নাজাফ থেকে কারবালা: শহীদ খামেনেয়ীর বিদায়ে ইরাকজুড়ে শোক ও শ্রদ্ধা
পার্সটুডে: ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার দেহ মুবারকের জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগম আবারও ইরান ও ইরাকের দুই জনগণের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক শোকার্ত মানুষের অংশগ্রহণে কঠোর নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা’র বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আজ (বুধবার) সকালে পবিত্র নাজাফ নগরীতে শহীদ ইসলামী বিপ্লবের নেতার দেহ মুবারকের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ, জিয়ারতকারী, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
এছাড়া শহীদ নেতার কফিন কারবালায় পৌঁছানোর পর ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি আবদুল মাহদি আল-কারবালায়ি পবিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাজারে জানাজার নামাজ পড়াবেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, নাজাফের অনুষ্ঠান শেষে সরকারি একটি বহরের মাধ্যমে মরদেহ কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সাইয়্যেদা জাওদা চত্বর ও আল-মুহাফাযা সড়ক হয়ে পবিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) ও হজরত আব্বাস (আ.)-এর মাজারের দিকে শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা চলবে।
শহীদ ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুই দেশের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্বাগত জানান। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফে পৌঁছান।
দেহ মুবারকের আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, তাঁর সফরসঙ্গীরা এবং ইরাকের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও গোত্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে ইরাকের ‘সমন্বয় কাঠামো’র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—স্টেট অব ল’ জোটের প্রধান নুরি আল-মালিকি, বদর সংগঠনের মহাসচিব হাদি আল-আমেরি, আসাইব আহলে হক আন্দোলনের মহাসচিব কাইস আল-খাজালি, ন্যাশনাল হিকমাহ মুভমেন্টের প্রধান আম্মার আল-হাকিম, তাকাদ্দুম পার্টির প্রধান মোহাম্মদ আল-হালবুসিসহ দেশটির আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা।
এদিকে ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোর মিডিয়া ইউনিটের প্রধান সাদ মানে জানান, দেশটির সব নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থা পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, নাজাফ ও কারবালা শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যাতায়াতের পথ নিয়ন্ত্রণ, আপ্যায়ন কেন্দ্র স্থাপন, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোর থেকেই পবিত্র নাজাফের দিকে যাওয়া সব সড়কে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশের লাখো মানুষ এবং বিদেশি জিয়ারতকারীরা এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নাজাফের উদ্দেশে রওনা হন। বিপুল এই উপস্থিতি শহীদ ইসলামী বিপ্লবের নেতার প্রতি ইরাকি জনগণের সমর্থন ও ইরান-ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সংহতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৮