২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বাজারদরের চালচিত্র
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160234-২০২৬_২৭_অর্থবছরের_প্রস্তাবিত_বাজেট_অর্থনৈতিক_পুনরুদ্ধার_ও_বাজারদরের_চালচিত্র
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারেরও প্রথম বাজেট। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ আকারের এই বাজেটটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
(last modified 2026-06-11T15:07:43+00:00 )
জুন ১১, ২০২৬ ২০:২৮ Asia/Dhaka
  • বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
    বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি বিএনপি সরকারের বর্তমান মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারেরও প্রথম বাজেট। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ আকারের এই বাজেটটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

বাজেটে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন এনে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা (যা মোট বাজেটের ৩৩.৭০ শতাংশ)। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা (৬৬.৩০ শতাংশ)।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ‘থ্রিআর’ কৌশল

অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার ও বেসরকারি খাতের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ‘থ্রিআর’ (3R) কৌশল ঘোষণা করেছেন। এই পরিকল্পনাটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

১. রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন (১ম বছর): এক বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।

২. রেস্টোরেশন (২য় ও ৩য় বছর): বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ।

৩. রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন (৫ম বছর): আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলা।

এই কৌশল বাস্তবায়নে পুঁজিবাজার, বন্ড বাজার শক্তিশালীকরণ এবং 'বিনিয়ন্ত্রণকরণ'-এর মাধ্যমে সব বিনিয়োগসেবাকে এক ছাতার নিচে এনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাজারদরের খতিয়ান: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমবে কোনটির?

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিনির্ভর কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। পক্ষান্তরে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও প্রযুক্তি খাতের বিকাশে বিপুল সংখ্যক পণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে।

 দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের:

সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১০ শলাকার সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য স্তর (৬২ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত) বাড়ানো হয়েছে। নিকোটিন গ্র্যানুলস ও পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

জ্বালানিচালিত গাড়ি: ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতার পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২% থেকে বাড়িয়ে ১৫৬% করা হয়েছে।

বাইসাইকেল ও পার্টস: যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১৫% থেকে ২৫% করার পাশাপাশি ৫% রেগুলেটরি শুল্ক যুক্ত হয়েছে।

কাগজের কাঁচামাল: গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৫% করা হয়েছে।

অন্যান্য পণ্য: ১২০০ ওয়াটের নিচের ডিসি মোটর, আমদানিকৃত কাজুবাদাম, জিপসাম বোর্ড ও শিট, ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার ও হিমায়িত মাছের দাম বাড়তে পারে।

দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের:

৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য: ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে।

 প্রযুক্তি পণ্য: ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 পরিবেশবান্ধব গাড়ি: ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে।

 চিকিৎসা ও ওষুধ: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে। ক্যানসারের ওষুধসহ ৯টি নতুন কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে।

 মসলা ও খেজুর: জেরা, এলাচি, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলা এবং খেজুর আমদানির ৫% নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 সোনার গয়না: সোনা সরবরাহে উৎসে কর ৫% থেকে কমিয়ে ০.৫% করায় অলঙ্কারের দাম কমতে পারে।

অন্যান্য: শিশুখাদ্যের কাঁচামাল, বাদ্যযন্ত্র (গিটার, পিয়ানো), সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম এবং লিপস্টিক-ফেসওয়াশের মতো প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মত: নিত্যপণ্য ও প্রযুক্তিতে শুল্ক কমানোর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়, যা সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কমাবে। তবে এর প্রকৃত সুফল বাজারে কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে কার্যকর বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

পার্সটুডে/এমএআর/১১