গণতন্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার নামে সামরিক আগ্রাসন চালানোর দিন শেষ হয়ে গেছে : ল্যাভরভ
আফগানিস্তানে মার্কিন বিপর্যয় প্রমাণ করল ওয়াশিংটন আর বিশ্ব-মোড়ল নয়
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের লজ্জাজনক ও তড়িঘড়ি প্রত্যাহারের দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন, যেই পরাশক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে না সে কোনো বিশ্বশক্তিই নয় বরং এক বড় শক্তি মাত্র!
অবশ্য তিনি ব্রিটেনের অক্ষমতার দিকেও ইঙ্গিত করে বলেছেন ব্রিটেনও গত ৫০ বছরে কোনো বড় সেনাদলকে মোতায়েন করতে পারেনি এবং এই দেশটিও আর পরাশক্তি নয়। অন্য কথায় শীর্ষস্থানীয় সরকারি ব্রিটিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি স্বীকার করলেন যে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দুই ইংরেজ মিত্র শক্তি আমেরিকা ও ব্রিটেনের দাপট বিশ্ব অঙ্গনে পতনশীল।
পরাশক্তি হিসেবে মার্কিন সরকারের দাপট যে অনেক কমে গেছে এটা অনেক বছর আগেই শোনা যাচ্ছিল। তবে এই প্রথম মার্কিন সরকারেরই এক মিত্র শক্তির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি তা প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন এবং এমনকি এটাও স্বীকার করলেন যে মার্কিন সরকার এখন আর বিশ্বশক্তিও নয়, এক বড় শক্তি মাত্র!
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তানে মার্কিন বিপর্যয়ের সাফাই দিতে গিয়ে বলেছেন যে অন্তহীন যুদ্ধ থেকে মুক্ত করতেই সেখান থেকে মার্কিন সেনা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে এটা প্রভাবশালী বিশ্বশক্তির অবস্থান থেকে আমেরিকার ক্রমাগত পতনের দিকে এগিয়ে যাওয়ারই অন্যতম নিদর্শন। ব্যাপারটি এতই স্পষ্ট যে এখন ব্রিটেনসহ মার্কিন সরকারের ইউরোপিয় মিত্ররাও এই বাস্তবতা তুলে ধরছেন। তারা বুঝে গেছেন যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক হতে মার্কিন সরকারের ওপর ভরসা করা হবে ভুল পদক্ষেপ এবং মার্কিন সরকার বিপদের সময় কেবল নিজ স্বার্থটাই দেখে অন্যদের একাকি ছেড়ে দিবে।
আর মার্কিন সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও এই বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন বলে ভবিষ্যতে মার্কিন বলদর্পি আচরণ ও রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার দাবির মোকাবেলায় অনেক বেশি কঠোর পদক্ষেপ নেবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার মানে গণতন্ত্র ছড়িয়ে দেয়ার নামে সামরিক আগ্রাসন চালানোর দিন শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার ঘটনাকে দেশগুলোর পুনর্গঠনে সামরিক মিশন শেষ করার সমতুল্য পদক্ষেপ বলে যে সাফাই দেয়ার চেষ্টা করেছেন তারই আলোকে ল্যাভরভ ওই মন্তব্য করেছেন।
আফগানিস্তানে বিপর্যয়ের কারণে বাইডেনকে দীর্ঘ চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে মার্কিন মিশনের ব্যর্থতাও স্বীকার করেছেন বাইডেন এবং এ ধরনের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন আর বিশ্বের কোনো দেশেই সামরিক মিশন পাঠাবে না বলে বাইডেন জানিয়েছেন।
অন্য কথায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ক্রমেই মুখ থুবড়ে পড়ছে। অথচ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মার্কিন সরকার নিজেকে বিজয়ী শক্তি ও বিশ্বের একমাত্র মোড়ল হিসেবে ধরে নিয়ে নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থার শ্লোগান দিত। সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মার্কিন সাম্রাজ্য পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বিশ্ব-সমাজ ও আইনের তোয়াক্কা না করে একদেশদর্শিতা তীব্রতর করে মার্কিন সরকারকে বিশ্ব অঙ্গনে একঘরে করার কাজটা জোরদার করেছিলেন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন শক্তির শিয়ালের লেজ তুলে পলায়নের মত লজ্জাজনক অবস্থা মার্কিন মোড়লের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করছে ও করবে। আর ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এ সংক্রান্ত হতাশা ও ক্ষোভও ফুটে উঠেছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/৩