ট্রাম্পের 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' বাস্তবায়ন অযোগ্য: পম্পেও'র স্বীকারোক্তি
https://parstoday.ir/bn/news/world-i70924-ট্রাম্পের_'ডিল_অব_দ্যা_সেঞ্চুরি'_বাস্তবায়ন_অযোগ্য_পম্পেও'র_স্বীকারোক্তি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' বা শতাব্দির সেরা চুক্তি নামক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালালেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এটির বাস্তবায়নে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করাই মূলত বিতর্কিত এ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুন ০৩, ২০১৯ ১৪:০২ Asia/Dhaka
  • মাইক পম্পেও
    মাইক পম্পেও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' বা শতাব্দির সেরা চুক্তি নামক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালালেও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এটির বাস্তবায়নে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করাই মূলত বিতর্কিত এ পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য।

মাইক পম্পেও ইহুদি নেতাদের এক সমাবেশে বলেছেন "'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি খুব একটা আশাবাদী নন।" তিনি আরো বলেছেন, "আমরা ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিরোধ নিরসন করতে পারব এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। বলা যায়, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অযোগ্য এবং ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত দুই বছর ধরে 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা জারেড কুশনার কিছুদিন আগে বলেছিলেন, রমজানের পর এই পরিকল্পনার বিবরণ প্রকাশ করা হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের হামাসের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পরিষদের প্রধান উসামা হামদান বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পেছনে আমেরিকার দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য জোরদার করা ও এ অঞ্চলের সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনিদের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কেবল দখলদার ইসরাইলের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।"

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরাইল পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে আরো বেশি ছাড় আদায় করার চেষ্টা করছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের আরো বেশি ভূমি ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করার পাশাপাশি বায়তুল মোকাদ্দাসকে বাদ দিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র মেনে নেবে ইসরাইল। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, পশ্চিম তীরে যেসব অবৈধ ইহুদি উপশহর রয়েছে সেসবই দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে একীভূত করা হবে যার অর্থ হচ্ছে অতী অল্প জায়গা নিয়ে ফিলিস্তিন নামক রাষ্ট্র টিকে থাকবে যা পূর্বেকার চুক্তিগুলোর লঙ্ঘন। এমনকি ক্ষুদ্র এ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কোনো সেনাবাহিনীও থাকতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' অনুযায়ী ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে আসারও কোনো অধিকার থাকবে না।

অথচ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৪ নম্বর প্রস্তাবে ফিলিস্তিন শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরে আসার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা জাতিসংঘ নীতিমালার লঙ্ঘন হওয়ায় ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের জন্য গঠিত রাশিয়া ও ইউরোপকে নিয়ে গঠিত কমিটির সদস্য দেশগুলো এর বিরোধিতা করেছে। মস্কো 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি'কে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সব নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলের সঙ্গে আপোষকারী ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষও ট্রাম্পের এ পরিকল্পনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন 'ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি' বাস্তবায়নের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বৈঠকের আয়োজন করেছে যাতে এটির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা যায়। সেইসঙ্গে এই বৈঠকে প্রস্তাবের কিছু অংশ প্রকাশ করার কথা রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে এরই মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় মানামা বৈঠকের সাফল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও'র সন্দেহ প্রকাশ যথার্থ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩