অসহায় দরিদ্রদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন: বিশ্ব মানবতা দিবসে বান কি মুন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i17647-অসহায়_দরিদ্রদের_সাহায্যে_এগিয়ে_আসুন_বিশ্ব_মানবতা_দিবসে_বান_কি_মুন
১৯ আগস্ট: অসহায় দরিদ্রদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের তেরো কোটি মানুষ মানবিক ত্রাণ সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। এত বিশাল জনগোষ্ঠির সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধানের বিষয়টি খুব সহজ নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এই সংকট নিরসনে বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ১৯, ২০১৬ ১৬:২১ Asia/Dhaka

১৯ আগস্ট: অসহায় দরিদ্রদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের তেরো কোটি মানুষ মানবিক ত্রাণ সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। এত বিশাল জনগোষ্ঠির সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধানের বিষয়টি খুব সহজ নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এই সংকট নিরসনে বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

এমন একটা সময়ে বান কি মুন এই বিবৃতি দিলেন যে সময়টায় সারা বিশ্বেই আশ্রয়প্রার্থী এবং উদ্বাস্তু সংকট ভয়াবহভাবে বিরাজ করছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংকট এই শরণার্থী ও উদ্বাস্তু সংকট।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক উচ্চ কমিশন কিছুদিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বে উদ্বাস্তুর পরিমাণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের সংখ্যাকেও ছেড়ে গেছে।

উদ্বাস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে,সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর তৎপরতা বেড়ে গেছে, আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বেড়ে গেছে। গৃহযুদ্ধ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোর ভেতরে সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আবহাওয়াগত পরিবর্তনও বিশ্বে উদ্বাস্তু সংকট বেড়ে যাওয়ার কারণ।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক বছর আগেই বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন,সমগ্র বিশ্বেই এ ধরনের উদ্বাস্তু সংকট দেখা দেবে। কিন্তু বর্তমানে উদ্বাস্তু পরিস্থিতি তাদের সেই পূর্বাভাসের চেয়েও ভয়ংকর।

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্বাস্তু বা শরণার্থী সংকটের কারণ নি:সন্দেহে যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি। এরকম পরিস্থিতিতে মানবাধিকারের শ্লোগানধারী ইউরোপের কোনো কোনো দেশ তাদের সীমান্তগুলো বন্ধ করে দিয়েছে যাতে শরণার্থীরা তাদের দেশে ঢুকতে না পারে। যারা কোনোরকমে ঢুকতে পেরেছে তারাও শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সিরিয়া, ইয়েমেনসহ লিবিয়া এবং দক্ষিণ সুদানের মতো আফ্রিকা মহাদেশের বহু দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এ কারণে এসব দেশের নিরীহ লোকজন জীবনবাজি রেখে বিভিন্ন রকম পথে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে পাড়ি জমাচ্ছে ভিন্ন কোনো দেশে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে কেউ, কেউবা আবার মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে পা বাড়াচ্ছে অজানার উদ্দেশ্যে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া,নাইজার, সোমালিয়ার মতো আফ্রিকার দেশগুলোতে বোকোহারাম, আশশাবাবের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর ভয়ংকর উপস্থিতিও আপন দেশ ছেড়ে ভিন্ন দেশে উদ্বাস্ত হয়ে যাবার আরেকটি কারণ। এদের বিশাল একটি অংশ নাইজেরিয়ান উত্তরাঞ্চল এবং চাদ হ্রদের আশেপাশের এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা এখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবিক সাহায্যের মুখাপেক্ষী। আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণেও অনেকেই নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে-এদের সংখ্যাও কম নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আগামি ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে এক শ কোটি মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি–জন্মভূমি- ছাড়তে বাধ্য হবে। পৃথিবীর জনসংখ্যার শতকরা অন্তত ৪০ ভাগ খাবার পানির সমস্যার মুখে পড়বে। এরইমধ্যে এলনিনোর কারণে ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, মোজাম্বিক, জাম্বিয়া, মালাবির মতো আফ্রিকার দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। এসব দেশে এখনই মানবিক সাহায্য, ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রি পাঠানো জরুরি। এইসব দেশের নেতারা তাদের জনগণকে অনাহারে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ সাহায্যের প্রতিশ্রিুতি দিয়েছে তাদের অনেকেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাহায্য দিচ্ছে না। এ কারণে বান কি মুন কিছুদিন আগেও সেইসব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা যেন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অর্থাৎ যতটুকু মানবিক সাহায্য দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তা যেন দিয়ে দেয়।

জাতিসংঘের সতর্কতা থেকে বোঝা যাচ্ছে এই সংস্থাসহ বিশ্বের অন্যান্য সংস্থার চেষ্টা সত্ত্বেও ত্রাণ সহায়তা নেওয়ার মতো লোকের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এমনকি পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সমাজের সামর্থের বাইরে চলে যাচ্ছে। সুতরাং বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় রোধ করার জন্য কেবল ত্রাণ সাহায্য নিশ্চিত করাই জরুরি নয় বরং সমাজ থেকে অসাম্য, বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো এখন সময়ের দাবি।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৯