'যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নীতির কারণে জাতিসংঘ একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে'
https://parstoday.ir/bn/news/world-i99828-'যুক্তরাষ্ট্রের_দ্বৈত_নীতির_কারণে_জাতিসংঘ_একটি_অথর্ব_প্রতিষ্ঠানে_পরিণত_হয়েছে'
মহাশয়, ২৬ অক্টোবর দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রেডিও তেহরানের ভাষ্যকারের পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই পত্রের অবতারণা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১০, ২০২১ ১৪:১৫ Asia/Dhaka
  • 'যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নীতির কারণে জাতিসংঘ একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে'

মহাশয়, ২৬ অক্টোবর দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রেডিও তেহরানের ভাষ্যকারের পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার এই পত্রের অবতারণা।

মানব পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সার্বজনীন সহজাত, অহস্তান্তরযোগ্য এবং অলঙ্ঘনীয় অধিকার-ই হলো মানবাধিকার। মানব অধিকার প্রতিটি মানুষের এক ধরনের অধিকার যেটা তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য। মানুষ অধিকার ভোগ করবে এবং চর্চা করবে। তবে এ চর্চা অন্যের ক্ষতিসাধন ও প্রশান্তি বিনাশের কারণ হতে পারবে না। মানবাধিকার সব জায়গায় এবং সবার জন্য যথাসম্ভব প্রয়োজ্য। এ অধিকার একসাথেই সহজাত ও আইনগত অধিকার। স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম দায়িত্ব হলো এসব অধিকার রক্ষণাবেক্ষণ করা। বিশ্বব্যাপী মানব অধিকারের বিষয়টি এখন আরও প্রকটভাবে অনুভূত হচ্ছে, যখন আমরা দেখছি যে, মানুষের অধিকার সমূহ আঞ্চলিক যুদ্ধ, সংঘাত, হানাহানির কারণে বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

মানবাধিকারের সাথেই গণতন্ত্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অন্যভাবে বললে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র একটি অপরটির পরিপূরক। পাশ্চাত্যের বেশিরভাগ দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি নিজেদের গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে থাকে। এর পাশাপাশি তারা নিজ দেশ ও অন্য সব দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট বিশ্ববাসীকে এমন ধারণা দিতে সদা তৎপর। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি, পাশ্চাত্যের এসব দেশ তাদের নিজেদের দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে নিজ নিজ দেশের ক্ষেত্রে যে দৃষ্টিভঙ্গি তা সমভাবে অন্য অনেক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি আগ্রাসন আক্রমণ বিশ্ব বিবেকের কাছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ে দ্বৈত নীতির কারণে বিশ্বে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমহ্রাসমান এবং জাতিসংঘকে একটি পঙ্গু ও অথর্ব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। মানবাধিকারের দাবিদার আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোর আচরণের কারণে বিশ্বব্যাপী নৈরাজ্য ও বিচার চলছে। ইরান সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যেভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যা কিনা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

ধন্যবাদান্তে

বিধান চন্দ্র সান্যাল

ঢাকা কলোনী, বালুরঘাট

দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।