অক্টোবর ০৩, ২০২২ ১৯:৪৮ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা, সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আজকের অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমরা তিনজন। আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজকের অনুষ্ঠানও শুরু করব একটি হাদিস শুনিয়ে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,  'শেষ জামানায় সবচেয়ে কম যে জিনিস থাকবে তা হলো- বিশ্বস্ত ভাই আর হালাল অর্থ।'

আকতার জাহান: সত্যিই ভেবে দেখের মতো একটি হাদিস। আমরা সবাই নিজ নিজ ভাইয়ের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার পাশাপাশি হালাল উপার্জনের চেষ্টা করব- এ কামনায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

আসরের প্রথম মেইলটি এসেছে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে। আর পাঠিয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন।

তিনি লিখেছেন, "৩ সেপ্টেম্বর শনিবার রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইরানিদের অবদান’ আমার খুব ভালো লেগেছে। ওই আসরে আল-বিরুণীকে নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঝর্ণা ও ফোয়ারার পানি কিভাবে উপরে উঠে সে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে কূয়া বা পুকুরের পানি কিভাবে পাহাড়ের চূড়ায় বা মিনারের উপরে তোলা যায়, সে তথ্য তিনি বাৎলে দেন। আজ যে আমরা দালানের উপরে পানি তুলি, এটি তাঁরই শিক্ষা। অনুষ্ঠানটি শুনে বুঝতে পারলাম, আজকের পশ্চাৎপদ মুসলিম জাতি একদিন জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছিল। মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে আবার যেন সেই সোনালী দিনগুলো ফিরে আসে- সেটাই প্রত্যাশিত।"

নাসির মাহমুদ: আল-বিরুণীকে নিয়ে আরও অনেক কথাই লিখেছেন শাহাদত ভাই। তো সময়ের স্বল্পতার কারণে তার পুরোটা প্রচার করা গেল না বলে আমরা দুঃখিত। আর হ্যাঁ, চমৎকার লেখাটির জন্য শাহাদত ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের ইমেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে এটি পাঠিয়েছেন সিনিয়র শ্রোতা বিধান চন্দ্র সান্যাল।

তিনি লিখেছেন, ‌"বর্তমান গণমাধ্যমের অন্যতম যুগোপযোগী গণমাধ্যম হল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় বেতার রেডিও তেহরান। বেতার সম্প্রচার ও ওয়েবসাইটের প্রচারণার মাধ্যমে দিয়ে চলেছে বাঙালি শ্রোতাদের সঞ্জীবনী সুধা, যা আমাদের চলার পথের পাথেয়। অপরিমেয় অধ্যবসায়, মানসিকতা, মহানুভবতা, তিতিক্ষা ও পরোপচিকীর্ষার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে রেডিও তেহরান বাঙালি শ্রোতাদের স্মরণে- মননে- চিন্তনে- স্বপ্নে- জাগরণে চিরভাস্বর হয়ে আছে। প্রকৃত পক্ষেই রেডিও তেহরান বিস্ময়ের এক পরম বিস্ময়- সমাজ জীবনের দর্পন। রেডিও তেহরান দুই বাংলার শ্রোতাদের জীবনের সমাজের একটি অংশ। তুলনাহীন শ্রোতাপ্রেমে রেডিও তেহরান হয়ে উঠেছে সকল শ্রোতার প্রকৃত আত্মার আত্মীয়।"

আশরাফুর রহমান: রেডিও তেহরান সম্পর্কে চমৎকার মূল্যায়নের জন্য বিধান চন্দ্র সান্যাল আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসরের পরের মেইলটিও ভারতের। এটি এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে। আর পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের নিয়মিত শ্রোতা  তরুণ মৈত্র।

তিনি লিখেছেন, "গত সেপ্টেম্বর তারিখে রেডিও তেহরানের খবরে জানতে পারলাম যে, মুর্শিদাবাদ জেলার সাথে বাংলাদেশের স্থল পথে যোগাযোগ চালু করার জন্য একজন সংসদ সদস্য আবেদন জানিয়েছেন। সেই খবরটা রেডিও তেহরান থেকেই জানতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত গবিত বোধ করি। তাছাড়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর প্রয়ান দিবসে রংধনু আসরের বিশেষ অনুষ্ঠানটি চমকপ্রদ ছিল। রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ রেডিও তেহরান আমাদের অন্তরে কথা বলে।"

আকতার জাহান: এ শ্রোতাবন্ধুর শেষ কথাটি আমাদের আজীবন মনে থাকবে। তো সুন্দর মতামতের জন্য তরুণ মৈত্র আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের এবারের মেইলটি পাঠিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তার ঠিকানা হচ্ছে জেলা: কিশোরগঞ্জ, থানা: কুলিয়ারচর, গ্রাম: গোবরিয়া। তিনি স্বপ্নের তরী বেতার শ্রোতা ক্লাব-এর সভাপতি।

তিনি নিজেকে রেডিও তেহরানের একজন নতুন শ্রোতা হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, “পারস্য উপসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগর বেয়ে তরঙ্গ ধ্বনি ছুটে আসে লাল-সবুজ পতাকাখচিত সোনার বাংলায়। রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান আমায় মুগ্ধ করে চলেছে দিনকে দিন। জ্ঞানের পরিধিকে করে চলেছে শানিত। রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের আমি একজন ভক্ত শ্রোতা। নিয়মিত লেখালেখি না করলেও অনুষ্ঠান শুনবার চেষ্টা করি নিয়মিত। শ্রোতাদের ভালোলাগা ভালোবাসাকে অতি গুরুত্বের সাথে বিচার বিশ্লেষণ করে অনুষ্ঠান প্রচার করে চলেছে রেডিও তেহরান। রেডিও তেহরানের প্রত্যেকটা আয়োজনে থাকে জ্ঞানের ছোঁয়া। বিশ্বকে যেন হাতের মুঠোয় মনে হয়, বিশ্বের আনাচে-কানাচে ঘটে যাওয়া তরতাজা খবরাখবর আমরা জেনে যাচ্ছি নিমিষেই।”

নাসির মাহমুদ: বাহঃ চমৎকার ভাষায় লেখা একটা চিঠি পড়ে শোনালেন। এ শ্রোতা নবীন হলেও চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে আমাদের বেতারের সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তো ভাই জাহাঙ্গীর আলম, আশা করি এভাবেই মাঝেমধ্যে লিখে আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন।

এবারের চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমঙ্গের  উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোবরডাঙ্গা থানার ঝনঝনিয়া গ্রাম থেকে। আর পাঠিয়েছেন এম মেহেদী সানি।

আশরাফুর রহমান: মেহেদী সানির নামটা আজই প্রথম শুনলাম। তিনি নতুন শ্রোতা নাকি!

নাসির মাহমুদ: না, তিনি নতুন শ্রোতা নন তবে নতুন পত্রলেখক বলতে পারেন। বিষয়টি স্পষ্ট হবে তার চিঠি পড়লেই। আমি বরং তার চিঠির কিছু অংশ পড়ে শোনাচ্ছি। মেহেদী ভাই লিখেছেন, “রেডিও তেহরান নামটির সঙ্গে পরিচিতি খুব ছোট থেকেই। আব্বুর মুখে প্রথম শুনেছিলাম নামটি। তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। যতটা মনে পড়ে আব্বু মাগরিবের নামাজ শেষ করে বইপত্র নিয়ে বসতেন পাশে থাকতো রেডিও। নিদিষ্ট সময়ে সময়ে বেজে উঠতো রেডিওটি। যথারীতি মা আমাকে নিয়ে পড়াতে বসতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি আমার খেয়াল থাকতো আব্বুর রেডিওতে। মাঝে মাঝে আব্বুর কাছে জানতে চাইতাম রেডিওতে এখন কী হচ্ছে? আব্বু উত্তরে কখনও বলতেন রেডিও তেহরানের বিশ্ব সংবাদ হচ্ছে। বিশ্ব সংবাদ শেষ হলে আমাকে কোলে বসিয়ে সারাংশ শোনাতেন।  আব্বু বলতেন- রেডিও তেহরান মুসলিম বিশ্বের সেরা সংবাদ পরিবেশন করে থাকে। পরবর্তীতে উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে আব্বুর সাথে আমিও রেডিও তেহরানের একজন নিয়মিত শ্রোতা হয়ে উঠি। আজও ব্যতিক্রম হয় না।”

আকতার জাহান: মেহেদী সানি ভাই তার রেডিও তেহরান শোনার স্মৃতিচারণ করে একটি বড়সড় লেখা পাঠিয়েছেন। আমরা তা আমাদের অনলাইন সংস্করণ পার্সটুডেতে আপলোড করেছি। আগ্রহীরা পড়ে নিতে পারেন। তো চমৎকার লেখাটির জন্য মেহেদী সানি ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের বেশকিছু চিঠির জবাব দেওয়া হল। এবার আমরা সরাসরি কথা বলব ভারতের এক শ্রোতাবন্ধুর সঙ্গে। প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।

আশরাফুর রহমান: শ্রোতাবন্ধুরা, এবার আমরা রেডিও তেহরানের ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে লেখা একটি স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধের কিছু অংশ তুলে ধরব। এটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থেকে নজরুল ইসলাম।

তিনি লিখেছেন, "সম্ভবত ৮০'র দশকের শেষের দিকের কোন এক মাহেন্দ্রক্ষণ। কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান মারফত রেডিও তেহরানের সন্ধান পাই। ওনার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে লিখে পাঠালাম চিঠি এবং প্রতি উত্তরের অপেক্ষার  প্রহর গুণতে লাগলাম। মাস দেড়েকে মধ্যে অনুষ্ঠান সূচিসহ উপহার সামগ্রী পেলাম। অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম সেদিন। সেই শুরু।"

আকতার জাহান: রেডিও তেহরানের সাথে নজরুল ভাইয়ের পথচলা শুরু কিভাবে হলো তা জানলাম। রেডিও তেহরান সম্পর্কে ওনার বর্তমান মূল্যায়ন কেমন সে সম্পর্কে তিনি কিছু লিখেছেন কি?

নাসির মাহমুদ: হ্যাঁ, লিখেছেন মানে! পুরো লেখাজুড়েই তিনি রেডিও তেহরান সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন তিনি। সেখান থেকে দুটো বাক্য পড়ে শোনাচ্ছি। নজরুল ভাই লিখেছেন, "সব বেতার যখন রেডিও প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে তখন রেডিও তেহরান তার সংগ্রামী কণ্ঠস্বর দিয়ে সগৌরবে বাঙালি শ্রোতাদের কাছে বেচে আছে মাথা উঁচু করে। মজলুমের হাহাকার ও আর্তনাদ তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়ে আকাশ বাতাস ও অন্তরীক্ষে পৌঁছে যাক।"

আশরাফুর রহমান: নজরুল ভাইকে ধন্যবাদ স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়নধর্মী এই লেখাটির জন্য। আশা করি আবারো লিখবেন।

আসরের পরের মেইলটি এসেছে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন নিজামুদ্দিন শেখ।

তিনি লিখেছেন, "সুখের নীড় রেডিও তেহরানের অসাধারণ এক অনুষ্ঠান। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকলে কিভাবে সুখের নীড় গড়া যায়, ইরানি পরিবার কিভাবে সুখের নীড় গড়তে ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবে এবং আদর্শ পরিবার ও ইসলামিক পারিবারিক মূল্যবোধে হযরত আলী (আ.)- এর মূল্যবান উক্তি গুলো অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনলাম। অনুষ্ঠান শোনার পর আমার মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হলো যে. আমরা যদি রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের সুখের নীড় অনুষ্ঠানটি নিয়মিত শুনি এবং আমাদের জীবনে এর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে ইসলাম ও ইরানের আদর্শে আমাদের জীবন ও পরিবার  গড়ে তুলি  তাহলে অবশ্যই আমরা সুখের  নীড়ের সন্ধান পাব।"

একই অনুষ্ঠান থেকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার গোংড়া গ্রাম থেকে আলামিন সেখ  হিরামন পাঠিয়েছেন একটি মেইল। তিনি লিখেছেন, "৪ সেপ্টেম্বর প্রচারিত সুখের নীড় অনুষ্ঠানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। কথা হচ্ছে দেশ আগে- না পরিবার আগে? পরিবার না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। তাই সবার প্রথমে পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।"  

নাসির মাহমুদ: সুখের নীড় অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানানোয় নিজামুদ্দিন শেখ ও আলামিন সেখ হিরামন- আপনাদের দুজনকেই অসংখ্য ধন্যবাদ।

তো শ্রোতাবন্ধুরা, আজকের অনুষ্ঠানও শেষ করব একটি গান শুনিয়ে। মাকে নিয়ে লেখা গানটির গীতিকার কবির বকুল, সুরকার ও শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ।

আশরাফুর রহমান আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে। 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩