রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের কাছে বাংলাদেশের প্রত্যাশা
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং য়ি বলেছেন, তার দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিজ বাসভূমিতে ফেরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বেইজিং সফরকারী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে দেয়া সাক্ষাতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। এ কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর বেইজিংএর প্রভাবকে কাজে লাগানো যাবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা ও জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সহায় সম্বলহীন এসব শরণার্থীরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাংলাদেশ নিজেই নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে চরম সংকটে জর্জরিত হওয়ায় এতো বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতা দেশটির নেই। সে কারণে দেশটির সরকার গত কয়েক মাস ধরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়।

শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তিতে সই করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য বেইজিং কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মনে করে, এ ক্ষেত্রে বেইজিং তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এ অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তার ও আস্থা অর্জনের সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে চীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক উইলিয়াম ওবারম্যান মনে করেন, "আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো বোঝাতে চাইছেন মিয়ানমারে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে তাদের কোনো স্বার্থ নেই। কিন্তু কোনো কোনো সূত্রে জানা গেছে মিয়ানমারে প্রথমবার তেলের খনি আবিষ্কার হওয়ার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ তা থেকে সুবিধা নিচ্ছে। এ অবস্থা সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সুবিধাভোগী বৃহৎ শক্তিগুলো তাতে কর্ণপাত করছে না।"
চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং মিয়ানমারের অর্থনৈতিক উন্নতিতে চীনের ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া, জ্বালানি ক্ষেত্রেও রয়েছে দু'দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বাংলাদেশ সরকার মনে করে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় চীন বৃহত্তম ভূমিকা পালন করতে পারে। এর অন্যথায় চীনা সীমান্তের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
যাইহোক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর থেকে বোঝা যায়, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ব্যাপারে দেশটি মিয়ানমারের অসহযোগিতা ও জাতিসংঘের উদাসীনতায় হতাশ হয়ে পড়েছে এবং এ কারণে দেশটি চীনের সহায়তা লাভের চেষ্টা করছে#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০