জুন ১১, ২০১৬ ১২:৫৪ Asia/Dhaka

পবিত্র রমজানের রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.)'র একটি বিখ্যাত ভাষণে বলেছেন, 'হে মানুষেরা! যে কেউ এই মাসে সৎ আচরণের চর্চা করবে তথা নিজেকে সুন্দর আচরণকারী হিসেবে গড়ে তুলবে সে পুলসিরাত পার হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে সেই বিশেষ দিনটিতে তথা কিয়ামতের দিন যেদিন পাগুলো পিছলে যেতে চাইবে।

যে কেউ এই মাসে তার অধীনস্থ কর্মীদের কাজের বোঝা কমিয়ে দেবে আল্লাহ পরকালে তার হিসাব-নিকাশ সহজ করবেন এবং যে কেউ এই মাসে অন্যকে বিরক্ত করবে না মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামত বা বিচার-দিবসের দিন নিজের ক্রোধ হতে নিরাপদ রাখবেন। যে কেউ কোনো রমজান মাসে কোনো এক ইয়াতিমকে সম্মান করবে ও তার সঙ্গে দয়ার্দ্র আচরণ করবে মহান আল্লাহও বিচার-দিবসে তার প্রতি দয়ার দৃষ্টি দেবেন। যে এই মাসে নিজের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ভালো আচরণ করবে, মহান আল্লাহও বিচার-দিবসে তার প্রতি দয়া করবেন, আর যে এই মাসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে আল্লাহও তাকে নিজ রহমত থেকে দূরে রাখবেন।'

বিশ্বনবী (সা.) রমজান প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, ''যে রমজান মাসে (এ মাসের জন্য) নির্দেশিত বা নির্দিষ্ট ইবাদতগুলো করবে আল্লাহ তাকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। যে এই মাসে ফরজ বা অবশ্য পালনীয় ইবাদত বা দায়িত্বগুলো পালন করবে তাকে অন্য মাসে ওই একই কাজের পুরস্কারের চেয়ে সাতগুণ বেশি পুরস্কার দেয়া হবে। যে রমজান মাসে আমার ওপর সালাওয়াত বা দরুদ পাঠাবে আল্লাহ বিচার দিবসে তার ভাল কাজের পাল্লা ভারী করে দেবেন, অথচ অন্যদের পাল্লা হাল্কা থাকবে।

যে এই মাসে পবিত্র কুরআনের মাত্র এক আয়াত তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে এত সওয়াব দেবেন যে তা অন্য মাসে পুরো কুরআন তিলাওয়াতের সমান হবে।

হে মানুষেরা! বেহেশতের দরজাগুলো এই মাসে তোমাদের জন্য খোলা থাকবে। আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তা তোমার জন্য বন্ধ হয়ে না যায়। রমজান মাসে দোযখের দরজাগুলো বন্ধ রয়েছে, আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তা তোমার জন্য কখনও খুলে না যায়। এই মাসে শয়তানগুলোকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দী রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তারা তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে না পারে।"

এ পর্যায়ে আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)বললেন : আমি প্রশ্ন করলাম, " হে আল্লাহর রাসূল (সা.), এই মাসে সবচেয়ে ভাল কাজ কী?"

তিনি জবাবে বললেন, " হে আবুল হাসান, এই মাসে সবচেয়ে ভাল কাজ হল আল্লাহ যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা।"

বিশ্বনবী (সা.)'র রমজান সংক্রান্ত ভাষণ থেকে আমরা জানতে পারছি যে এই মাসে সবচেয়ে ভালো কাজ হল নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা।

আমরা নিষিদ্ধ কাজ করি দুই কারণে। প্রথমতঃ নিষিদ্ধ কাজ কী কী তা জানা নেই ভালোভাবে। দ্বিতীয়তঃ জানা থাকা সত্ত্বেও মহান আল্লাহর প্রতি ভয়, প্রেম ও লজ্জা না থাকার কারণে। অর্থাৎ কখনও কখনও আমরা জেনে-শুনেও নিষিদ্ধ কাজ করি। শয়তান অনেক সময় নানা কুযুক্তি তুলে ধরে আমাদের মনে যাতে আমরা নিষিদ্ধ কাজ বা পাপে জড়িত হই। যেমন, শয়তান এ কথা বলে যে, আরে তুমি তো অনেক ভালো কাজ কর!- তাই দু-একটা খারাপ কাজ করলে এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না! অথবা, আপাতত জরুরি প্রয়োজন বলে এই খারাপ কাজটি কর, পরে ক্ষমা চেয়ে নিবে আল্লাহর কাছে বা যার ক্ষতি করছি সে ভালো মানুষ বলে তার কাছে পরে ক্ষমা আদায় করা যাবে! কিংবা শয়তান এ কুমন্ত্রণা দেয় যে, আরে এটাতো খুবই ক্ষুদ্র বা ছোটোখাটো পাপ! অথবা আল্লাহ ছাড়া আপাতত অন্য কেউ তো তোমার এ পাপ কাজটি লক্ষ্য করছেন না ইত্যাদি। আসলে এইসব কুযুক্তি বা কুমন্ত্রণা আমাদের ওপর জোরালো হয় ঈমানের দুর্বলতার কারণে এবং খোদা-ভীতি ও আল্লাহর ব্যাপারে যথেষ্ট মাত্রায় লজ্জা না থাকার কারণে।

আমরা অনেক সময় ৪-৫ বছর বয়সের কোনো শিশুর সামনেও কোনো অন্যায় বা মন্দ কাজ করতে লজ্জা পাই কিংবা ভয় পাই এ কারণে যে এই শিশুটা কী ভাববে অথবা সমাজের বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে আমার মন্দ কাজটির কথা হয়তো বলে দেবে! অথচ মহান আল্লাহ আমাদের সব কাজের খবর রাখছেন ও আমাদের দেখছেন বলে জানা সত্ত্বেও মহান আল্লাহকে আমরা ভয়ও করি না বা লজ্জাও পাই না তাঁকে! অর্থাৎ আল্লাহকে আমরা পাপ করার সময় শিশুর চেয়েও কম গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের মনে রাখা উচিত পাপ যত ছোটোই মনে হোক না কেন তা-ও আল্লাহ দেখছেন এবং আল্লাহর সামনেই তা করা হচ্ছে।

তাই বলা হয় কোনো পাপকে ক্ষুদ্র মনে করা হলে তা আল্লাহর দরবারে বড় পাপ হিসেবেই ধরা হয়। আমরা কি কেউ অতি অল্প পরিমাণ মল-মুত্রও খেতে রাজি হব, কিংবা তীব্র ক্ষমতা-সম্পন্ন বিষ অল্প পরিমাণেও খেতে রাজি হব? সামান্য আগুন যেমন বিশাল খড়ের পাহাড় বা বনকে জ্বালিয়ে দেয়, তেমনি সামান্য পাপও পুরো ঈমানকে বরবাদ করে দিতে পারে। কারণ, যে মুহূর্তে মানুষ পাপ করে সেই মুহূর্তের জন্য মানুষ এক ধরনের কুফরিতে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে এই কুফরি বাড়তেই থাকে মনের দিক থেকে বাধা না পাওয়ার কারণে। এবারে শোনা যাক, অর্থসহ তৃতীয় রমজানের দোয়া।

৩য় রমজানের দোয়া

الیوم الثّالث : اَللّـهُمَّ ارْزُقْنی فیهِ الذِّهْنَ وَالتَّنْبیهَ، وَباعِدْنی فیهِ مِنَ السَّفاهَةِ وَالَّتمْویهِ، وَاجْعَلْ لى نَصیباً مِنْ کُلِّ خَیْر تُنْزِلُ فیهِ، بِجُودِکَ یا اَجْوَدَ الاَْجْوَدینَ .

হে আল্লাহ ! আজকের দিনে আমাকে সচেতনতা ও বিচক্ষণতা দান কর। আমাকে দূরে রাখ অজ্ঞতা , নির্বুদ্ধিতা ও ভ্রান্ত কাজ-কর্ম থেকে। এ দিনে যত ধরণের কল্যাণ দান করবে তার প্রত্যেকটি থেকে তোমার দয়ার উসিলায় আমাকে উপকৃত কর। হে দানশীলদের মধ্যে সর্বোত্তম দানশীল। #

 

পার্সটুডে/এআর/১১