আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i30769-আফগানিস্তানের_পক্ষ_থেকে_সন্ত্রাস_বিরোধী_যুদ্ধে_জাতিসংঘের_সহযোগিতা_কামনা
সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে আফগানিস্তান। সেইসঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত মাহমুদ সাইকাল এ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া কাবুলের একার পক্ষে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ করা সম্ভব নয়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ১২, ২০১৭ ১৫:১৭ Asia/Dhaka

সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে আফগানিস্তান। সেইসঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে দেশটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত মাহমুদ সাইকাল এ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া কাবুলের একার পক্ষে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ করা সম্ভব নয়।

পাকিস্তানে উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি থাকার কথা উল্লেখ করে সাইকাল বলেন, এসব ঘাঁটি ধ্বংস হচ্ছে কিনা তার ওপর আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল অনেকাংশে নির্ভর করছে।

এর আগে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকি সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশে তালেবান হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া তালেবানের সমর্থক আর কোনো দেশ নেই।

সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আফগানিস্তান জাতিসংঘের যে সাহায্য চেয়েছে সে আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র এই একটি দেশের নয়।  বিশ্বের যেসব দেশ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে সেসব দেশের প্রত্যেকটি জাতিসংঘের কাছে একই ধরনের প্রত্যাশা করে। এসব দেশ মনে করে বিশ্ব সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘের উচিত উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে যুদ্ধ করা।

জাতিসংঘে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত এমন সময় এই বিশ্ব সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছে।  জাতিসংঘের আইন প্রণয়নকারী পরিষদের এই ভূমিকার কারণে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

আমেরিকার মতো নিরাপত্তা পরিষদের কোনো কোনো স্থায়ী সদস্যদেশ পশ্চিম এশিয়ার স্বাধীনচেতা দেশগুলোর সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে ওইসব দেশে তৎপর উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ কারণে বিশ্ব নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।

এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ওই দু’টি দেশের সেনাবাহিনী আরো কিছু দেশের সহযোগিতায় উগ্র তাকফিরি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করলেও আমেরিকা ও তার কিছু ইউরোপীয় মিত্র দেশ এই যুদ্ধে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর ফলে ওই দুই দেশের জঙ্গিবাদ বিরোধী যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঠিক একই কারণে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের পতনের পর ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে কাবুলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  আমেরিকা মুখে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কথা বলে এই যুদ্ধের জন্য দৃশ্যত সেনা পাঠালেও বাস্তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।  ঠিক এ কারণেই কাবুল অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার মিত্র দেশ পাকিস্তান আফগানিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং যতদিন ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা না আসবে ততদিন এ যুদ্ধে সফল হবে না আফগানিস্তান।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১২