রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি রাজনৈতিক: মিয়ানমার
https://parstoday.ir/bn/news/world-i31477-রোহিঙ্গাদের_ওপর_দমন_পীড়ন_বন্ধের_দাবি_রাজনৈতিক_মিয়ানমার
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা তথা ওআইসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানানোয় মিয়ানমার সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়া এ বিষয়ে ওআইসি’র জরুরি বৈঠকের আয়োজক হওয়ায় দেশটির নিন্দা জানিয়েছে মিয়ানমার।
(last modified 2026-04-22T13:03:21+00:00 )
জানুয়ারি ২১, ২০১৭ ১৫:২১ Asia/Dhaka
  • রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি রাজনৈতিক: মিয়ানমার

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা তথা ওআইসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানানোয় মিয়ানমার সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়া এ বিষয়ে ওআইসি’র জরুরি বৈঠকের আয়োজক হওয়ায় দেশটির নিন্দা জানিয়েছে মিয়ানমার।

গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা তথা ওআইসি’র এক জরুরি বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-অভিযান ও অবর্ণনীয় নৃশংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের কাছে দাবি জানান। 
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (শনিবার) এক বিবৃতিতে বলেছে, এটা ‘দুঃখজনক’ যে মালয়েশিয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশার বিষয় আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। মালয়েশিয়ার সরকার ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য’ রোহিঙ্গা সংকটের অপব্যবহার করছে বলেও ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়। 

মিয়ানমারের সীমান্ত-রক্ষীদের ওপর  অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের এক হামলার অজুহাতে দেশটির রাখাইন প্রদেশে মুসলমানদের ওপর দমন-অভিযান শুরু করে সেখানকার সশস্ত্র বাহিনী। গত অক্টোবর মাসের কথিত ওই হামলায় নয় সীমান্ত-রক্ষী নিহত হয়। আর এরপর সশস্ত্র বাহিনীর দমন-অভিযানে মিয়ানমারের অন্তত ৪০০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যা করা হয়। সরকারি সেনারা মুসলমানদের আড়াই হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসা ধ্বংস করেছে বলেও খবর এসেছে। মিয়ানমারে সরকারি সেনা অভিযানের সময় তিনটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়। 

মিয়ানমার সরকার রাখাইনের মুসলমানদের কাছে মানবিক ত্রাণ সাহায্য পৌঁছতে দিচ্ছে না এবং সেখানে সংবাদ মাধ্যমগুলোকেও তৎপরতা চালাতে দেয়া হচ্ছে না।মিয়ানমারর রাখাইন বা আরাকান প্রদেশে মুসলমানদের সংখ্যা ১১ লাখ। শরণার্থী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে,  গত অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে।

৫৭টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ওআইসি রাখাইনে হস্তক্ষেপ করতে জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা জোরদার তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অভিযানে পরিণত হতে পারে। সংস্থাটির মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত সাইয়্যেদ হামিদ আলবার রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষা করতে বিশ্ব-সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমরা কম্বোডিয়া ও রুয়ান্ডার মতো আরেকটি গণহত্যা দেখতে চাই না। 

জাতিসংঘও এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সম্প্রদায়গুলোর অন্যতম বলে উল্লেখ করেছে।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি মিয়ানমার সফর শেষে শুক্রবার এক বিবৃতিতে রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুর্বিষহ বলে বর্ণনা করেছেন। #    

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/২১