তুরস্কের পর ইরাকেও সাড়া ফেলেছে ইরানি চলচ্চিত্র 'মুহাম্মদ (সা.)'
ইরানের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক মাজিদ মাজিদি'র নির্মিত ছায়াছবি ‘মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরাকি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন শুরু হয়েছে। গতকাল আগাম টিকিট বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ছায়াছবিটি তুর্কি দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হওয়ায় ইরাকে পূর্বঘোষিত সময়ের ৯ দিন আগেই প্রদর্শন শুরু হল। দেশটির কারবালা, নাজাফ ও আরবিলেও মহানবী (সা.)-এর শিশুকালের ওপর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা রয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর থেকে তুরস্কে 'মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.)' চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শন শুরুর প্রথম সপ্তাহে তিন লাখ ৩০ হাজার দর্শক মুভিটি দেখেছেন। দর্শকদের পাশাপাশি তুরস্কের গণমাধ্যমেও ছায়াছবিটির ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।
এছাড়া, আগামী ১৭ নভেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ দাগেস্তানে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা রয়েছে।
গত বছরের ২৭ আগস্ট ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ১১ শহরের ১৪৩টি প্রেক্ষাগৃহে এই ছায়াছবির প্রথম পর্বের প্রদর্শন শুরু হয়। একই সময়ে কানাডার মন্ট্রিল চলচ্চিত্র উৎসবের আওতায় সেখানকার দু’টি সিনেমা হলে দেখানো হয়েছে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ছায়াছবি।

মহানবী (সা.) কে নিয়ে নির্মিত ট্রিলজি বা তিনখণ্ডের ছায়াছবির এই প্রথম খণ্ডে তাঁর মক্কার জীবনালেখ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৭১ মিনিটের এ ছায়াছবি নির্মাণে সাত বছর সময় লেগেছে। ইরানের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ ছবি নির্মাণে তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। মোহাম্মদ মাহদি হায়দারিয়ান প্রযোজিত এ ছবির চিত্র ধারণ করা হয়েছে ইরান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শহর বেলা-বেলা’তে।

ছবিটি নির্মাণে চলচ্চিত্র জগতের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা সহযোগিতা করেছেন। এতে কাজ করেছেন ইতালির তিনবারের অস্কারজয়ী সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তোরিও স্তোরারো, ইতালির ফিল্ম এডিটর রোবাতো পেরপিগানি, মার্কিন স্পেশাল এফেক্ট শিল্পী স্কট ই অ্যান্ডারসন, ইতালির মেকআপ আর্টিস্ট গিয়ানেত্তো ডি রোসি এবং ভারতীয় প্রখ্যাত সুরকার এ আর রহমান। #
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০