‘আফগান শান্তি চুক্তিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ইরান’
-
শান্তি চুক্তি বিনিময় করছেন আফগান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হানিফ আতমার (বামে) ও গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার (ডানদিকে)
আফগান সরকার ও সশস্ত্র নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ইরান বলেছে, এ চুক্তিকে আফগান সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ‘একধাপ অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছে তেহরান।
কাবুলে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ জেরা বাহরামি বলেছেন, বিরোধীদের সঙ্গে আফগান সরকারের যেকোনো আলোচনা বা চুক্তি দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। কাজেই এ বিষয়টিকে ইরান স্বাগত জানায়।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাহরামি আরো বলেন, আফগানিস্তানের উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কাজেই এ বিষয়ে যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ সমর্থন করা ইরানের মৌলিক নীতি।
প্রায় দুই বছরের আলোচনা শেষে গত বৃহস্পতিবার হেকমতিয়ারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করে আফগান সরকার। ১৯৮০’র দশকে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করেন হেকমতিয়ার। কিন্তু ১৯৯০’র দশকের গোড়ার দিকে দখলদার বাহিনী চলে যাওয়ার পর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধের প্রধান খলনায়ক হিসেবে চিহ্নিত হন তিনি। ওই গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়।
২০০১ সালে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হেকমতিয়ারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তাকে আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করার ফলে আত্মগোপনে চলে যান হেকমতিয়ার।
বর্তমানে গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারকে তালেবানের পর আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা বলে মনে করা হয়। কাজেই তার সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির জন্য একটি বড় বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৪