ইরাভানি: সন্ত্রাসী ইসরায়েল গুরুতর হুমকি/ যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে
-
আমির সাঈদ ইরাভানি
পার্সটুডে- জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসরায়েল শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে রয়েছে।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে "আমির সাঈদ ইরাভানি" বলেছেন: "ইসরায়েলের বেআইনি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
গাজা এখনো বিধ্বস্ত ও অবরুদ্ধ রয়েছে এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দিচ্ছে না উল্লেখ করে ইরাভানি বলেন: পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে; যা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং তাদের এ কার্যক্রম দখলদারিত্ব ও অস্থিতিশীলতাকে আরও দৃঢ় করছে।
ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রচেষ্টাকে ইরান সমর্থন করে উল্লেখ করে ইরাভানি আরও বলেন: “ইসরায়েলি আগ্রাসন শুধু অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। সিরিয়ার মাটিতে বারবার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড, সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে তাদের চলমান অবৈধ দখলদারিত্ব এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের মাধ্যমে ইসরায়েল সমগ্র অঞ্চলজুড়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।”
ইরাভানি জোর দিয়ে বলেন: “নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলে, অবিলম্বে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করে এবং তাদের সমস্ত দখলদার বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়।”
তিনি আরও বলেন: “২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
ইরভানি আরও বলেন: আগ্রাসনকারীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একটি ঘটনায়, মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয় ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যার ফলে ১৬৮ জনেরও বেশি ছাত্রী শহীদ হয়।
তিনি জানান: ৮ এপ্রিল পর্যন্ত, অন্তত ৩,৩৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ৭০০টিরও বেশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই ইরানি কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন: যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সরকারকে অবশ্যই সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে আনা ভিত্তিহীন অভিযোগ তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে ইরভানি বলেন: “একটি দখলদার ও আগ্রাসী সরকার হিসেবে, অন্য রাষ্ট্রকে পরামর্শ দেওয়া বা অভিযুক্ত করার কোনো আইনি, নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার ইসরায়েলি প্রতিনিধির নেই।”#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন