মার্চ ১৯, ২০২৩ ১৩:০৩ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশ ও ভারতের পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খবর

শ্রোতাবন্ধুরা! পত্রপত্রিকার পাতার বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। ১৯ মার্চ (রোববার) ঢাকা ও কোলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিকগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন খবরকে শীর্ষ শিরোনাম করা হয়েছে। প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

ঢাকার পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম

  • আরাভ খান গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মধ্যেও এক বছরে দুবার বাংলাদেশে এসেছিলেন-প্রথম আলো
  • শিবচর ট্র্যাজেডি : নিহত ১৭ জনের পরিচয় মিলল-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

  • ‘অন্তরে বিষ’-কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিলেন ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর

  • সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, আটকা হাজারো পর্যটক- ইত্তেফাক
  • ভারত উন্নত যোগাযোগের জন্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বন্দর ব্যবহার করতে পারে : প্রধানমন্ত্রী- নয়াদিগন্ত
  • আরাভ বিতর্কের শেষ নেই-জন্মদিনে গিয়ে যেভাবে খুন পুলিশ কর্মকর্তা এমরান- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

  • বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ১০,০০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী আতঙ্কে- মানবজমিন

কোলকাতার পত্রপত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম

  • জাতভিত্তিক জনগণনায় জোর অখিলেশের,সংসদে থাকবে বিরোধী সমন্বয়ে’: দৈনিক গণশক্তি
  • সব কথা মনে নেই’, ‘যৌন হেনস্তা’ ইস্যুতে পুলিশের কাছে সময় চাইলেন রাহুল, ফুঁসছে কংগ্রেস: সংবাদপ্রতিদিন
  • পত্রিকাটির ভিন্ন শিরোনাম:  এবার অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের নোটিস বিশ্বভারতীর, ২৯ মার্চ হাজিরার নির্দেশ 

বিশ্লেষণের বিষয়
১. দুবাইয়ে আরাভ খানের স্বর্ণ ব্যবসা, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সাকিব আল হাসানের দোকান উদ্বোধনে যোগ দেয়া এসব নিয়ে নানা রকম খবরে তোলপাড় দেশ। কী বলবেন আপনি?
২.‘ইরান-সৌদি চুক্তি ইসরাইলের জন্য অনেক কিছু জটিল করে দিয়েছে’- একথা বলেছেন মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। এই বক্তব্যের আসলে ব্যাখ্যা কী?

ভারত উন্নত যোগাযোগের জন্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের বন্দর ব্যবহার করতে পারে : প্রধানমন্ত্রী- নয়াদিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারত চাইলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বন্দর ব্যবহার করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য রাম মাধব তার সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কে এম শাখাওয়াত মুন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার আঞ্চলিক সংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো ভালো হবে। রাম মাধবের সাক্ষাতকালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব রয়েছে। আগামী দিনেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

‘অন্তরে বিষ’-কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিলেন ফখরুল-দৈনিক যুগান্তর

‘মির্জা ফখরুলের অন্তরে বিষ’—আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, আমার অন্তরে নাকি বিষ! আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না। আমার কথায় তাদের গায়ে আগুন লেগে যায়। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, প্রকৃত পক্ষে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। আওয়ামী লীগ ‘নির্বাচন নির্বাচন’ খেলা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, এবার আওয়ামী লীগের ফাঁদে দেশের জনগণ পা দেবে না। ‘বারেবারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান’—এবার আর সেটা হবে না। আওয়ামী লীগ ভয়ভীতি-ত্রাস ছড়িয়ে দেশের মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। বলেন, দেশে এত টিভি চ্যানেল, কয়টি গণতন্ত্রের কথা বলে, ভিন্নমত তুলে ধরে? সুশীল সমাজের কেউ টক শোতে কথা বলেন না, পত্রিকায় লেখেন না। দেশের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক  আবদুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ। 

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, আটকা হাজারো পর্যটক- ইত্তেফাক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করায় টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট হতে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি। এসব ঘাটসমূহ থেকে পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ৮টি পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে থাকে। 

এদিকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ না যাওয়ায় প্রায় এক হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনেই আটকা পড়েছেন, যারা আজ (রোববার) ফেরার কথা ছিলো। তবে এ নিয়ে পর্যটকদের ভয়ের কিছু নেই বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ ও কেয়ারী ডাইন এন্ড ক্রুজের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল এবং ২ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে গিয়ে প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। 

রোববার (১৮ মার্চ) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি। ফলে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা ও টুরিজম ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ বলেন, হাজারো পর্যটক এখনো দ্বীপে অবস্থান করছেন। আমার কটেজে যেসব পর্যটক রয়েছেন, তারা দুদিনের জন্য কক্ষগুলো ভাড়া নেন। যেহেতু সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটকেরা ফিরে যেতে পারবেন।  

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন যাতায়াত বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বলা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সেন্টমার্টিন যাতায়াত ফের শুরু হবে। দ্বীপে ভ্রমণে গিয়ে আসতে না পারা পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধার

আরাভ বিতর্কের শেষ নেই-জন্মদিনে গিয়ে যেভাবে খুন পুলিশ কর্মকর্তা এমরান- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর একটি ফ্ল্যাটে জন্মদিনের দাওয়াতে গিয়ে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা মামুন এমরান খান। গুম করতে লাশ গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজীপুরের এক জঙ্গলে। সেখানে লাশে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় খুনিরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পুরো ঘটনাই ফাঁস হয়ে যায়। ধরা পড়ে খুনি দলের অন্যতম সদস্য রহমত উল্লাহ। পুলিশ তার কাছ থেকে খুনের আদ্যোপান্ত জানতে পারে। খুনি দলের অপর আটজনের মধ্যে তিনজন নারীও ছিলেন। তিন নারীর একজন দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা রবিউল ওরফে আরাভ খানের স্ত্রী। পরিদর্শক মামুন এমরান খান ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ট্রেনিং স্কুলের কর্মকর্তা। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন মামুন। পরদিন সবুজবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ভাই। এরপর তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে। এদের মধ্যে রহমত উল্লাহ ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় মামুনের লাশ। এরপর বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন মামুনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান। মামুনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজরামপুরে। মামুনের বাবা মৃত আজহার আলী খান। মামুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেন। ২০০৫ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। তিনি শান্তিরক্ষা মিশনেও কাজ করেছেন। অবিবাহিত মামুন বড় ভাইয়ের সঙ্গে সবুজবাগে থাকতেন। চাকরির পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করতেন। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ এ হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেন ডিবির খিলগাঁও জোনাল টিমের তৎকালীন পরিদর্শক শেখ মাহাবুবুর রহমান। চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় মামুনের বন্ধু রহমত উল্লাহ, স্বপন সরকার, দিদার পাঠান, মিজান শেখ, আতিক হাচান ওরফে দিলু শেখ, আলোচিত রবিউল ওরফে আরাভ খান ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া এবং সারোয়ার হোসেনকে। শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন আরাভ খান। ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সবুজবাগ থানায় জিডি হওয়ার পরই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ২০১৮ সালের ১০ জুলাই রহমত উল্লাহকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে স্বপন সরকার, দিদার পাঠান, মিজান শেখ, আতিক হাচান ওরফে দিলু শেখ, রবিউল ওরফে আরাভ খানের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া এবং সারোয়ার হোসেন, মেহেরুন নেছা স্বর্ণা ওরফে আফরিন ওরফে আন্নাফী, ফারিয়া বিনতে মীম ওরফে ফারিয়া আক্তার মীম ওরফে মাইশাকে গ্রেফতার করা হয়। রহমত ও মামুন ক্রাইম ফিকশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করতেন। সেই সুবাদে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব।

মেহেরুন নেছা স্বর্ণা ওরফে আন্নাফীও ক্রাইম ফিকশনে অভিনয় করতেন। সে সময় রহমতের সঙ্গে আন্নাফীরও পরিচয় হয়। এরপর মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে ও ফেসবুকে কথা হতো তাদের। আন্নাফী মোবাইল ফোনে রহমতকে বনানীতে তার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে দাওয়াত দেন। রহমত তার সঙ্গে মামুনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। মামুন ২০১৮ সালের ৮ জুলাই রাত ৮টা ২০ মিনিটে মোটরসাইকেলে করে বনানীর ২ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ির সামনের রাস্তায় যান। সেখানে রহমতের সঙ্গে তার দেখা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে আন্নাফী, কেয়া ও মীম উপস্থিত হন। এ সময় রহমতের সঙ্গে কেয়া ও মীমকে পরিচয় করে দেন আন্নাফী। পরে রহমত বন্ধু বলে মামুনকেও তাদের সঙ্গে পরিচয় করে দেন। ওই সময় রবিউল ওরফে আরাভ একটু দূর থেকে তাদের দেখছিলেন। কেয়া, মীম, রহমত ও মামুনকে সঙ্গে নিয়ে ৫ নম্বর বাড়ির ২/এর ফ্ল্যাটে যান আন্নাফী। বাসায় প্রবেশ করে তারা একটি রুমে যান। কোনো কিছু না দেখে রহমত আন্নাফীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- ‘তোমাদের নাকি বার্থ ডে পার্টি। তারতো কিছু দেখছি না?’ তখন কেয়া বলেন- ‘এভাবে আমাদের প্রতিদিন এখানে বার্থ ডে পার্টি হয়। একটু পরেই দেখতে পাবেন।’ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগে থেকেই বাসার আরেকটি রুমে ঘাপটি মেরে ছিলেন দিদার, আতিক, স্বপন, মিজান ও সারোয়ার। কিছুক্ষণ পরই দিদার, আতিক, স্বপন, মিজান ও সারোয়ার একসঙ্গে এসে আন্নাফী, কেয়া ও মীমদের বলেন- তোরা কারা? এখানে কেন এসেছিস? এ পরিস্থিতি দেখে মামুন তাদের বলেন- আপনারা কারা? তখন দিদার, আতিক, স্বপন, মিজান ও সারোয়ার নিজেদের প্রশাসনের লোক বলে দাবি করেন। এরপর মামুন নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। এটি জানার পর তারা মামুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মামুনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। তাদের সঙ্গে রহমত উল্লাহও যোগ দেন। মেয়েদের সঙ্গে উলঙ্গ ছবি তুলতে স্কচটেপ দিয়ে মামুনের হাত-পা বেঁধে ফেলে। উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করবেন। গামছা দিয়ে মামুনের মুখও বাঁধা হয়। সামনে ও পেছন দিক থেকে তাকে মারতে থাকেন মিজান, দিদার ও আতিক। বেধড়ক মারপিটে এক পর্যায়ে মামুন অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১০টায় কেয়া, আন্নাফী ও মীম বাসা থেকে বের হয়ে নিচে চলে যান। ভোরে তারা নিশ্চিত হন যে- মামুন মারা গেছেন। এরপর রহমত উল্লাহ বলেন- লাশ গুম না করলে তারা সবাই বিপদে পড়ে যাবেন। তখন স্বপন বিষয়টি রবিউল ওরফে আরাভকে ফোনে জানান। দিদার ফোন করে রবিউল ওরফে আরাভকে বড় একটি ট্রলি কিংবা বস্তা আনতে বলেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৬টায় রবিউল ওরফে আরাভ খান দুটি বস্তা ও সাদা একটি কাপড় নিয়ে আসেন। বস্তায় লাশ ভরে ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৩১৫১ নম্বর গাড়ির ব্যাক ডালাতে তোলেন। এরপর গাড়ি নিয়ে তারা গাজীপুরের দিকে রওনা হন। রবিউল ওরফে আরাভ খান মোটরসাইকেলে করে কেয়া, আন্নাফী ও মীমকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরা পর্যন্ত গাড়ির সঙ্গে যান। গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে শিমুলতলা থেকে মিরেরবাজার ঘুরে উলুখোলা থেকে আবদুল্লাহপুর যাওয়ার পথে একটি জঙ্গলে গাড়ি থামায়। এ সময় গাড়ির বনাট তারা খুলে রাখেন। যেন মনে হয় গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে। এরপর লাশ বাঁশঝাড়ের ভিতরে নিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ১০,০০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী আতঙ্কে- মানবজমিন

ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহরে আগ্রাসন শুরু করেছে ইসরাইলি সেনারা। তারা বেপরোয়াভাবে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডও সংঘটিত করছে। এর ফলে ইসরাইলি বসবাসকারী এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত প্রায় ১০,০০০ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী রয়েছেন আতঙ্কে। বিভিন্ন সূত্র আরব নিউজকে নিশ্চিত করেছে যে, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ২৫০ জন ইউনিভার্সিটি ছেড়ে গেছেন। তারা ইসরাইলের ভিতরে তাদের আবাসনে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, জেনিনে আরব আমরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন প্রায় ৫০০০ শিক্ষার্থী। আন-নাজাহ ইউনিভার্সিটিতে ৩০০০, আবু দিসে অবস্থিত জেরুজালেম ইউনিভার্সিটিতে ১১০০ এবং হেব্রন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন প্রায় ১০০০ শিক্ষার্থী। ফিলিস্তিনিদের হয়রানির অন্যতম একটি কারণ হলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিলিস্তিনি ইউনিভার্সিটিগুলো বছরে ৮০ লাখ ডলার পায়। যদি তারা ইউনিভার্সিটি ত্যাগ করে তাহলে এসব প্রতিষ্ঠান লোকসান খাবে এবং ইসরাইলি ইউনিভার্সিটিগুলো লাভবান হবে।

ইসরাইলের ভিতরকার ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি ইউনিভার্সিটিগুলোর জন্য একটি ভাল আয়ের উৎস। তারা ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছে বাসা ভাড়া নেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে তারা অবদান রাখেন। 

ওইসব শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এসব কারণে, এসব ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ওপর ইসরাইলের হয়রানি, অনুসন্ধান, জিজ্ঞাসাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইসরাইলি নিরাপত্তা এজেন্সি শিন বেত শুধু ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মনিটরিং করতে একটি বিশেষ ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জালাল বান্না বলেন, এসব শিক্ষার্থী ভূ-তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এমন সব এলাকায় বসবাস করেন, যা ইসরাইলের জন্য বড় রকমের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের দেখা হয় সন্দেহের চোখে। ওদিকে ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা ইসরাইলের ভিতরে অবস্থিত আরব কলেজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে পড়ার সুবিধা চেয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইলের শিক্ষামন্ত্রী। ইসরাইলের ভিতরে বসবাস করেন ফিলিস্তিনি ইউনিভার্সিটির একজন লেকচারার। তার নাম আমির আসি। তিনি আরব নিউজকে বলেছেন, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা যে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি তা সরিয়ে নিতে রাজি নয় ইসরাইল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন লেকচারার ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরাইলের ভিতরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আরব ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসরাইল, যেখানে আরবিতে পড়াশোনা দেয়া হবে। একই সঙ্গে তাদেরকে নিরাপত্তার অজুহাতে ফিলিস্তিনি ইউনিভার্সিটিতেও পড়তে দেয়া হয় না। 

ওদিকে জেনিনের গভর্নর মেজর জেনারেল আকরাম রাজুব আরব নিউজকে বলেছেন, জেনিন এবং সেখানকার ক্যাম্পে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আগ্রাসন চালাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় জনতার মধ্য বিপর্যয়কর এক প্রভাব পড়ছে। জেনিন এবং সেখানকার শরণার্থী ক্যাম্পে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পবিত্র রমজান শুরুর আগে নিম্ন আয়ের মানুষদের সহায়তার জন্য তিনি ২০০ কুপন বিতরণ করেন,যাতে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে সেরকম ৭০০ কুপন প্রয়োজন। অন্রদিকে জেনিন ও ক্যাম্পকে ইসরাইলি সেনারা তাদের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র বানিয়ে নিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। ব্যবহার করছে ড্রোনের মতো প্রযুক্তিও।

সব কথা মনে নেই’, ‘যৌন হেনস্তা’ ইস্যুতে পুলিশের কাছে সময় চাইলেন রাহুল, ফুঁসছে কংগ্রেস: সংবাদপ্রতিদিন

ভারত জোড়ো যাত্রা চলাকালীন মহিলাদের যৌন হেনস্তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে দিল্লি পুলিশের কাছে সময় চেয়ে নিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। পুলিশকে রাহুল জানিয়েছেন, দীর্ঘ ভারত জোড়ো যাত্রায় বহু মহিলা তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। সব তথ্য মনে নেই। তাই পুলিশের হাতে সব তথ্য তুলে দিতে তাঁর কিছুটা সময় লাগবে।

আসলে ভারত জোড়ো যাত্রার (Bharat Jodo Yatra) শেষে শ্রীনগরে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘ যাত্রাপথে বহু মহিলা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন, যে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের কাছেই যৌন হেনস্তা বা ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশে অভিযোগ করতে পারছেন না তাঁরা। কারণ পুলিশে অভিযোগ করলেই তাঁদের সম্মান নিয়ে টানাটানি হবে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, কংগ্রেস সাংসদকে সেই মন্তব্যের ব্যখ্যা দিতে হবে। ঠিক কারা কারা রাহুলের কাছে এই ধরনের অভিযোগ করেছেন তাঁদের তালিকা দিতে হবে। যাতে ওই মহিলাদের ন্যায়বিচার দেওয়া যায়।

পত্রিকাটির ভিন্ন শিরোনাম:  এবার অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের নোটিস বিশ্বভারতীর, ২৯ মার্চ হাজিরার নির্দেশ 

বিশ্বভারতী ও অর্মত্য সেনের জমিজট যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার নোবেলজয়ীকে উচ্ছেদের নোটিস ধরাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চিঠি পাঠিয়ে আগামী ২৯ মার্চ অমর্ত্য সেন বা তাঁর কোনও প্রতিনিধিকে বিশ্বভারতীর সেন্ট্রাল অ্যাডমিশন বিল্ডিংয়ের কনফারেন্স হলে হাজির হতে বলা হয়েছে বলেই খবর। সেখানেই হবে শুনানি।

জানা গিয়েছে, যদি অমর্ত্য সেন বা তাঁর পক্ষ থেকে কেউ শুনানিতে হাজির না হন সেক্ষেত্রে একতরফা হিসেবে ঘোষিত হবে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ করবে। এমনটা জানানো হয়েছে চিঠিতেও। বিশ্বভারতীর স্পষ্ট বক্তব্য, অমর্ত্য সেনের পিতা আশুতোষ সেনকে ৯৯ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছিল সম্পত্তি। পুরো সম্পত্তি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা জাতীয় সম্পত্তি এবং বিশ্বভারতী স্বত্বাধিকারী মালিক বলে উল্লেখিত। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে পাঠানো চিঠিতে তাঁকে ১৩ ডেসিমেল জমির জবরদখলকারী বলা হয়েছে এবং জমি ফেরত দেওয়ার উপদেশ কথাও বলা হয়েছে।

গোটা বিষয়টি বিশ্বভারতীর প্রবীণ আশ্রমিক থেকে প্রাক্তনী সকলেই কর্তৃপক্ষের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বলে মনে করছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে বিষয়টি বিচারাধীন থাকাকালীন কীভাবে দখলমুক্তের নোটিস, সেই প্রশ্ন উঠছে। অমর্ত্য সেন বর্তমানে বিদেশে। অমর্ত্য সেনের আইনজীবী গোরাচাঁদ চক্রবর্তী জানান, “এখনও পর্যন্ত আমাদের হাতে কোনও চিঠি আসেনি। জমির জবর দখলের কোনও প্রশ্নই নেই। রেকর্ড রয়েছে অমর্ত সেনের পিতা আশুতোষ সেনের নামে। রেকর্ড সংশোধন হলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৯