দক্ষিণ লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত
দক্ষিণ লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত
-
দক্ষিণ লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত
পার্সটুডে: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (গতকাল বুধবার) নিশ্চিত করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জউন শহরে একটি হাত-বোমা বা বিস্ফোরক যন্ত্রের হামলায় দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ২৮ জুনের পর এই প্রথম ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য নিহত হলো।
এই ঘটনায় আরও কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, আহতদের চারজনের অবস্থা "সংকটাপন্ন"। পরবর্তীতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ লেবাননের এই শহরের একটি বোমা-ফাঁদে ভরা ভবনের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ৫৫তম ব্রিগেডের দুই সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হন।
এই হামলাটি চলমান এক পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে, যেখানে দক্ষিণ লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে বিমান হামলা, গোলা-বর্ষণ, ঘরবাড়ি ধ্বংস, কবরস্থান অপবিত্রকরণ ও বনাঞ্চলে অগ্নিসংযোগ—এসব কিছুই ইহুদিবাদী ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে তথাকথিত 'কাঠামো চুক্তি' আলোচনা এবং সরাসরি কথোপকথন চলা সত্ত্বেও বজায় রয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রতিরোধ আন্দোলন এই দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতার জন্য প্রাথমিক দায় বর্তিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষের ওপর, যাদের তারা "নীরব, অনুপস্থিত ও সহযোগী" বলে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকার কার্যত ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও সামরিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে।
বুধবারের উত্তেজনা
বুধবার সন্ধ্যার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী মানসুরি, বুরজ আল-শামালি এবং আলি আল-তাহের হাইটসের আশপাশের এলাকায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যাতে বহুসংখ্যক আহত হয়। একই সময়ে, হাদ্দাথা শহরেও বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই আগ্রাসনের আগে মঙ্গলবার তিবনিনের একটি মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল, যাতে এক ব্যক্তি নিহত এবং ১২ জন আহত হন। এছাড়াও, দখলদার বাহিনী কফরশুবা শহরের উপকণ্ঠে দুটি টাওয়ারের মাঝখানে অবস্থিত আল-শামিস জেলার ওপরের বনাঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা অস্থির সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/০৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।