যুদ্ধ-প্রস্তুতি দেখলেন পাক সেনাপ্রধান; ‘বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’
-
যুদ্ধ-প্রস্তুতি পর্যালোচনার অনুষ্ঠানে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ (প্রথম সরিতে বামে)
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধের সামগ্রিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে দেখেছেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ। গতকাল (সোমবার) তিনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর স্ট্রাইক কোরের সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন।
মাংলায় অবস্থিত এ কোরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় এবং মাংলা সদরদপ্তর ঘুরে দেখাকে পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। মাংলাকে পাকিস্তানের এক নম্বর কোর হিসেবে দেখা হয়। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ যখন গতকাল কাশ্মির ইস্যু ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন তখন সেনাপ্রধান সামরিক বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, আইএসপিআর থেকে প্রচারিত সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে দেখা গেছে- স্ট্রাইক কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওমর ফারুক দুররানি সেনাপ্রধান রাহিল শরীফকে ব্রিফ করছেন। লাহোরের কোর কমান্ডার লে. জেনারেল সাদিক আলী, পেশোয়ার কোরের কমান্ডার লে. জেনারেল হেদায়াতুর রহমান, গুজরানওয়ালা কোরের কমান্ডার লে. জেনারেল ইকরামুল হক এবং মিলিটারি অপারেশন্সের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন বলছে, সেনাপ্রধানের মাংলা সদরদপ্তর ঘুরে দেখা ভারতের জন্য পরিষ্কার বার্তা বহন করছে যে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মাংলা কোরের সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল গুলাম মোস্তফা সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফের এ পরিদর্শনকে “অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, “সাধারণত এ ধরনের কোর কমান্ডারদের বৈঠক সেনা সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এবং সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়া হয় না। সে কারণে বিষয়টি ভারতের জন্য পরিষ্কার বার্তা বহন করছে এবং সেখানে অন্য কোর কমান্ডারদের উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।”
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গতকাল অভিযোগ করেছে, একদিনেই ভারতীয় বাহিনী সীমান্তে তিনবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে প্রথম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে ইফতিখারাবাদে। সেখানে ভোররাতে গোলা বর্ষণ শুরু করে ভারত। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটেছে শিয়ালকোটের কাছে নেজাপির সেক্টরে। সেখানে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোলা বর্ষণ শুরু হয়। এরপর তৃতীয় দফা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে আযাদ কাশ্মিরের কাছে কাইলার সেক্টরে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। ভারতের একটি বার্তা সংস্থাও এমন খবর দিয়েছে। এ বার্তা সংস্থার খবরে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসের জানজুয়া ও অজিত দোভালের মধ্যে ফোনে আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। তবে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করতে পারে নি ডন পত্রিকা।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৪