রংধনু আসরের গল্প: হীরার আংটি
রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছ যে, ‘সত্য কখনো চাপা থাকে না। একদিন না একদিন তা প্রকাশ হবেই।’ এ কথাগুলো জানার পরও একশ্রেণির মানুষ স্বার্থের লোভে সত্যকে গোপন রাখতে চায়। তবে তাদের শেষ পরিণতি ভালো হয় না।
সত্য গোপন করার শাস্তি যেমন তারা ভোগ করে তেমনি মানুষের সামনে তাদেরকে লজ্জিত হতে হয়। এ সম্পর্কে রংধনুর আসরে একটি ইরানি গল্প প্রচার করেছি। ‘হীরার আংটি’ নামের গল্পটি লিখেছেন মোহাম্মদ মিরকিওনি।
অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখনকার দিনে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা এখনকার মতো এত সহজ ছিল না। কারও কাছে কোনো খবর পাঠাতে কিংবা কারও খোঁজখবর নিতে হলে সশরীরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সে সময়কার এক গ্রাম্য লোক শহরে বসবাসরত তার ছেলে খোঁজ-খবর নিতে একদিন যাত্রা শুরু করল। ভ্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে সে একটি থলেতে প্রয়োজনীয় টাকা নিল এবং তার জামার ভেতরের নিরাপদ একটি জায়গায় রাখল।
এরপর পথ চলতে চলতে সে একটি নদীর কিনারে এসে পৌঁছল। এবার সে নদীর অপর পারে পৌঁছবার জন্য এদিক-ওদিক তাকিয়ে নৌকা খুঁজতে লাগল। কিছু সময় পর সে একটি নৌকা আসতে দেখে মাঝিকে হাতের ইশারায় ডাকল। মাঝি জিজ্ঞেস করল: কোথায় যাবে?
লোকটি তার গন্তব্যের কথা জানাল এবং নৌকায় চড়ে বসল। এরপর সে মাঝির সঙ্গে গল্প জুড়ে দিল। এমন সময় হঠাৎ একটি চিৎকারের শব্দ শুনে দুজনেই চমকে উঠল। তারা দেখল, একজন অসুস্থ মানুষ কান্নাকাটি করছে এবং বলছে- ‘আমি পঙ্গু অসহায়, আমাকে তোমাদের সঙ্গে শহরে নিয়ে চলো।’
অসুস্থ লোকটির দুঃখের কথা শুনে মাঝির দয়া হলো এবং তাকেও তাদের সঙ্গে নিয়ে চলল।
একে তো গরম, তার ওপর দীর্ঘ যাত্রাপথের কারণে গ্রাম্য লোকটি এক সময় ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম থেকে জেগে দেখল যে, তারা শহরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। লোকটি খোদার শুকরিয়া আদায় করল এবং মাঝিকে বলল, ভাড়া কত দিতে হবে?
মাঝি বলল: দশ দিনার, তবে যদি আরও কিছু বখশিশ দেন সেটা আপনার মর্জি।
লোকটি এরপর জামার ভেতরে হাত দিতেই থ হয়ে গেল। কারণ সব জায়গায় খুঁজেও টাকার থলেটা পাওয়া গেল না। লোকটির এ অবস্থা দেখে মাঝি জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যাপার অমন করছ কেন? তাড়াতাড়ি আমার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দাও।’
জবাবে লোকটি বলল: দিনারের থলেটি খুঁজে পাচ্ছি না, তুমি কি ওটা দেখেছো?
মাঝি বিরক্ত হয়ে বলল: ‘এ আবার কেমন কথা? তুমি তোমার দিনারের থলিটা আমার কাছে জমা রাখনি। তাহলে এসবের মানে কী?’
এ কথা শুনে গ্রাম্য লোকটা একবার মাঝির দিকে, আরেকবার অসুস্থ লোকটার দিকে তাকাল। তারপর উত্তেজিত কণ্ঠে বলল: ‘দিনারের থলেটা তোমাদের দু’জনের মধ্যে কেউ একজন নিয়েছো। শিগগির বের করো।’
অসুস্থ লোকটি একথা শুনে বিরক্তির সাথে বলল: ‘কী!! শেষ পর্যন্ত তুমি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করলে!! ঠিক আছে, তুমি আমাকে তল্লাশি করে দেখতে পারো।’
লোকটি অসুস্থ ব্যক্তির শরীরে তল্লাশি চালিয়ে দিনারের থলে না পেয়ে মাঝির উদ্দেশে বলল: ‘তুমিই তাহলে থলেটি নিয়েছো। শিগগিরই বের করো, নইলে তোমার বারোটা বাজিয়ে দেব।’
এ কথা শুনে মাঝি রেগেমেগে নদীর তীরে বৈঠা নিক্ষেপ করল এবং বলতে লাগল: ‘আমি নির্দোষ! তোমাকে ভালো মানুষ মনে করে দয়া দেখিয়ে এ পর্যন্ত বয়ে নিয়ে এসেছি। আর এখন উল্টো আমাকে চোর বানাচ্ছ! তুমি এক্ষুণি আমার সামনে থেকে বিদায় হও।’
লোকটি বলল; ‘কী বললে, আমি বিদায় হব! আমি আমার ছেলের জন্য যে টাকা নিয়ে এসেছি তা না নিয়েই চলে যেতে বলছ তুমি?’
মাঝি বলল: ‘ও, এই কথা!! তবে আমাকেও তল্লাশী কর, দেখ আমি নিয়েছি কিনা।‘
এসময় অসুস্থ লোকটি দুজনের কথার মাঝখানে এসে বলল: ‘তুমি কী এমন নবাব হয়ে গেছ যে আমাদের সবাইকে চোর সাব্যস্ত করছ?’
লোকটি তখন বলল: ‘ও, এই কথা!! একটু আগে তো কান্নাকাটি করছিলে আর এখন তোতা পাখির মতো বুলি আওড়াচ্ছ!
অসুস্থ লোকটি এবার মাঝি ও লোকটির দিকে তাকাল এবং কাল বিলম্ব না করে দ্রুত ওই স্থান ছেড়ে চলে গেল।
মাঝি এবার লোকটিকে বলল: ‘এবার নৌকা তল্লাশি কর, তারপর আমাকে। আর এতেও যদি তোমার মন না ভরে তবে তুমি আমাকেও নিয়ে চলো।‘
মাঝির কথার কোনো জবাব দিল না লোকটি। টাকা হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে নিরবে নৌকা ত্যাগ করল এবং তার ছেলের উদ্দেশে রওনা দিল।
বাবার বিষণ্ন অবস্থা দেখে ছেলে এর কারণ জানতে চাইল। তখন সে সবকিছু খুলে বলল। ছেলে বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবল। এরপর বলল: ‘আমি বুঝতে পেরেছি যে, এ কাজটি ওই দু’জনই করেছে এবং থলের দিনার দু’জনে ভাগ করে নিয়েছে অর্থাৎ তারা দু’জনই পূর্বপরিচিত। কিন্তু বুঝলাম না যে, তারা এ ধরনের কাজ করে ধরার পড়েও পুনরায় কেন তা করে?’
ছেলে এবার প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলল: ‘বাবা, তুমি কি মাঝিটিকে এখন দেখলে চিনতে পারবে?’
জবাবে লোকটি বলল: ‘যদি আমার স্মৃতি লোপ না পেয়ে থাকে তবে চিনতে অসুবিধা হবে না।’
এরপর ব্যাপারটা সুরাহা করতে পিতা-পুত্র মিলে গেল কাজীর দরবারে। বিজ্ঞ কাজী সব ঘটনা জেগে বলল আগামীকাল আমি সব মাঝিকে ডেকে পাঠাব এবং ওই মাঝিতে শণাক্ত করতে পারলে তদন্ত শুরু করব। খোদা চাইলে সত্যের জয় হবেই।
পরদিন সকাল সকাল পিতা-পুত্র একসঙ্গে কাজীর দরবারে উপস্থিত হল এবং দেখতে পেল শহরের সব মাঝি কাজীর দরবারে উপস্থিত। ভিড়ের মধ্য থেকে লোকটি ওই মাঝিকে চিনতে পারল এবং হাত ইশারায় কাজীকে দেখিয়ে দিল।
কাজী ওই মাঝিকে রেখে বাকিদের চলে যেতে বলল। সবাই চলে গেলে কাজী মাঝিকে বলল: গতকাল তুমি এই লোকটাকে তোমার নৌকায় করে শহরে নিয়ে এসেছিলে-তাই না?
মাঝি স্বীকার করলে কাজী বললেন, দিনারভর্তি থলেটা কোথায় লুকিয়ে রেখেছ?
কাজীর এ কথা শুনে মাঝি কান্না জুড়ে দিল এবং ফরিয়াদ করে বলল: ‘হুজুর! আমি ওই থলের ব্যাপারে কিভাবে জানব? আমার তো অনেক ক্ষতি হয়েছে- এই বেচারাকে ভাড়া ছাড়াই নৌকায় বয়ে নিয়ে এসে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ- হুজুর।’
মাঝির কথা শুনে কাজী কিছুক্ষণ চিন্তার সাগরে ডুব দিলেন। এরপর মাঝিকে বললেন, ‘এই লোকটা এক হাজার দিনার হারিয়েছে তাতেও তার এত দুঃখ হতো না যদি না থলের ভিতর একটি হীরার আংটি থাকত। কারণ আমি জানি তার ওই হীরার আংটিটি ছিল মহামূল্যবান।’
এ কথা শুনে মাঝি কী করবে ভেবে আকুল হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর বলল: “এতো অনেক মহা বিপদে পড়লাম। একেতো এক থলে দিনার ছিল তার ওপর আবার হীরার আংটি! হে খোদা, রক্ষা কর।”
কাজী তার কথায় বিচলিত না হয়ে বললেন, “যেটা বলেছি, ওটাই ঠিক! যদি তুমি তোমার সম্মান খোয়াতে না চাও এবং শেষে লজ্জা পেতে না চাও, তাহলে তাড়াতাড়ি ওই এক হাজার দিনার আর হীরার আংটিটি নিয়ে এসো। নইলে এ পর্যন্ত তুমি যা দেখেছ তাই হবে তোমার শেষ দেখা- এমন ব্যবস্থাই করে দেব।”
এ কথা শুনে মাঝি মাথা হেঁট করে আস্তে আস্তে কাজীর দরবার ত্যাগ করল এবং পিতা-পুত্র কাজীর সাথে কৌতূহলের সাথে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগল। পিতা বলল: “কাজী সাহেব, ওই হীরার আংটি সম্বন্ধে তো আমি কিছুই জানি না।”
কাজী বললেন, “আমি যা করেছি, ঠিকই করেছি। তোমরা ধৈর্য ধরে দেখ প্রতারকদের ধরতে আমি কী কৌশল নিয়েছি। এখন তোমরা বাড়ি গিয়ে নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমাও আর এটা জেনে রেখ যে, যদি ওই লোকটিই চোর হয় তাহলে সে ধরা পড়বেই।”
কাজীর আশ্বাস পেয়ে পিতা-পুত্র দরবার ত্যাগ করল। এ ঘটনার কয়েকদিন পরের কথা। একদিন কাজীর কর্মচারি এসে তাদেরকে তাঁর দরবারে যাওয়ার কথা জানাল। এ খবর শুনে পিতা-পুত্র খুশিতে ডগমগ হয়ে দ্রুত কাজীর দরবারে হাজির হল। তারা দেখতে পেল, সেই মাঝিই কাজীর দরবারে কান্নাকাটি করছে। তারা ভাবল, “নিশ্চয়ই কাজীর হুকুমে সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে।”
কাজী ওই লোক ও তার ছেলেকে দরবারে দেখে কিছুটা আনন্দিত হলেন এবং জানালেন যে, চোরকে পাওয়া গেল। এরপর মাঝিকে উদ্দেশ করে বললেন, “আচ্ছা, এবার বলো কে চুরি করেছে এবং সেই দিনারের থলেইবা কোথায়?”
উত্তরে মাঝি বলল, “কাজী সাহেব, যে লোকটি পূর্বে অসুস্থতার ভান করেছিল, টাকার থলেটি সে-ই সরিয়েছে। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি যে, আমি এ কাজ করি নাই। তারপরও আমার বিবেকের তাড়নায় আপনাকে সব জানিয়েছি।”
কাজী বললেন, “ঠিক আছে, আরও বিস্তারিতভাবে ঘটনাটা বলো। কারণ তোমার বক্তব্যে আমি আশ্বস্ত হতে পারিনি। এবার বলো যে, সেই অসুস্থ লোকটি কিভাবে নৌকায় বসে এই লোকের কাছ থেকে দিনারের থলে সরিয়েছে এবং কেন তুমি তখন লোকটিকে তার থলে ব্যাপারে সতর্ক করনি।”
মাঝি বলল, “আমরা যখন নৌকায় করে যাচ্ছিলাম, মাঝপথে লোকটি ঘুমিয়ে পড়ল। যখন সে গভীর ঘুমে মগ্ন, তখনই সেই অসুস্থ লোকটি তার কাছে গিয়ে তার আস্তিনের ভেতর থেকে থলেটা নিয়ে নিজের কাছে লুকিয়ে রাখল। কিছুদূর যাওয়ার পর নদীর তীরে ঝুড়িসহ এক ব্যক্তিকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। লোকটি ইশারা করাতে নৌকা তীরে ভেড়ালাম। আর তখনই ওই অসুস্থ লোকটি থলে ভর্তি দিনারটি ওই ঝুড়িতে নিক্ষেপ করল। এসময় আমি প্রতিবাদ করলে তারা দুজন মিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিল এবং এরপর তারা থলেটি নিয়ে চলে গেল।”
কাজী ঘটনা শুনে বললেন, তোমার মাধ্যমে তাহলে প্রকৃত চোরের খোঁজ পাওয়া গেল। কিন্তু তুমিও নির্দোষ নও কারণ তুমি পূর্বে তথ্য গোপন করেছিলে। এখন তোমার মুক্তির একটা উপায় আছে তার তা হলো- যদি চোরদের ধরিয়ে দাও।
মাঝি এ কথায় আনন্দে গদগদ হয়ে ওদের ঠিকানা কাজীর হাতে দিয়ে দিল। এরপর কাজী ঠিকানাটা পাইক-পেয়াদাদের কাছে দিয়ে চোর দুটিকে ধরে আসতে বললেন। এসময় মাঝি চলে যেতে চাইল কাজী বারণ করলেন। কিছুক্ষণ পর চোরদের নিয়ে কাজীর দরবারে হাজির করল পাইক-পেয়াদারা। তারা দরবারে মাঝিকে দেখে চিৎকার করে বলতে লাগল, “এটাই কি বন্ধুত্বের পরিচয়? আমরা এত বছর ধরে একসাথে কাজ করছি আর তুই কিনা আমাদেরকে কাজীর কাছে ধরিয়ে দিলি? আগে যদি জানতাম তুই এই কাজ করবি তাহলে আগেই তোকে মেরে ফেলতাম।“
কাজী তাদের থামার নির্দেশ দিয়ে বললেন, “গোলমাল করো না। এখন বলো, মাঝির সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক কী? সে কেন তোমাদের ধরিয়ে দিল।”
অসুস্থতার ভান করা লোকটি বলল, “কাজী সাহেব, মাঝিটি আমাদের কাছে এসে জানতে চেয়েছিল যে, আমরা হীরার আংটি কোথায় লুকিয়েছি? বললাম, এ রকম তো কোনো আংটি থলেতে ছিল না; যা ছিল তা হল এক হাজার দিনার। সে এরপর অপর সঙ্গীকে ডাকল এবং তার সাথেও হীরার আংটির প্রসঙ্গ তুলে হৈ চৈ শুরু করেছিল। কিন্তু আমরা দুজনেই হীরার আংটির কোনো খোঁজ পেলাম না। সে তখন তার কাছ থেকে সরে যেতে বলল এবং এখানে এসে আমাদের বিরুদ্ধে দিনার আত্মসাতের অভিযোগ করল।”
কাজী এ পর্যন্ত ঘটনা শোনার বললেন, “তাহলে এই মাঝিই প্রকৃত চোর!”
মাঝি তখন ধরার পড়ার ভয়ে চিৎকার করে বলল: “কাজী সাহেব, আমিই এদেরকে ধরিয়ে দিলাম এবং দিনার ও হীরার আংটির সন্ধান দিলাম আর আপনি আমাকেই দোষী করছেন!”
কাজী এ কথা শুনে মুচকি হেসে বললেন, “এখন পর্যন্ত আমি যে হীরার আংটির কথা বলেছি সেটা আসলে ওই থলের ভেতর ছিল না। আমি আসলে তোমাদের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করতে চেয়েছিলাম। হীরার আংটি নিয়ে তোমরা একে অন্যকে দোষারোপ করায় প্রকৃত সত্যটা বেরিয়ে এসেছে। এটা ছিল আমার কৌশল মাত্র।”
অসুস্থতার ভানকারী লোকটা এবার বলল, “কাজী সাহেব, আমাদের বিপথে নেয়ার নাটের গুরু এই মাঝি।”
কাজী বললেন, “তাহলে তোমরা স্বীকার করছ যে, তোমরা দিনার ভর্তি থলেটা হাতিয়েছ।”
একথা শুনে তারা দুজনই মাথা হেঁট করল। এরপর ফ্যাকাশে মুখে বলল, “ হ্যাঁ, কাজী সাহেব আমরাই থলেটা গায়েব করেছি।”
কাজী জানতে চাইলেন, কীভাবে গায়েব করেছে?
অসুস্থতার ভানকারী লোকটা বলল, “আমরা দীর্ঘকাল ধরে এ কাজে রয়েছি। যখন কোনো অপরিচিত লোক আমাদের নৌকায় উঠত, তখন আমরা তার কাছ থেকে ধনদৌলত কৌশলে হাতিয়ে নিতাম এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করতাম। এই লোকটির বেলায়ও তা-ই করেছি।”
দোষ স্বীকার করার পর কাজী দিনারগুলো ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং প্রতারকদের শাস্তি ঘোষণা করলেন।
এ গল্প থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মেঘের আড়াল থেকে সূর্য যেমন এক সময় বের হয়ে আসে তেমনি প্রকৃত সত্য একদিন না একদিন সবার সামনে প্রকাশিত হবেই।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭