জুলাই ০৪, ২০১৬ ১২:২৯ Asia/Dhaka

পবিত্র রমজানে শয়তানকে বন্দি রাখা হয়। কিন্তু তাই বলে শয়তানের অনুসারী মানুষ ও জিনেরা তো বসে নেই। সারা বছর ধরে শয়তান দুর্বল ঈমানের অধিকারী মানুষের মনে যে প্রভাব সৃষ্টি করে তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে পবিত্র রমজান মাসে।

শয়তান মানুষের শপথ-করা প্রকাশ্য শত্রু। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য চারদিক থেকে হামলা চালায়। শয়তানের স্পর্ধা এত বেশি যে সে নবী-রাসূলকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে! তার আশা ছিল কিছুক্ষণের জন্য হলেও নবী-রাসূলকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত রাখতে সে সফল হবে চরম বিভ্রান্ত করা সম্ভব না হলেও! কিন্তু মহান নবী-রাসূলরা সদা-সচেতন ও শয়তানের কৌশলগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত বলে শয়তান কখনও তাঁদের বিন্দুমাত্রও প্রভাবিত করতে পারেনি।

আদম ও হাওয়ার ঘটনাটি ছিল দুনিয়ার জীবন শুরুর পূর্ববর্তী অনভিজ্ঞতা-প্রসূত অস্থায়ী বেহেশতের একটি ঘটনা। নির্দিষ্ট ওই গাছের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ পালন করা বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিবও ছিল না। যাই হোক নবী-রাসূল ও ইমামদের বাইরের মুসলমানকে বিভ্রান্ত করা শয়তানের জন্য খুব কঠিন কাজ নয়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এ জন্য আত্মরক্ষার নানা ঢাল সংগ্রহ করা। নামাজ ও রোজা হল এমনই দুই ঢাল।

শয়তান মসজিদগামী কোনো মুসলমানকে মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য নানা ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে। পথে কারো সঙ্গে ধাক্কা লাগানো বা হোঁচট খাওয়ানো, আলসেয়েমি সৃষ্টি করা- এসবই শয়তানের কৌশল হতে পারে। আর যিনি এইসব বাধা কাটিয়ে মসজিদে চলে আসেন তাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে শয়তান বলে: খবরদার মসজিদে মুসল্লিদের প্রথম কাতারে দাঁড়াবে না! সেখানে দাঁড়ালে তোমার মনে অহংকার জাগতে পারে! আর যদি মু'মিন প্রথম কাতারে দাঁড়ান তখন শয়তান বলবে: তুমি তো আর যেইসেই মুসল্লি নও, সব সময় মসজিদে আস এবং আগেভাগে আস বলে এটাই তো তোমার জন্য দাঁড়ানোর সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান! এভাবে শয়তান মুসুল্লিকে প্রথম কাতারে শামিল হওয়ার অজস্র বা বিপুল সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে হয়ে তার মধ্যে অহংকার ঢুকিয়ে তাকে ব্যর্থ করতে চায়।

তাই এটা স্পষ্ট, শয়তান অত্যন্ত বেহায়া ও নাছোড়বান্দা। সে কাউকে খোদার পথের প্রথমেই, কাউকে মাঝখানে ও কাউকে শেষ প্রান্তে বিভ্রান্ত করার জন্য কুমন্ত্রণা দিতেই থাকে। একইভাবে শয়তান কাউকে জীবনের শুরুর দিকে বা যৌবনে, কাউকে মধ্য-বয়সে ও কাউকে বৃদ্ধ বয়সে বিভ্রান্ত করতে পারে। এমনকি মৃত্যুর প্রাক্কালে মুসলমানকে ঈমানহীন করার জন্যও শয়তান নানা কৌশল অবলম্বন করে। অনেক খোদাভীরু ও বড় আলেম এবং এমনকি আল্লাহর ওলি হবার পরও শয়তানের হাতে বিভ্রান্ত হয়ে ঈমান হারানোর নজির রয়েছে। আজাজিল বা ইবলিস নিজেও ছিল বড় ধরনের আবেদ ও সাধক। সে ব্যাপক ইবাদতের সুবাদে জিন হয়েও ফেরেশতার কাতারে উন্নীত হতে পেরেছিল। কিন্তু মানুষের প্রতি হিংসা তাকে অভিশপ্ত শয়তান ও খোদাদ্রোহীতে পরিণত করে।

তাই মৃত্যুর সময় যেন শয়তান আমাদের ঈমানকে ছিনিয়ে নিতে না পারে সে জন্য সদা-সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য বেশি বেশি সৎকর্ম করার পাশাপাশি কুরআন অধ্যয়ন, মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের ওপর বেশি বেশি দরুদ পেশ এবং তাঁদের উসিলা দিয়ে মৃত্যুর সময় ঈমান ঠিক রাখার জন্য সাহায্য চাওয়া, ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন এবং সৎ ও জ্ঞানী আলেমদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। কথায় বলে সব ভালো যার শেষ ভালো তার।

রমজানের রাতগুলোতে দোয়া পাঠ যেন মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রেমালাপ ও প্রেমাস্পদের জন্য নিজেকে সবচেয়ে বিনীত করার আকুল মহড়া। এমনসব রাতে বহু পাপ ও অত্যন্ত কম বা নগণ্য ভালো কাজের কথা স্মরণ করে বলা উচিত:

'হে আল্লাহ! আমরা একদল রহমত-প্রত্যাশী ভিক্ষুক তোমার সম্মান ও মহামর্যাদার উসিলায় তোমার রহমতের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পুণ্য বলতে কিছুই নেই আমাদের। তাই নতজানু ও দরিদ্রদের সঙ্গে চড়েছি এমন এক জাহাজে যা অপেক্ষা করছে তোমার দয়া ও করুণার মহাসাগর-তীরে। অনুমতি চাচ্ছি তোমার যাতে পাড়ি দিতে পারি তোমার দয়া ও রহমতের এই মহাসাগর। তুমি যদি এই সম্মানিত মাসে কেবল তাদেরকেই ক্ষমা কর যারা একনিষ্ঠ ইবাদত তথা রোজা ও নামাজের মাধ্যমে নিজেদের পবিত্র করেছে তাহলে উদাসীন পাপীদের কে রক্ষা করবে যারা ডুবে আছে তাদের পাপের সাগরে? যদি তুমি তোমার অনুগত বান্দাহ ছাড়া অন্যদের করুণা না কর তাহলে হতভাগা অবাধ্যদের কে রক্ষা করবে? যারা সৎকর্ম করেছে কেবল তাদের কাজকেই যদি তুমি কবুল কর তাহলে তাদের কি উপায় হবে যারা পুণ্যহীন বা যাদের সৎকর্ম খুবই নগণ্য?'

'হে আল্লাহ! আমরা অনুতপ্ত পাপী বলেই তুমি আমাদের ক্ষমা কর ও রক্ষা কর দোযখের আগুন থেকে তোমার অপার করুণায়। হে সর্বোচ্চ দাতা ও দয়ালু! তোমার প্রিয় নবী ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি অশেষ দরুদ পাঠানোর উসিলায় ক্ষমা কর আমাদের।'

হে আল্লাহ! আমরা যেন শয়তানের অবিরাম হামলা ও কুমন্ত্রণার বিষয়টিকে হাল্কাভাবে না নেই। এ ব্যাপারে তোমারই সাহায্য চাইছি হে মহাকৌশলী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ!

এবারে পড়া যাক অর্থসহ ২৮ রোজার দোয়া:

الیوم الثّامن والعشرون : اَللّـهُمَّ وَفِّرْ حَظّی فیهِ مِنَ النَّوافِلِ، وَاَکْرِمْنی فیهِ بِاِحْضارِ الْمَسائِلِ، وَقَرِّبْ فیهِ وَسیلَتى اِلَیْکَ مِنْ بَیْنِ الْوَسائِلِ، یا مَنْ لا یَشْغَلُهُ اِلْحـاحُ الْمُلِحّینَ .

হে আল্লাহ! এ দিনে আমাকে নফল এবাদতের পর্যাপ্ত সুযোগ দাও। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত কর। তোমার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্যে সহজ করে দাও। হে পবিত্র সত্ত্বা! যাকে, অনুরোধকারীদের কোন আবেদন নিবেদন, ন্যায়বিচার থেকে টলাতে পারে না। #