৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান: অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল মিরপুরের চেনা আঙিনায়। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানোর এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাকি কেবল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। এই নিয়ে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বোলারদের বিধ্বংসী বোলিং আর ব্যাটারদের অদম্য ধৈর্যের পরীক্ষায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আরেকটি চক্রপূরণ করল বাংলাদেশ। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এখন কেবল ইংল্যান্ডই বাকি রইল, যাদের বিপক্ষে এখনো ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা।
শূন্য রানে ৩ উইকেট: অস্ট্রেলিয়ার লজ্জার রেকর্ড
বৃহস্পতিবার দুপুরে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপে পড়ে সফরকারীরা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের ১০২৪ ম্যাচের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে লজ্জার রেকর্ডের মুখোমুখি হয় জশ ইংলিসের দল।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তাসকিন। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান একে একে ফিরিয়ে দেন কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে। এরপর তানভীর ইসলামের আঘাতে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। সপ্তম উইকেটে জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেনের ১০৩ রানের প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ৪১তম ওভারে তাসকিনের জোড়া আঘাতে আবার ধাক্কা খায় তারা। শেষ পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন ও মোস্তাফিজ ৩টি করে এবং তানভীর ২টি উইকেট নেন।
ডিএলএস মেথড ও রান তাড়া
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের পর বৃষ্টি নামলে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই তানজিদ তামিমের উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুজনে গড়েন ৮৬ রানের চমৎকার জুটি। ব্যক্তিগত ৪২ রানে সৌম্য রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন। এরপর সহ-অধিনায়ক শান্তও ৪২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। আউট হওয়ার আগে অবশ্য দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দ্রুততম ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত।
এরপর লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (৩ বাউন্ডারিতে ১৫) দ্রুত বিদায় নিলে ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
মিরাজ-হৃদয়ের চোয়ালবদ্ধ লড়াই
১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর উইকেটে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি বোলারদের একের পর এক বাউন্সার সামলে ৪৯ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। ম্যাচের নাটকীয়তা বাড়ে যখন নাথান এলিসের একটি বাউন্সার সরাসরি আঘাত করে মিরাজের হেলমেটে। মাঠে বমি করার পরও মাঠ ছাড়েননি এই লড়াকু অধিনায়ক।
রাইলি মেরেডিথের ওভারে ছক্কা ও চার মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন হৃদয় (৫৫ বলে ৪০*)। আর ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন ২২ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক মিরাজ।
পার্সটুডে/এমএআর/১১