'সিন্ডিকেটের কবলে রোজার বাজার'
সুপ্রিয় পাঠক! আমাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ২৮ মে শনিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঢাকা:
পঞ্চম ধাপে প্রাণ গেল ছয়জনের -প্রথম আলো
আগামী দিনে ১ কোটি ৩০ লাখ শিশু শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাবে -গণশিক্ষামন্ত্রী- কালের কন্ঠ
নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৮ জনের- সমকাল
কন্যা সন্তানের বাবা হলেন রেলমন্ত্রী-মানবজমিন
বিমানবন্দর নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস জাপানের-বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভোটার শূন্য কেন্দ্র, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫৫ জন নির্বাচিত- ইত্তেফাক
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার শীর্ষে বাংলাদেশ-নয়া দিগন্ত
‘আসলাম চৌধুরী রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত হচ্ছে’-মানবকন্ঠ
সিন্ডিকেটের কবলে রোজার বাজার-ইনকিলাব
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত আইনে চিকিৎসকদের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম - -জনকন্ঠ
কোলকাতা:
তৃণমূলের বিজয় মিছিলে বোমা ফেটে জখম ১০- আনন্দবাজার
কাজ ফেলে রাখা যাবে না, মন্ত্রীদের কড়া নির্দেশ মমতার- সংবাদ প্রতিদিন
তৃণমূলকে দেখে নেওয়ার হুমকি বি জে পি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের - দৈনিক আজকাল
কল ড্রপ: কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ট্রাই-বর্তমান
পাঠক! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রথমেই দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচনের খবর তুলে ধরছি।
পঞ্চম ধাপের নির্বাচন শেষ, ভোট গণনা চলছে। তবে নির্বাচনি সহিংসতায় মারা যাওয়ার সংখ্যার ভিন্নতা রয়েছে।
নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেল সাতজনের-কালের কন্ঠ/তবে মানবকন্ঠ-লিখেছে- ৮
পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আজ শনিবার নির্বাচনী সহিংসতায় জামালপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জামালপুরে এক কিশোরসহ চারজন, নোয়াখালীতে এক বৃদ্ধ, চট্টগ্রামে এক সদস্য প্রার্থী ও কুমিল্লায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু হয়। এ সময় ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ভোটার শূন্য কেন্দ্র, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৫৫ জন নির্বাচিত হয়েছে বলে ইত্তেফাকের একটি খবরে বলা হয়েছে।
জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে: রিজভী-ইত্তেফাক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নির্বাচন কমিশনের মদদে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহাড়ায় পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনেও জনগণের ভোটাধিকার লুট করে নিয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি ক্লাব ঘরে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোকের প্রাণহানি হয়েছে তারপরেও ইসি চোখ বন্ধ করে বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এ নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে।
নির্বাচন কমিশন জেগেও ঘুমিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নামে তামাশা হচ্ছে। আজ দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
নির্বাচন তুলনামূলক ভালো ভোট হয়েছে : ইসি-ইত্তেফাক
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এবার 'তুলনামূলক ভালো' ভোট হয়েছে বলে জানালেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ। অনিয়ম, গোলযোগ, সংঘর্ষের মধ্যে পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ চললেও শনিবার দুপুরে প্রথম চার ঘণ্টার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মেন্দির সঙ্গে জয়ের বৈঠক সাজানো নাটক: হানিফ-ইত্তেফাক
ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি আল সাফাদির সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠকের খবর সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওই খবরের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিবিসি বাংলাকে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এলাকার নিয়ন্ত্রণে ব্যাস্ত এমপিরা-বাংলাদেশ প্রতিদিন
দলের এক ত্যাগী নেতাকে হত্যার অভিযোগে টাঙ্গাইলের সরকারদলীয় এমপি আমানুর রহমান রানা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পলাতক রয়েছেন তার অন্য ভাইয়েরাও। এক সময় টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রক ছিলেন রানা পরিবার। টাঙ্গাইলের টেন্ডার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করতেন তারা। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের সরষপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা খুন করাসহ ১৩ মামলার আসামি বিএনপির ক্যাডারদেরকে রহস্যজনক কারণে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে যুবলীগে। সরকারি দলে যোগদানের পর থেকেই ওই ক্যাডারদের অত্যাচারে এলাকাছাড়া হন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অবশ্য ওই ক্যাডারদের আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। অথচ প্রভাবশালীদের কারণে থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। সারা দেশের চালচিত্র প্রায় একই রকম। প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের। অনেকেই দাপুটে অবস্থান এভাবে তৈরি করেছেন যেন, সরকারি দল করলে ‘সাত খুন মাফ’। বিশিষ্টজনদের মতে, আইনের শাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে সারা দেশে খুন ও সন্ত্রাস বাড়বে। এক্ষেত্রে সরকারি দল হবে সরকারি দলের প্রতিপক্ষ। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে। ক্রমেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে সমাজ ব্যবস্থা। বিব্রত হচ্ছে খোদ সরকার ও আওয়ামী লীগ।
সিন্ডিকেটের কবলে রোজার বাজার-ইনকিলাব
পর্যাপ্ত মজুদ, আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমতি, বাজারে কঠোর নজরদারির ঘোষণা এবং ব্যবসায়িদের সাথে দফা দফায় বৈঠক করেও কোন স্বস্তি আসেনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। অসাধু ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে লাগামহীন দাম বাড়ছে বাজারে। পণ্য প্রতি ধীরে ধীরে এবং একের পর একটি পণ্যের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে অস্থিতিশীল করা হয়ে বাজার। মন্ত্রী-ব্যবসায়িদের কোন ঘোষণা কাজে আসেনি। দাম কমাতে সাহায্য করেনি বাণিজ্য সচিবের দেয়া পর্যাপ্ত মজুদের তথ্য। সব মিলিয়ে রোজার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। গত দুই মাস আগের দামের সাথে কোন পণ্যেরই দাম মিলছে না। সামনে সপ্তাহে আরো দাম বাড়তে পারে শঙ্কা খুচরা বিক্রেতাদের।
পাঠক ! বাংলাদেশের পর এবার ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খবরের চুম্বক অংশ তুলে ধরছি।
নতুন সরকারের প্রথম চৌকাঠে হোঁচট খেলেন বিরোধীরা-আনন্দবাজার
বিরোধীরা শেষ পর্যন্ত নেতির পথেই হাঁটলেন। মানুষের রায়ে নির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করলেন তাঁরা। এবং, দল ও সরকারের মধ্যে ব্যবধান-রেখাটাকে বিস্মৃত হয়ে শেষ পর্যন্ত অসম্মান করলেন গণতন্ত্রকেই।
এ কথা ঠিক, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, তাতে শাসক দলের জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ যে সারগর্ভহীন, একান্ত আলোচনায় শাসক-নেতারাও তা বলবেন না। মানুষের রায় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরে বিরোধী কণ্ঠস্বরের উপর আক্রমণ হেনে শাসক যদি গণতন্ত্রের অসম্মান করে থাকে, ততটাই অসম্মান বয়কট-পন্থার মাধ্যমে করল বিরোধীরা।
কাজ ফেলে রাখা যাবে না, মন্ত্রীদের কড়া নির্দেশ মমতার-সংবাদ প্রতিদিন
শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো কাজে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীরা৷ মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সাবইকে দফতর বণ্টন করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ অনেক মন্ত্রীই বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় নিজেদের দফতরের প্রধান সচিব ও শীর্ষ অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করে নেন৷
কারণ, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সহকর্মীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, দফতরের কোনও কাজ ফেলে রাখা যাবে না৷ ফাইল যেন কোথাও আটকে না থাকে৷ সময়ের কাজ সময়েই করতে হবে৷ পারলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তা শেষ করুন৷ নেত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরমুহূর্ত থেকেই সংশ্লিষ্ট দফতরের কাজে নেমে পড়েছেন সমস্ত মন্ত্রীরা৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৮