'ডেঙ্গু রোধে কোলকাতা পৌরসভার নয়া হাতিয়ার মশাখেকো মশা'
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বই সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, পড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী: প্রথম আলো
- ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: ইত্তেফাক
- তবুও জোটে খালেদা, জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যে সাড়া দেয় নি কোনো দল। ঘর গোছাতেই ব্যস্ত বিএনপি। ২০ দলও ক্ষুব্ধ: বাংলাদেশ প্রতিদিন
- সৌদি আরব পৌঁছেছেন খালেদা-তারেক: মানব জমিন
- সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ শনিবার: আমাদের সময়
- ২৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির নির্দেশ: নয়াদিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- আসিয়ানের ফাঁকে বৈঠক মোদী-ওবামার, পরস্পরের প্রশংসায় দুই নেতা: আনন্দবাজার পত্রিকা
- সিঙ্গুরে কি ফের শিল্পই, ১৪ই গণভোট মমতার: বর্তমান পত্রিকা
- ডেঙ্গু রোধে পুরসভার নয়া হাতিয়ার ‘মশাখেকো’ মশা: সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমে বাংলাদেশ।
বই সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, পড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী। প্রথম আলো এই শিরোনামের খবরে লিখেছে,
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বইপত্র সাজিয়ে রাখার কোনো বস্তু নয়, তোমাদের পড়তে হবে। জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আগামী দিনে তোমাদের মধ্য থেকেই দেশের নেতা-প্রধানমন্ত্রী হবে। কাজেই সেভাবেই নিজেদের তৈরি করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০১৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে দেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত করতে সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবার উদ্যোগেই আমরা এ দেশকে দ্রুতই নিরক্ষরমুক্ত ঘোষণা করতে পারব, যদি সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজ নিজ এলাকার নিরক্ষরদের শিক্ষিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মাধ্যমে আমরা জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছি। সারা বিশ্বে শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কম বলে ছেলেমেয়ে সমতা আনার কথা বলা হয়। আর আমাদের দেশে উল্টো। এখানে মেয়েদের সংখ্যা বেশি বলে এখন ছেলেদের এগিয়ে আনতে হবে।’
দৈনিক ইত্তেফাক ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের খবরে লিখেছে,
বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে। বৃহত্তর বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক মোহম্মদ আশরাফুল কামাল দুই বিচারপতির রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে যে অভিমত দিয়েছিলেন তা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের দেয়া রায়টি প্রকাশ করা হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, বলতে দ্বিধা নেই, ষোড়শ সংশোধনী একটি কালারেবল লেজিসলেশন (কোনো কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা যখন ছদ্ম আবরণে ভিন্ন প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে একটি আইন তৈরি করে), যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লংঘন। এটা সংবিধানের দুটি মূল কাঠামো ৯৪(৪) ও ১৪৭(২) অনুচ্ছেদেরও লংঘন। একইসঙ্গে সংবিধানের ৭(বি) অনুচ্ছেদকেও আঘাত করে। রায়ে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪ কালারেবল, এটি বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হল।
এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে কনিষ্ঠ বিচারপতি মোহম্মদ আশরাফুল কামাল তার অভিমতে বলেছেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসম্মতভাবেই ষোড়শ সংশোধনী প্রণয়ন করেছে। সংসদ কর্তৃক বিচারপতি অপসারণ প্রক্রিয়া সম্বলিত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ বিদ্যমান থাকাকালে বিচার বিভাগের সত্যিকার স্বাধীনতা সমুন্নত থাকবে। কারণ ঐ অনুচ্ছেদটি হলো আমাদের মূল সংবিধানের অংশ তথা সংবিধানের মূল কাঠামো ।
তবুও জোটে খালেদা: জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যে সাড়া দেয় নি কোনো দল। ঘর গোছাতেই ব্যস্ত বিএনপি। ২০ দলও ক্ষুব্ধ
বাংলাদেশ প্রতিদিন এই খবরে লিখেছে, হোঁচট খেল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্য। সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর সাড়া না পেয়ে ২০-দলীয় জোটই এখন ভরসা বিএনপি প্রধানের। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ছাড়া কোনো দলই বেগম জিয়ার চায়ের দাওয়াতে আসে নি। বাম দলগুলো ইতিমধ্যে বিএনপির ঐক্যের ডাকে ‘না’ আসার কথা জানিয়ে দিয়েছে। অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামালের ভূমিকাও অস্পষ্ট। তাদেরও খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কিছুটা হতাশ হলেও ঘর ঘোছানো নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে দলটি। একইভাবে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে লড়তে সেই ২০ দলই ভরসা মনে করছে বিএনপি। রাখা না রাখা ইস্যুতে সমালোচনার ঝড় বইলেও জোটে জামায়াত থাকছে আগের মতোই। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এখন আর মাথা ঘামাচ্ছেন না। এরই মধ্যে দলের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের পর তিনি জেলা পুনর্গঠন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। টানা তিন-চার মাস ঘর গোছানো নিয়েই দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত থাকবে। বেগম জিয়াও চলতি বছরের মধ্যেই দলকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী বছরের মাঝামাঝি দল ও জোটকে নিয়েই রাজপথের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি। তবে সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর ভূমিকায় তিনি কিছুটা হতাশও— জানালেন বিএনপির সিনিয়র এক নেতা। জানা যায়, জোটের শরিক দলগুলোও বিএনপির জাতীয় ঐক্য নিয়ে খুব একটা খুশি নয়। জোটের বৈঠকে বেগম জিয়ার ঐক্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তাদের পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্য নিয়ে বিএনপির একলা চলো নীতির সমালোচনাও করছে তারা। অনেকে বিএনপির ভূমিকা নিয়েও ধোঁয়াশায় রয়েছেন। এটাকি শুধু জঙ্গিবিরোধী ঐক্য না পৃথক নির্বাচনী ঐক্য—তাও স্পষ্ট নয়। শরিক দলের নেতারা বলছেন, এর আগেও যেসব দল বিএনপির ডাকে সাড়া দেয়নি, তাদের পেছনে দৌড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সৌদি আরব পৌঁছেছেন খালেদা-তারেক: মানব জমিন
সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে পৌঁছেন খালেদা জিয়া। সৌদি আরব বিএনপি'র সভাপতি আহমদ আলী মুকিবের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিমানবন্দরে বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। এসময় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্থানিয় প্রশাসন।
বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, ফটোগ্রাফার নুরুদ্দিন ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম। এ সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সৌদিআরব বিএনপির সভাপতি আহমদ আলী মুকিবের সঙ্গে সৌদিআরব বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেদ্দা মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক আজাদ চয়ন, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান তপন, কেফায়েত উল্লাহ কিসমত সহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ৮ই সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় এমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা: জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যা। জানা গেছে, ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
সারা দেশে বিএনপির বিক্ষোভ শনিবার: আমাদের সময় পত্রিকার শিরোনাম এটি।
দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক প্রত্যাহার করার প্রতিবাদে আগামী শনিবার দেশের সব জেলা সদর ও মহানগরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ফখরুল বলেন, শুধু আদালতের রায় বিকৃত করে তার (জিয়াউর রহমান) পদক সরিয়ে ফেলে, মাজার সরিয়ে ফেলতে চায়। তারাই মূলত স্বাধীনতাবিরোধী। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এরা কখনোই ইতিহাসে স্থান পায় না।
তিনি বলেন, অবিলম্বে স্বাধীনতা পদক যথাস্থানে স্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আগামী শনিবার দেশব্যাপী জেলা সদরগুলোতে এবং মহানগরগুলোতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আামির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রমুখ।
গতকাল বুধবার জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক জাতীয় জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদকটি নিয়ে যান।
২৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির নির্দেশ: নয়াদিগন্তসহ প্রায় সব দৈনিকেই এসেছে খবরটি।
বিস্তারিত সংবাদে পত্রিকাটি লিখেছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তবারক হোসেন ও সুব্রত চৌধুরী। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন শ ম রেজাউল করিম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম নাজমুল হক। এ বিষয়ে আইনজীবী তবারক হোসেন বলেন, তিনটি সংগঠনের সদস্যেদের নিয়ে গঠিত ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান ও যথাযথ সম্মান প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৬৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। তবে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ওই প্রজ্ঞাপনকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।
শ্রোতাবন্ধুরা ! ভারতের বাংলা দৈনিকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ বিশেষ তুলে ধরছি এখন।
আসিয়ানের ফাঁকে বৈঠক মোদী-ওবামার, পরস্পরের প্রশংসায় দুই নেতা: আনন্দবাজার পত্রিকার এই শিরোনামে এসেছে-
‘দুই গণতন্ত্র এবং আমাদের যুগের এক দৃষ্টান্তমূলক মৈত্রী’ -এই বৈঠক সম্পর্কে এ কথাই লেখা হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের টুইটারে।
আসিয়ান আয়োজিত শিখর সম্মেলনের ফাঁকে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসল ভারত-আমেরিকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই বৈঠকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রকই। মাত্র দু’বছরের মধ্যে এই নিয়ে আট বার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন মোদী-ওবামা।
লাওসে এই ভারত-মার্কিন শীর্ষ বৈঠকের পর বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ টুইটারে লিখেছেন, অত্যন্ত উষ্ণতা এবং হৃদ্যতার মধ্যে দুই নেতার বৈঠক হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের টুইটারে এই বৈঠক সম্পর্কে আরও লেখা হয়েছে, ‘দুই গণতন্ত্র এবং আমাদের যুগের এক দৃষ্টান্তমূলক মৈত্রী।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বারাক ওবামার কার্যকাল প্রায় শেষ। পর পর দু’টি মেয়াদে ওবামার যে আট বছরের কার্যকাল, তার মধ্যে শেষ দু’টি বছরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীকে পেয়েছেন ওবামা। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ২০১৬-র মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দু’বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে এই নিয়ে অষ্টম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি করলেন। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী এবং ওবামার এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে পারস্পরিক আদানপ্রদান ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে সহযোগিতা যে ভাবে বেড়েছে এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যে নতুন যুগ এসেছে, তার জন্য মোদী প্রশংসা করেন ওবামার। আর ভারতের সংসদে জিএসটি বিল পাশ করিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে মোদী যে বিরাট পদক্ষেপ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা তার প্রশংসা করেছেন।
সিঙ্গুরে কী ফের শিল্পই, ১৪ই গণভোট মমতার: বর্তমান পত্রিকা এই খবরে লিখেছে, প্রসেনজিৎ কোলে ও অরূপ ভট্টাচার্য, কলকাতা ও সিঙ্গুর: সিঙ্গুরের কৃষিজমিতে শিল্প করার ব্যাপারে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ‘গণভোট’ চাইতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাষিদের জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের পর ওই মাটিতেই ফের শিল্প গড়ে তোলার কথা ভাবছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরদিনই চাষিদের জমি ফেরত দেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও বুধবার আচমকাই বিদ্যুতের সাবস্টেশন সরানোর কাজ বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশ এই ভাবনাই উসকে দিয়েছে ইচ্ছুক ও অনিচ্ছুক চাষিদের মনে। এমনকী মমতার শিল্প করার চিন্তাভাবনার কথা এদিন ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুও।
বিদ্যুৎমন্ত্রীর নির্দেশে এদিন সকাল থেকে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় টাটাদের প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ সাবস্টেশন সরানোর কাজ। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, খবর পেয়েছি মুখ্যমন্ত্রী ওখানে শিল্পায়ন নিয়ে এলাকাবাসীর মতামত নেবেন। তাই যদি শিল্প হয়, ফের বিদ্যুৎ লাগবে। তখন নতুন করে সাবস্টেশন তৈরি করতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। যা সিদ্ধান্ত হবে, তা মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ সফর সেরে ফিরে এলেই হবে। আজ, বৃহস্পতিবার শোভনদেববাবু সিঙ্গুরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে, শিল্প করা নিয়ে গণভোট চাওয়া হলে তার পক্ষেই ইচ্ছুক ও অনিচ্ছুকদের একটা বড় অংশ রায় দেবেন বলে এদিন জানিয়েছেন চাষিরা।
বুধবার রুটিনমাফিক সাফাই ও জমি জরিপ করে প্লটিংয়ের কাজের পাশাপাশি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর সঙ্গে কৃষি, উদ্যানপালন দপ্তর ও কৃষিবিজ্ঞানীদের একটি দল দুপুরে টাটাদের প্রকল্প এলাকায় আসেন। তাঁরা প্রকল্প এলাকার ভিতরে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করেন। এলাকা ঘুরে দেখার পর পূর্ণেন্দুবাবু বলেন, এই মুহূর্তে কতটা জমি চাষযোগ্য হিসাবে পাওয়া যেতে পারে, সেই সম্পর্কে একটা ধারণা নেওয়ার জন্যই আমি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি। চাষিদের একটি অংশ ফের শিল্পের দাবি তুলছেন, তা নিয়ে সরকারের ভাবনা কী জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানুষের মতামত না নিয়ে কোনও কাজের সিদ্ধান্ত নেন না। তাই সরকার যদি কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী চাষিদের সঙ্গে কথা বলার পরেই তা নেবেন। শিল্প সম্ভাবনার জন্যই বিদ্যুৎ সাবস্টেশন সরানোর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে যা বলার মুখ্যমন্ত্রী বলবেন। তবে আমরা বরাবরই কৃষি ও শিল্পের সহাবস্থানের কথা বলেছি, আজও তাই বলছি। ১৪ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে আসার পর সবার সমস্ত বিভ্রান্তি দূর করবেন।
ডেঙ্গু রোধে পুরসভার নয়া হাতিয়ার ‘মশাখেকো’ মশা: দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনে এ বিষয়ে লেখা হয়েছে, ডেঙ্গুর মশা নিধনে এবার অসাধ্য সাধন করার লক্ষ্যে কলকাতা পুরসভা৷ কীভাবে? অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো করে৷ এবার ‘মশাখেকো’ মশাকেই অস্ত্র বানিয়ে এডিস মশার লার্ভার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চিন্তাভাবনা করছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ৷ এই অসাধ্য সাধন করা গেলে কলকাতা থেকে নির্মূল হতে পারে ডেঙ্গু!
‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ নামে এই বিরল প্রজাতির এক মশার লার্ভার সন্ধান মিলেছে কলকাতার অন্দরেই৷ যার পরিচয় ‘বন্ধু মশা’৷ সোমবার রাজভবনে ডেঙ্গুর মশা নিয়ে সচেতনতা অভিযানে গিয়ে এই মশার লার্ভার সন্ধান পান স্বাস্থ্য বিভাগের পতঙ্গবিদরা৷ রাজভবনের ন’নম্বর গেটের বাঁদিকের বাঁশঝাড়ে এই মশার লার্ভার উপস্থিতি লক্ষ্য করেন কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস৷ তিনিই মেয়র পারিষদকে বিষয়টি জানান৷ এডিস মশার লার্ভাও ছিল সেখানে৷ শুধুমাত্র ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’-এর প্রভাবে বাড়তে পারেনি ডেঙ্গু৷
এদিন ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভাকে এডিস মশার লার্ভা থাকা পাত্রে ছাড়া হয়৷ দেখা যায় কয়েক মুহূর্তে এডিস মশার লার্ভা খেয়ে সাফ করে দিয়েছে ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার লার্ভা৷ এরপরই সিদ্ধান্ত হয় ‘টক্সোরিঙ্কাইটিস’ মশার কিছু লার্ভা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হবে পুরসভার মশা গবেষণাগারে৷ এই বিষয়ে পুরসভার পতঙ্গবিদ দেবাশিসবাবু জানান, “টক্সোরিঙ্কাইটিস মশার লার্ভা গবেষণাগারে তৈরি করা যায় না৷ এরা মানুষকে কামড়ায় না৷ এদের প্রবোসিস ৯০ ডিগ্রি কোণে নিচের দিকে থাকে৷ কোনও রক্ত না খেয়েই এই লার্ভা পরিপুষ্ট হতে পারে৷ বদলে অন্য মশার লার্ভা খায় এরা৷”
তো পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসর আজ এ পর্যন্তই। কথা হবে আবারও পরবর্তী আসরে।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৮