দারিদ্র বিমোচন পাক-ভারত দু দেশের জন্য দুরূহ কাজ: বিশ্বব্যাংক
দারিদ্র বিমোচনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারত দু দেশই দুরূহ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দারিদ্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়তে হয় সে বিষয়ে দিল্লির কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানানোর পর চলতি সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক কথা বলল।
বিশ্বব্যাংকের ‘পোভার্টি অ্যান্ড শেয়ার্ড প্রোসপারিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে সেইসব দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে যেসব দেশে দরিদ্রতম লোকজনের আয়-রোজগার গড়পড়তার চেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। পাকিস্তানের জাতীয় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে শতকরা চার ভাগ; তার চেয়ে সামান্য এগিয়ে দেশটির গরিব মানুষের আয় বৃদ্ধির হার। জাতীয় প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীন রয়েছে এ তালিকার সবার শীর্ষে। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলংকাও রয়েছে এ তালিকায়।
বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্র বিমোচনে ভারতের অবস্থান পাকিস্তানের অনেকটা বিপরীতে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে- ভারত রয়েছে সেইসব দেশের তালিকায় যেসব দেশের দরিদ্রতম লোকজনের আয় বাড়ছে গড়পড়তার চেয়ে কম গতিতে।
বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদন অনুসারে যদিও ভারত কিছুক্ষেত্রে পাকিস্তানের চেয়ে ভালো করছে তবে অনেকগুলো ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে পাকিস্তান এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে- শতকরা ২১.২৫ ভাগ ভারতীয় নাগরিক দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে যাদের আয় দিনে ১.৯০ ডলার। পাকিস্তানে এ সংখ্যা শতকরা ৮.৩ ভাগ। ভারতের শতকরা ৫৮ ভাগ মানুষ দিনে আয় করেন ৩.১০ ডলার; পাকিস্তানে সে সংখ্যা ৪৫ ভাগ; পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে এগিয়ে।
বিশ্বব্যাংক যদিও বলছে, বাংলাদেশ তার জোরদার অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ অব্যাহত রাখলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র বিমোচন করতে সক্ষম হবে তবে, এখনো দেশটির শতকরা ৪৩.৭ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে যাদের প্রতিদিনের গড় আয় ১.৯০ ডলার। এছাড়া, দিনে ৩.১০ ডলার আয় করে -এমন মানুষের সংখ্যা শতকরা ৭৭.৬ ভাগ।
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৪