতি জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) লঙ্ঘন এবং ইতিমধ্যেই অস্থিতিশীল একটি অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২২