মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে: এইচআরডব্লিউ
https://parstoday.ir/bn/news/world-i46539-মিয়ানমারের_সেনাবাহিনী_মানবতাবিরোধী_অপরাধ_করে_যাচ্ছে_এইচআরডব্লিউ
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আখ্যা দিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৭ ০৮:৪০ Asia/Dhaka
  • নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু
    নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আখ্যা দিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৮টার দিকে নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, বলপ্রয়োগে উচ্ছেদের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুরুতরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী যে নিপীড়ন চালিয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রগুলো হলো: ক) কোনও জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করা, খ) হত্যা, গ) ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সন্ত্রাস এবং ঘ) আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম স্ট্যাচু’র বিবেচনায় নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড করা।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ এবং ২০১৬ সালে উগ্র বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং রাখাইনের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্তরা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তখনও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য বার্মা সরকারকে দায়ী করেছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আইসিসির রোম স্ট্যাচু এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধ হলো এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যা জেনেশুনেই কোনও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিস্তৃত ও কাঠামোবদ্ধ হামলা আকারে পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের হামলা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় অথবা সাংগঠনিক নীতির অংশ হতে হবে। আন্তর্জাতিক আইনি বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী এ হামলা হতে হবে বিস্তৃত কিংবা কাঠামোবদ্ধ, তবে দুটোই হওয়া প্রয়োজন। হামলার বিস্তৃতর মানে হলো ‘অপরাধের মাত্রা কিংবা ঘটনার শিকার মানুষদের সংখ্যা’ এবং কাঠামোবদ্ধ হামলা দিয়ে বোঝায় ‘পদ্ধতিগত পরিকল্পনা’।

জ্বলছে রোহিঙ্গাদের গ্রাম

এইচআরডব্লিউ’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবতাবিষয়ক আইনে বলা আছে মানবতাবিরোধী অপরাধ যে কেবল সামরিক হামলার ক্ষেত্রে হবে তা নয়। কারণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ সশস্ত্র সংঘাতমুলক প্রেক্ষাপটের মধ্যে কিংবা এর বাইরেও হতে পারে। তাছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মানে যে কেবল একটি এলাকার গোটা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা পরিচালনা করা, তা নয়। হিউম্যান রাউটস ওয়াচ মনে করে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর বিস্তৃত ও কাঠামোবদ্ধ হামলা চালিয়েছে। এর আগে স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, যে এলাকায় জ্বালাও পোড়াও এর আলামত পাওয়া গেছে তা রাখাইন রাজ্যের ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জ্বালাও-পোড়াওয়ের তৎপরতা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।

নিজেদের ঘরবাড়ি পোড়ার দৃশ্য দেখছেন রোহিঙ্গারা

হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদেরকে স্থানান্তরিত ও বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য করেছে। আইসিসি পূর্ববর্তী সব বড় বড় আন্তর্জাতিক অপরাধের দলিলেই বিতাড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছিল, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ২১৪টি গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে।  স্যাটেলাইটে তোলা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ছবিতে রাখাইনের মংডু এবং রাথেডং এলাকায় হাজার-হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গেছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৬