ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ধর্মঘট; মিনিয়াপোলিস সামাজিক ক্ষোভের কেন্দ্র
-
মিনিয়াপোলিস সামাজিক ক্ষোভের কেন্দ্র
পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনগণ সাধারণ ধর্মঘট পালন করছে। বিশেষ করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর সামাজিক বিভাজন তীব্র হচ্ছে এবং ফেডারেল সরকারের ওপর জনমতের চাপ বাড়ছে।
শত শত নাগরিক সংগঠন, ছাত্র ও মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শপিং সেন্টারে না গিয়ে অভিবাসীদের দমন-পীড়ন এবং ফেডারেল বাহিনীর সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
এই আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য বিশেষ করে মিনিয়াপোলিস শহর। সেখানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী— রেনে গুড ও অ্যালেক্স পার্টি— নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক জনরোষের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব ঘটনা ট্রাম্প সরকারের অভিবাসনবিদ্বেষী নীতিকে একটি নিরাপত্তামূলক দৃষ্টিভঙ্গির সীমা ছাড়িয়ে সামাজিক ও মানবাধিকার সংকটে রূপান্তরিত করেছে।
ধর্মঘটের আয়োজকেরা মিনেসোটা থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহার, গুলিবর্ষণের জন্য দায়ীদের বিচার, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থ এমনকি অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বিলুপ্ত করার দাবিও তুলেছেন। আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইসিই'র কর্মকাণ্ডকে অনিয়ন্ত্রিত এবং ব্যাপক নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প সরকার সম্পূর্ণ পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত না দিয়ে বরং “টুইন সিটিজ" অঞ্চলে ফেডারেল বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করে নিজেদের নীতি বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান প্রদর্শন করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করেছে।
মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি একটি গুরুতর অচলাবস্থার মুখে পড়েছে এবং এর ধারাবাহিকতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।#
পার্সটুডে/এসএ/১